জসিম উদ্দিন টিপু : টেকনাফে গত সপ্তাহের টানা অতিবৃষ্টিতে শাক-সবজি জাতীয় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে আগাম সবজি চাষীরা হতাশ হয়ে পড়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস পুরো উপজেলার সঠিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করতে না পারলেও এই ক্ষতি কোটি টাকার উপরে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার শস্য উৎপাদন আধার হিসেবে খ্যাত হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ সদর ও বাহারছড়ায় গত সপ্তাহের টানা ভারী বৃষ্টিপাতে মূলা, বরবটি, বেগুন, পটল, করলা, ঝিঙ্গা, শসা, ঢেড়ঁশ, মিষ্টি কুমড়া, লাউসহ নানাবিধ শাক-সবজির চাষাবাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। হোয়াইক্যং ইউনিয়নের রইক্ষ্যংয়ে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ১৫ হেক্টর জমির মূলা ও ১০ হেক্টর জমির বরবটি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক আব্দুল জাব্বার, ফজল কাদের ও আব্দুল বাহাদুরসহ বেশ কয়েকজন এই তথ্য জানান। আমাদের ইউনিয়ন যেহেতু কৃষি নির্ভর তাই এই ইউনিয়নে এই ক্ষতির পরিমাণ বেশী হলেও পুরো উপজেলায় অন্তত দেড় থেকে দুই কোটি টাকার শাক-সবজি এবং ফল-ফলাদি চাষাবাদের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পচন ধরেছে ক্ষেতে। প্রতি ৪০শতক জমিতে মূলা চাষে খরচ পড়ে ৭০-৮০ হাজার টাকা। তার বিপরীতে ফলন দেয় ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। অন্যদিকে বরবটি চাষে প্রতি ৪০ শতকে খরচ পড়ে ১০হাজার টাকা। এতে ফলন দেয় প্রায় ১লক্ষ টাকা। সেই হিসেবে গেল ভারী বর্ষণে টেকনাফে মূলা, বরবটি ও শসা ক্ষেতে কৃষকের কোটি টাকার উর্ধ্বে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কৃষানী সকিনা খাতুন, রাজিয়া বেগম জানান, লাভের আশায় ৪০শতক ও ৮০শতক জমিতে মূলা চাষ করে বৃষ্টির কারণে তা একেবারেই নষ্ট হয়েছে। এতে তারা ৩লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানান। এছাড়া কৃষক আব্দুল জাব্বার, আবছার, জাফর আলম, খলিল আহমদ, বদি আলম, ইব্রাহীম ও জুহুরা খাতুনসহ শত শত চাষী গেল ভারী বর্ষণের কারণে আগাম সবজি ক্ষেত করে লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। তারা কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ, বিনাসুদে ঋণ ও শস্যা বীমার দাবী জানিয়েছেন।
স্থানীয় কীটনাশক ও খুচরা সার বিক্রেতা মোঃ ছিদ্দিক জানান,কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে রইক্ষ্যং এলাকার ১৫ হেক্টরের বেশী মূলা, ১০ হেক্টর বরবটি ও ৫ হেক্টর শসা ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এতে কৃষকরা বেশী আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।
হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ও বিনা সুদে ঋণ ব্যবস্থার দাবী জানাচ্ছি।
এদিকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফিউল আলম জানান,বৃষ্টিতে ফসলের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে আমরা এখনো ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করতে পারেনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান,অতিবৃষ্টিতে টেকনাফে আমন ধানের জন্য ভাল হলেও পাতা জাতীয় সবজির জন্য বেশ ক্ষতি হয়েছে। এতে আগাম সবজি চাষীরা বড় বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।#
