হুমায়ূন রশিদ : কুতুপালং মরকজ পাহাড় হতে যাত্রী আনতে গিয়েই স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা গ্রæপের কবলে পড়েছে হ্নীলার দুই নোহা চালক। এদের মধ্যে একজনকে নৃশংসভাবে খুন এবং অপর জনকে অপহরণ করেছে উগ্রপন্থী রোহিঙ্গারা। এদিকে নিহত চালককে পোস্ট মর্টেম শেষে স্থানীয় গোরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি চললেও অপহৃত চালককে এখনো পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি।
জানা যায়, গতকাল ৬অক্টোবর সন্ধ্যায় বিশেষ ব্যক্তির ভাড়ায় হ্নীলা হতে কুতুপালং মরকজ পাহাড় এলাকায় যাত্রী আনার জন্য যান হ্নীলা রঙ্গিখালী স্কুল পাড়ার দিলদার আহমদ দিলুর পুত্র নোহা চালক নুরুল বশর (৩৫) এবং পশ্চিম সিকদার পাড়ার নুর হোছনের পুত্র নুরুল হুদা (৩০)। তারা সেখানে পৌঁছে গাড়িতে যাত্রী উঠানো অবস্থায় রোহিঙ্গা দুই গ্রæপের মধ্যে সংঘর্ষ এবং গোলাগুলি শুরু হয়। রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী গ্রæপের সদস্যরা এক পর্যায়ে নোহা চালক নুরুল হুদার পেটে গুলিবর্ষণ এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে বেশ কয়েকটি ছুরিকাঘাত করে নুরুল হুদার মৃত্যু নিশ্চিত করে। এছাড়াও অপর ৩জন রোহিঙ্গাকে মেরে সাথে যাওয়া অপর নোহা চালক নুরুল বশরকে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে যায় উগ্রপন্থী গ্রুপের সদস্যরা। উখিয়া থানা পুলিশ হ্নীলার চালক নুরুল হুদাসহ ৪জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন। এলাকায় দুই নোহা চালক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত ও অপহরণের খবর ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সকালে বিভিন্ন বাজার-ষ্টেশনে রোহিঙ্গা বিরোধী উত্তপ্ত পরিবেশ বিরাজ করলেও আইন-শৃংখলা বাহিনীর তৎপরতায় তা নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে বাদে জোহর একটি মুঠোফোন থেকে অপহৃত নোহা চালক নুরুল বশর বাবার নিকট ফোন করে জানান, সে রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী গ্রুপের হেফাজতে পাহাড়ে রয়েছে। এই বিষয় নিয়ে বেশী হৈ ছৈ করলে আমার লাশ পাবে আর নিরব থাকলে তাদের মনে দয়া হলে জীবিত ছেড়ে দিতে পারে বলে আশ্বস্ত করেন। তাই আপাতত অপহৃতের পরিবার নিরব রয়েছে।
অপরদিকে নিহত নোহা চালক নুরুল হুদাকে পোস্টমর্টেম শেষে রাতে বাড়িতে আনা হয়। গভীর রাতে হ্নীলা শাহ মজিদিয়া ইসলামি আলিম মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় গোরস্থানে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দাফনের প্রস্তুতি চলছে বলে পারিবারিক সুত্র নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, উক্ত ক্যাম্পে মরকজ পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরসা গ্রæপ এবং মুন্না গ্রæপের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নিহত হয় এবং আতংকে কয়েকশ পরিবার অন্যত্র পালিয়ে যায়। স্বশস্ত্র আরসা বাহিনীর হামলার আতংকে মুন্না গ্রুপের লোকজন স্বপরিবারে ক্যাম্প ত্যাগ করার জন্য ক্যাম্পের বাহিরে থাকা তার সিন্ডিকেটের সদস্যদের মাধ্যমে ঐ চালকদের কুতুপালং ক্যাম্পে নিয়ে গেলে এই নৃশংস হামলা এবং অপহরণের শিকার হয়। স্থানীয় জনসাধারণের উপর রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী সন্ত্রাসীদের এই ধরনের আচরণ জনমনে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ###
