মোঃ জাফর আলম চৌধুরী, কক্সবাজার ॥
জঙ্গী মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে, রাজনীতিতে ‘একবার রাজাকার-একবার মুক্তিযাদ্ধার সরকার”- এই মিউজিক্যাল চেয়ারের খেলা বন্ধ করতে হবে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ কক্সবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসাবে ২২ এপ্রিল বিকাল ৪:০০টায় জেলা জাসদ কার্যালয়ের সামনে জেলা জাসদ সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল এর সভাপতি অনুষ্ঠিত মানব বন্ধনোত্তর পথসভায় বক্তরা এসব কথা বলেন।
জেলা জাসদের মানব বন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা জাসদ সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন মাসু, জাতীয় যুব জোট কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পূর্ণবাসন সম্পাদক ও জেলা সভাপতি রমজান আলী সিকদার। মানব বন্ধনে উপস্থিত ছিলেন- জেলা জাসদের সহ সম্পাদক এডভোকেট রফিক উদ্দিন চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক ফরিদুল আলম, জাসদ নেতা মোঃ জাকারিয়া, দেবব্রত সেন দেবু, বিপ্লব বড়–য়া, পরিতোষ বড়–য়া, নুর মোহাম্মদ, জাতীয় যুব জোট কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা সাধারণ সম্পাদক অজিত কুমার দাশ হিমু, শ্রমিক জোট সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ দাশ, মীর মোশাররফ হোসেন, মোঃ আবু তৈয়ব, জাতীয় যুব জোট কক্্সবাজার জেলার অর্থ সম্পাদক দিদারুল আলম, সদর উপজেলা যুব জোট সাধারন সম্পাদক মোঃ জাকের হোসাইন, শহর যুব জোট নেতা অধির শর্মা, শুভ দাশ, মোঃ আমান, মোঃ নাহিদ শহর ছাত্রলীগ আহবায়ক মোঃ কাইসার হামিদ, আবদুর রহিম, আবদুর রশিদ, মামুন, আবদুল হাশিম, আবদুল আজিজ প্রমুখ।
সভাপতির স্বাগত ভাষণে জনাব নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল বলেন বলেন, চলমান বাংলাদেশে দুর্নীতি-বৈষম্য-দারিদ্র সমস্যা থাকলেও এই মুহুর্তে দেশে রাজনীতি-ধর্ম-গণতন্ত্র-উন্নয়নের জন্য হুমকি ও বিপদজনক উৎপাত হিসাবে দেখা দিয়েছে জঙ্গিসন্ত্রাস। বর্তমান অবস্থায় জঙ্গিসন্ত্রাস নির্মূল বা দমনে সরকারের নেতৃত্বে জনগণ ঐক্যবদ্ধ। তাই চলমান বাংলাদেশের পরিস্থিতি হচ্ছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। সব কিছুই জঙ্গি দমনের যুদ্ধের চশমা দিয়ে দেখতে হবে। এ যুদ্ধের ভেতরেই রাজনীতির দুই অংক: ১. সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন করতে হবে; যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, আগুনসন্ত্রাসীদের বিচার করতে হবে। ২. সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দারিদ্র-বৈষম্য-দলবাজী-দুর্নীতি অবসানে পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি বলেন, এবারের রাজনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, বাংলাদেশকে চিরদিনের জন্য জঙ্গিমুক্ত করা, বাংলাদেশ যাতে আর কোনদিন জঙ্গি-রাজাকার সমর্থিত সরকার অথবা সামরিক সরকার আসতে না পারেÑ সে বিষয়টি নিশ্চিত করা। ‘রাজনীতিতে একবার মুক্তিযোদ্ধা একবার রাজাকার সমর্থিত সরকার’Ñ এ মিউজিক্যাল চেয়ারের খেলা স্থায়ী ভাবে বন্ধ করার জন্য যথাসময়ে নির্বাচন করতে হবে, জঙ্গিসন্ত্রাস সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে হবে। সেজন্য জঙ্গিসঙ্গীর প্রধান পৃষ্ঠপোষক, আগুনসন্ত্রাসী ও খুনীদের ভয়ংকর সিন্ডিকেট প্রধান, পাকিস্তানের নব্য দালাল খালেদা জিয়া এবং বিএনপিকে ক্ষমতা এবং রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে এবং যথাসময়ে নির্বাচনও করতে হবে।
জেলা জাসদ সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, রাজাকার-জঙ্গির সঙ্গীদের সাথে রাজনীতি ভাগবাটোয়ারার আপোসতত্ত্ব/ মিটমাটতত্ত্ব বন্ধ করতে হবে। রাজাকার আর জঙ্গিবাদীরা বাংলাদেশের ক্ষমতার প্রতিদ্বন্ধি নয়Ñ এবারই তা চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধারা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিই রাজনীতির মাঠে থাকবে। রাজাকার আর জঙ্গিরা কখনই যাতে ক্ষমতা আর রাজনীতির প্রতিদ্বন্ধি হতে না পারে সে জন্য জঙ্গিসঙ্গীর প্রধান পৃষ্ঠপোষক, আগুনসন্ত্রাসী খুনীদের ভয়ংকর সিন্ডিকেট প্রধান, পাকিস্তানের নব্য দালাল বেগম খালেদা জিয়াসহ অপরাধীদের ছাড় না দিয়ে বিচার করতে হবে। খালেদা জিয়া-বিএনপি রাজাকার-জঙ্গী-যুদ্ধাপরাধীর পক্ষ নিয়ে জঙ্গী বিরোধী জাতীয় ঐক্যের বাইরে সচেতন অবস্থান গ্রহন করেছেন। খালেদা জিয়া জঙ্গীর পক্ষে নেয়াটা কোন কৌশলগত অবস্থান নয় বরং তা নীতি আদশির্ক অবস্থান। কারন খালেদা জিয়া-বিএনপি ধারাবাহিকভাবে “৭১-৭৫” ২১শে আগষ্টের খুনীদের পক্ষে নেয়া, রক্ষা করা, জামাত-রাজাকার-হেফাজত-তেতুল হুজুর এর সঙ্গে ঐক্য করে পক্ষে নেয় এবং বতর্মানে জঙ্গীর প্রতি সমর্থন দিয়ে ন্যক্কারজনক ভূমিকায় রয়েছেন।
জাতীয় যুব জোট কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পূর্ণবাসন সম্পাদক জেলা সভাপতি রমজান আলী সিকদার বলেন, “২৫শে মার্চ গণহত্যা” দিবস অস্বীকার করে- প্রমান করে খালেদা জিয়া পাকিস্তানের নব্য দালাল। আর জঙ্গিরা আগেই নির্মূল হতো, যদি খালেদা জিয়া এদের পৃষ্ঠপোষকতা না করতো। তাই জঙ্গি নির্মূলে খালেদা জিয়া ও তার সঙ্গীদের বিচার করে বিদায় নিশ্চিত করতে হবে।
