এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া : কালারমারছড়া শাহ্ মজিদিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসার বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ। শনিবার বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুচ্ছোয় সিক্ত ইউপি চেয়ারম্যান অনুষ্ঠানে ঘোষনা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে তিনি পরিষদ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার বরাদ্দ দিয়েছেন। আগামীতেও সহযোগিতার হাত প্রসারিত থাকবে। মুর্হুতে সমবেত অথিতি, শিক্ষক, সুধী ও শিক্ষার্থীদের করতালিতে মুখর হয়ে উঠে অনুষ্ঠানপ্রাঙ্গন।
একইদিন পাশের ইউনিয়ন হোয়ারক আদর্শ বিদ্যাপীঠ স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও বার্ষিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশনিয়ে শিক্ষার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা দেখালেন জনপ্রিয় এ জনপ্রতিনিধি। অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ ঘোষনা দেন ব্যক্তিগত তহবিল থেকে শিক্ষার মানন্নোয়নে ওই প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনুদান দেবেন।
স্থানীয় লোকজন বলেছেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মহেশখালীর প্রথম শহীদ পরিবার সদস্য মরহুম ওসমান চেয়ারম্যানের কনিষ্ঠ পুত্র তারেক বিন ওসমান শরীফ ২০১৬ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে কালারমারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সেই থেকে উন্নয়ন কার্যক্রম ও সামাজিক সম্প্রীতি বির্নিমানের মাধ্যমে অল্পসময়ের ব্যবধানে ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগনের কাছে উন্নয়নের রূপকার, সৎ, সাহসী মেধাবী তরুন রাজনীতিবিদের খেতাবে ভুষিত হন তারেক শরীফ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতোমধ্যে তিনি ইউনিয়নের প্রতিটি জনপদে প্রায় ১১কোটি টাকার মতো উন্নয়ন মুলক কাজ শেষ করেছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদের রাস্তাঘাটের উন্নয়নের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, মসজিদ মাদ্রাসা, মন্দির, কবরস্থান ও শ^শানের উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছেন। উন্নয়ন কর্মকাÐের কারণে ইতোমধ্যে সর্বত্রে জনগনের কাছে তারেক শরীফ ভালোবাসার একটি নাম হিসেবে আলোচিত হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ততথ্যে জানা গেছে, চেয়ারম্যান তারেক শরীফ নির্বাচিত হবার পর ইতোমধ্যে কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ শাহ ঘোনায় ১কোটি ৭ লক্ষ টাকার সড়কের কাজ শেষ করেছেন। ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনুদান দিয়েছেন কালারমারছড়া বড়ুয়া পাড়া বৌদ্ব মন্দির উন্নয়নে একলাখ টাকা। কালারছড়ার ঝাপুয়া এলাকায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করে জনগনের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করেছেন। ইউনুছখালীতে দেড় লক্ষ টাকা ব্যয়ে বক্স কালভাট নির্মান, কালারমারছড়া মাইজপাড়ায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে গাইড ওয়াল নির্মান, ২নং ওয়ার্ডে (মাষ্টার আবু ছৈয়দ) দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে গাইড ওয়াল নির্মান, কালারমারছড়া নয়াপাড়া এলাকায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে উভয় অংশে আধুনিকমানের ড্রেইন ও গাইড ওয়াল নির্মান করেছেন।
উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় কালারমারছড়া অফিস পাড়া এলাকায় সাড়ে ৩লক্ষ টাকা ব্যয়ে গাইড ওয়াল নির্মান, মোহাম্মদ শাহ ঘোনায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রেইন নির্মান, ফকিরজোম পাড়ায় ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দু’পশ্বে ড্রেইন নির্মান, আধাঁর ঘোনা এলাকায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে উভয় অংশে গাইড ওয়াল নির্মান, মিজ্জির পাড়া এলাকায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তার দু’পাশে গাইডওয়াল নির্মান, দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে কালারমারছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মান, নাপিতপাড়া এলাকায় আড়াই লক্ষ টাকা ব্যয়ে ড্রেইন নির্মান করেছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান তারেক শরীফ ইতোমধ্যে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয় মেরামতে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন। এছাড়া তিনি শাপলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে একলাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন।
ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যমতে বর্তমানে ইউনিয়নে অনেক গুলো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে আবজলিয়া পাড়াস্থ আকবর হাজ্বী পাড়া সড়ক সংস্কার ও গাইড ওয়াল নির্মাণ। নিজের ইউনিয়ন ছাড়াও চেয়ারম্যান তারেক শরীফ পাশের ইউনিয়ন ধলঘাট, মাতারবাড়ি, শাপলাপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে, সামাজিক উন্নয়নমুলক কাজে সহযোগীতা ও অসহায়-গরীব পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে আর্থিক সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
জানতে চাইলে কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশনের আলোকে এলাকার উন্নয়নে সবধরণের প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গরীব পরিবারের শিক্ষার্থীদের আর্দশ মানুষ গড়ার মিশনে আমার সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। আমৃত্যু আমি শিক্ষার মানন্নোয়নে কাজ করে যাব।
তিনি বলেন, লুটপাট ও লুকোচুরিকে আমি ধিক্কার জানাই। আমার যতেষ্ঠ পৈত্রিক সহায় সম্পদ আছে। কাজেই পরিষদের সকল বরাদ্দ জনগনের জন্য উন্মুর্থ থাকবে। বাকী জীবন এলাকার উন্নয়ন ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে আমার শহীদ পিতা ওসমান চেয়ারম্যানের আর্দশে এগিয়ে যেতে চাই।
