ফুটপাত থেকে তিন শতাধিক অবৈধ ভাসমান দোকান উচ্ছেদ
এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট নিরশনকল্পে এবার চকরিয়া পৌরশহরের বাণিজ্যিক জনপদে ঝাডু হাতে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামলেন ইউএনও, থানার ওসি ও পৌরসভার মেয়র। গতকাল সোমবার সকালে প্রশাসনের এই তিন কর্মকর্তার নেতৃত্বে চকরিয়া শহরে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি চলে ফুটপাত থেকে ভাসমান দোকান অপসারণ কার্যক্রম। দুইঘন্টার অভিযানে এসময় চকরিয়া শহর থেকে প্রায় তিন শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান, পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, চকরিয়া থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র বশিরুল আইয়ুব, পৌর সচিব মাস-উদ মোর্শেদ, কাউন্সিলর মকছুদুল হক মধু, রেজাউল করিম, জাফর আলম কালু, জিয়াবুল হক, ফোরকানুল ইসলাম তিতু, জামাল উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, আনসার ভিডিপির কর্মকর্তা। এছাড়াও অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পৌরসভার কর্মকর্তা ও থানা পুলিশ, কমিউনিটি পুলিশের সদস্য, স্কাউট গ্রুপ টিম লিডার, সদস্যসহ অন্তত শতাধিক সদস্য অভিযানে ছিলেন।
চকরিয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী বলেন, প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানের পরও কতিপয় লোকজন ফুটপাত দখলে নিয়ে ভাসমান দোকান বসিয়ে বেচাকেনা ও অবৈধ পরিবহন কাউন্টার খুলে যানবাহনে যাত্রী উঠানামা করার ফলে দীর্ঘদিন ধরে চকরিয়া পৌরশহর যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার সমন্বয়ে শহরের যানজট নিরশনে বারবার উদ্যোগ নেয়া হলেও জড়িতদের অসহযোগিতার কারনে সত্যিকার অথৈ পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে দিনদিন শ্রীহীন হয়ে পড়ছে শহরের দৃশ্যপট।
পৌরসভার মেয়র বলেন, আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে চকরিয়া শহরকে যানজট মুক্ত করতে এবং কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সব ধরণের যানবাহন চলাচল নিবিঘœ করতে প্রশাসনের সিদ্বান্তের আলোকে গতকাল অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানের শুরুতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরউদ্দিন মুহাম্মদ শিবলী নোমান প্রথমে ঝাঁড়– হাতে শহরে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পৌশহরে ফুটপাতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা অন্তত তিন শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সহকারি রতন কান্তি দাশ বলেন, অভিযানের সময় চকরিয়া শহর থেকে বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টার ও প্রায় তিন শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসময় অবৈধ পাকিংয়ের অপরাধে বিভিন্ন যানবাহন ও ভাসমান দোকানীকে ৩৮ হাজার একশত টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে যাতে চকরিয়া পৌরশহর এলাকা যানজটমুক্ত থাকে সেইজন্য পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। যেকোনো উপায়ে পৌরশহরকে পরিচ্ছন্ন ও যানজটমুক্ত রাখতে অভিযান অব্যহত রাখা হবে।
তিনি বলেন, চকরিয়া শহর থেকে পুরোপুরি যানজট নিরসনে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সাথে আলোচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ##
