এম.জিয়াবুল হক : চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের ‘সোহেল’ নামে এক বয়স্ক পুরুষ সিংহের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকালে পার্কের বেস্টনীর ভেতরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই সিংহের মৃত্যু হয়। পার্কের কর্মকর্তা ও ভেটেরিনারী সার্জন নিশ্চিত করেছেন বার্ধক্যজনিত কারণে ওই সিংহটি দীর্ঘদিন ধরে রোগাক্রান্ত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে ডুলাহাজারা সাফারী পার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা (তত্তাবধায়ক) মো.মাজহারুল ইসলাম বলেন, বুধবার বিকালে চিকিৎসাধীন বয়স্ক ‘সোহেল’ নামের বয়স্ক পুরুষ সিংহটি মারা যায়। মৃত সিংহের ময়নাতদন্ত করেন চকরিয়া উপজেলা প্রাণী ম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুপন নন্দী, সাফারী পার্কের ভেটেরিনারী সার্জন ডা. হাতেম সাজ্জাদ ও ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, সাধারণত সিংহের গড় আয়ুস্কাল ১৫ থেকে ১৮ বছর। মারা যাওয়া সিংহের বয়স ২২ বছর হতে পারে। তবে সিংহটি ৩-৪ বছর ধরে রোগে ভুগছিলেন। এ ঘটনায় বুধবার রাতে চকরিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। এরপÍ পার্কের ভেতরে সিংহের মরদেহ পুতে ফেলা হয়েছে।
পার্ক সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২৮আগস্ট রাজধানী ঢাকার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে মাত্র চার বয়সী এ পুরুষ সিংহটি ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে আনা হয়েছিল। সে থেকে বেড়ে ওঠা সিংহটি পার্কে বংশ বৃদ্ধিতে ভুমিকা রাখেন।
বর্তমানে সাফারী পার্কে আরো চারটি সিংহ রয়েছে। তার মধ্যে দুটি নারী সিংহ ও দুটি পুরুষ সিংহ। এসব সিংহগুলো পুরুষ সিংহের বংশধর বলে নিশ্চিত করেন সাফারী পার্কের ভেটেরিনারী সার্জন ডা. হাতেম সাজ্জাদ।
সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগ চট্টগ্রামের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পার্কে মারা যাওয়া সিংহের বয়স ২২ বছরের বেশি। তাছাড়া বার্ধক্যজনিত কারণে সিংহটি দীর্ঘদিন ধরে রোগাক্রান্ত ছিলেন। অক্ষমতার কারণে গেল তিনবছর ধরে ঠিকমতো খাবারও খেতে পারতো না।
তিনি বলেন, গেলমাসে গাজীপুর বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে অ্যানথ্রাক্স ভাইরাসে প্রাণীর মৃত্যুর ঘটনায় ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে আগে থেকে বিশেষ সর্তকতা নেওয়া হয়। মুলত পার্কের বন্যপ্রাণী গুলোকে সুরক্ষিত রাখার অংশহিসেবে প্রতিদিন বন্যপ্রাণীর বেস্টনীতে জীবানুনাশক স্প্রে ছিটানো হচ্ছে।
সাফারি পার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে ভেটেরিনারী বিভাগের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিদিন পার্কের বন্যপ্রাণী বিশেষ করে বাঘ, সিংহ, জ্রেবা, ভালুক, হাতি, জলহস্তি, ওয়াইডবিষ্ট বেস্টনীতে খাবারের পাশাপাশি জীবানুনাশক স্প্রে ছিটানোর কাজ করছেন।
বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এই পর্যন্ত আমাদের পার্কের বন্যপ্রাণীগুলো সুস্থ আছেন। কোনধরণের রোগ বা উপসর্গ দেখা যায়নি কোন প্রাণীর শরীরে। প্রতিদিন বন্যপ্রাণীগুলোর চেকআপ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর বেস্টনীর ভেতরে বাইরে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বাড়ানো হয়েছে। ভেটেরিনারী বিভাগের কর্মীরা পালা করে দায়িত্ব পালন করছেন। #
