চকরিয়া প্রেসক্লাবে চেয়ারম্যান প্রার্থী হেফাজ সিকদার ; হত্যা মামলায় আমাকে পরিকল্পিতভাবে আসামি করা হয়েছে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউপি নির্বাচন পরবর্তী একাধিক মেম্বার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘাতে গিয়াস উদ্দিন মিন্টু নামের একব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলার আসামি হয়েছেন নির্বাচনের বিজীত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আনম হেফাজ সিকদার।
সংগঠটিত ঘটনার সঙ্গে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আনম হেফাজ সিকদার কোনভাবেই জড়িত না থাকলেও কাকতলীয়ভাবে মামলায় আসামি করা হয়েছে তাকে। এমনকি ঘটনা পরবর্তী নির্বাচিত চেয়ারম্যান নুরে হোছাইন আরিফ বিভিন্ন টেলিভিশন পোর্স্টাল ও অনলাইন গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে হেফাজ সিকদার ছাড়াও অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ আলীকে অভিযুক্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু মামলা রুজু করার সময় বোনের জামাই হওয়ায় মোহাম্মদ আলীকে বাদ দিয়ে এলাকার নিরীহ প্রকৃতির সাধারণ জনগনের সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থী হেফাজ সিকদারকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার আসামি হওয়া প্রসঙ্গে গতকাল চকরিয়া প্রেসক্লাবে চেয়ারম্যান প্রার্থী হেফাজ সিকদার বলেন, ঘটনাটি যেহেতু বদরখালী বাজারে হয়েছে, সেহেতু এটির রহস্য উৎঘাটন করা খুবই সহজ ছিল। কারণ বদরখালী বাজারের প্রত্যেক পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা আছে। সেখানে কেউ কোন ধরণের অপরাধ সংগঠিত করে থাকলে তা ওইদিনের ফুটেজ থেকে সংগ্রহ করে সনাক্ত করা সম্ভব হবে। কাজেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মামলাটি রুজু করার আগে বিষয়টি তদন্ত করতে পারতো, এমনকি ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরা থেকে ফুটেজ নিয়ে যাছাই-বাছাই করে মামলাটি নিতে পারতো।
হেফাজ সিকদার বলেন, আমি দুইবার বদরখালী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছি। ২০১৬ সালের নির্বাচনে একটি মহল চক্রান্ত করে আমার বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিলো। ২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও আমি প্রার্থী ছিলাম। বদরখালীবাসি আমাকে ভালোবাসে বলেই এ নির্বাচনেও বিপুল স্যংাক ভোট দিয়েছে। তারপরও জনগনের রায় মেনে নিয়ে শান্তিপুর্ণ পরিবেশে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বাড়ি ফিরে যাই। উক্ত ঘটনার সাথে যে বা যাহারা (তৃতীয়পক্ষ) জড়িত থাকলে সুষ্ঠ তদন্তসাপেক্ষে আইনগত গ্রহণের পাশাপাশি নিরীহ লোকজনকে অযথা হয়রাণি না করতে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাই।
হত্যা মামলার প্রতিবাদে হেফাজ সিকদারের আক্ষেপ। তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের রায় পেলাম। ওইদিন ফলাফল শেষে ক্লান্তিতে ঘুমাতে গেলাম, ঘুম থেকে ওঠে ষড়যন্ত্রকারীদের সাজানো মিথ্যা মামলা দেখলাম, দুঃখ পেলাম আবার হেসেও উঠলাম। মুলত ক্ষমতার পথ পরিষ্কার রাখতে এই ষড়যন্ত্র এলাকাবাসী ও সচেতনমহল সবই জানে এবং বুঝে। দীর্ঘ ১০০ বছরের বদরখালীর ইতিহাসে আপামর জনসাধারণ আমার মরহুম দাদা,জেঠা ও চাচাকে অসংখ্যবার এই জনপদের সেবক হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। কারচুপি ও সন্ত্রাস করে নেতা হওয়ার রেকর্ড কাদের আছে তা সকলের জানা। সবার শুভ বুদ্ধির উদয় হউক। সবাইকে সাথে নিয়ে দেশবাসীর সেবা করুন। সবাই ভালো থাকুন।
প্রসঙ্গত: গত ২৮ নভেম্বর চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় গিয়াস উদ্দিন মিন্টু নিহত হন। এ ঘটনায় পহেলা ডিসেম্বর বুধবার রাতে চকরিয়া থানায় নিহতের মা রাশেদা খানম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আ.ন.ম হেফাজ সিকদারসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। নিহত গিয়াস উদ্দিন মিন্টু ইউনিয়নের ঢেমুশিয়া পাড়ার মাস্টার আবু মুছার ছেলে। ##