অনুসন্ধানী প্রতিবেদন : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডির) অর্থায়নে ১ কোটি ২ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকার অর্থমূল্যে নির্মিতব্য টেকনাফের হ্নীলা আলি আকবর পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টির নির্মাণ কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
গত জানুয়ারী মাসে শামীম কন্সট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে টেকনাফ এলজিইডি থেকে কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হয়। কিন্তু শামীম কন্সট্রাকশন কাজটি না করে সাবকন্টাক্টে কাজটি বিক্রি করে দেয় স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে। ওই ব্যক্তি আবার টেকনাফ উপজেলা একটি সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।
এছাড়া ভবণটি নির্মাণে আরো যেসব গুরুত্বর অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে সেগুলি হচ্ছে নির্মাণ কাজে মানসম্মত পাথর ব্যবহার না করে স্থানীয় পাহাড়ী পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। পাহাড়ী পাথর ব্যবহারের ফলে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি ভবনটি যথাযথ টেকসই হবে না বলে মতামত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞগন।
মোটা বালু ব্যবহার না করে স্থানীয় পালংখালীর বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারী স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে ২.৫ এমএম বালু ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও স্থানীয় বালুর পরিমাপ হচ্ছে .৯৮ এমএম।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সপ্তাহখানেক আগে সরেজমিন পরিদর্শনে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। নির্মাণ কাজের স্থলে সেসব নি¤œমানের পাহাড়ী পাথর ও বালুর স্তুপ দেখা গেছে।
এমনকি স্কুল ভবণটির বেইজের কাজ চলাকালীন টেকনাফ এলজিইডি অফিসের কোন প্রকৌশলী নির্মাণ কাজের তদারকি করতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকৌশলীর বদলে সেদিন অফিসের দুজন কর্মচারীকে সেখানে পাঠানো হয়েছিল।
এতসব অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে এ প্রতিবেদকের কথা হয়েছে শামীম কন্সট্রাকশন এর স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান ও টেকনাফ উপজেলা প্রকৌশলী মো. আনোয়ারের সাথে। তারা দুজনেই কথাই ছিল একই সুর।

তবে ঠিকাদার মিজানুর রহমান সাব কন্টাক্টে কাজ বিক্রি করে দেয়ার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
তবে নি¤œ মানের পাথর ও বালু ব্যবহারের ব্যাপারে তিনি বলেন পাথর আর বালু যেই স্থানের হোক না কেন তা যদি মানসম্মত হয় তাহলে কোন সমস্যা নেই।
আবার উপজেলা প্রকৌশলী মো. আনোয়ার একই সুরে কথা বলেছেন। তিনিও বলেন পাহাড়ী পাথর হোক আর যেখানকার হবে হোক তা মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে এলজিইডির কোন আপত্তি নেই। বালুর ক্ষেত্রেও তার একই কথা। আর সাব কন্টাক্ট এর ব্যাপারে তিনি জানান, সিডিউলে কোথাও লেখা নেই ঠিকাদার সাব কন্টাক্ট দিতে পারবেন না। তাই কাজ যে করবে করুক তাতে কোন সমস্যা নেই। এলজিইডি কাজটি বুঝে পেলে হলো।

এদিকে স্কুল ভবনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবন নির্মাণে অনিয়মে অসন্তোষ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে। তবে সাব কন্টাক্টর স্থানীয় এবং প্রভাবশালী হওয়ায় এব্যাপারে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে নারাজ।
এব্যাপারে সরেজমিন পরিদর্শনে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী করেছেন তারা।

শুধু এই স্কুল ভবনটিই নয় বর্তমান উপজেলা প্রকৌশলী টেকনাফে যোগদানের পর এই দপ্তরের আরো বেশ কয়েকটি কাজে অনিয়ম দূনীতির অভিযোগ ও প্রমান পাওয়া গেছে। যা এই প্রতিবেদকের হাতে সংরক্ষিত আছে। যা ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হবে।
এদিকে প্রকৌশলীকে বক্তব্যের জন্য ফোন করার পর সেই সাব-ঠিকাদার সরকারী কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে ফোনে হুমকির সুরে নানা ধরনের কথা বলেন। (ফোনকল রেকর্ড রয়েছে)
এব্যাপারে বক্তব্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডির) কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অন্য কাউকে দিয়ে কাজ করালেও দায়বদ্ধ থাকবে ওয়ার্কঅর্ডার পাওয়া প্রতিষ্ঠান। তবে সরকারী কর্মকর্তা সরাসরি ঠিকাদারী কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন না বলে জানান তিনি।
স্থানীয় পাহাড়ী পাথর ও বালু ব্যবহৃত হলে তা ল্যাবরেটরিতে পরিক্ষা করে মান যাছাই করতে হবে।
অনিয়ম দুর্নীতি হয়ে থাকলে তিনি ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাইফ জানান, চাকুরীবিধি অনুযায়ী কোন সরকারী কর্মকর্তা ঠিকাদারী কাজের সাথে জড়িত হতে পারবেন না।
