উদ্ধারকৃত ইয়াবা গায়েব করলেন ডিবি’র এসআই ফারুক

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

আমাদের সময়.কম : কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখার দারোগা ফারুক আহমদ কর্তৃক উদ্ধারকৃত পিকআপসহ প্রায় ১ লাখ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলোর কোনো হদিস না পাওয়ায় নিজেদের মধ্যে চলছে স্নায়ুযুদ্ধ। গত মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে হোয়াইক্যং’র উনছিপ্রাং বাজারস্থ ব্রীজের উপর থেকে প্রায় ১ লাখ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ পিকআপ জব্দ করে দারোগা ফারুক আহমদের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি টিম।
এ সময় ইয়াবা বহনকারী পিকআপটি ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসলেও অদৃশ্য কারণে ড্রাইভারকে ছেড়ে দেয় উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা। ইয়াবাসহ জব্দকৃত পিকআপ গাড়ী নং-চট্টমেট্রো-ন ১১-৫৫৭৫। তবে উদ্ধারকৃত ১ লাখ পিচ ইয়াবার মধ্যে ১০ হাজার পিচ ইয়াবা ওই ড্রাইভারকে সোর্স মানি হিসেবে দেওয়া হয়েছে বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে। তবে অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা আসল ঘটনাকে আড়াল করে পরিত্যক্ত গাড়ী উদ্ধার করে নিয়ে এসেছি মর্মে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এদিকে সম্প্রতি ডিবি পুলিশে দারোগা ফারুক আহমদের কর্মকান্ড নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠেছে। পাশাপাশি তার আচরণ ও নানা কার্যকলাপ নিয়ে ডিবি পুলিশের সকল সদস্যদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে বর্তমানে তার সাথে কাজ করতে পুলিশ সদস্যরা অনিহা প্রকাশ করছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জব্দকৃত পিকআপ মালিক জানান, আমার গাড়ীটি ড্রাইভার দিয়ে পরিচালিত। ঘটনার পরবর্তীতে আমি জেনেছি ড্রাইভার কন্ট্রাকের মাধ্যমে আমার গাড়ি দিয়ে ৯০ হাজার পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট বহন করে আসছিল। ধারণা করা হচ্ছে সে পুলিশের সোর্স হিসেবেও কাজ করে। অতি অর্থের লোভে সে ইয়াবাসহ আমার গাড়ীটি ডিবি পুলিশের হাতে ধরা দেয়।
জানা যায়, কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখার ইয়াবা বিরোধী অভিযান নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে নানা সমালোচনা চলে আসছিল। সমালোচনার মধ্যে শীর্ষে ছিল ইয়াবা বিরোধী অভিযানে ইয়াবা ধরে সিংহভাগ গায়েব করা, মাদক ছাড়া সাধারণ লোকজনদের ধরে বেধড়ক মারধর করে নগদ অর্থ আদায়, ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে সাধারণ লোকজনদের পলাতক আসামি দেখিয়ে চার্জশিট বাণিজ্য, রাস্তা থেকে লোকজন ধরে ইয়াবা মামলায় চালান দেয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ অর্থ আদায়সহ আরো হরেক রকম আভিযোগ।
এদিকে উল্লেখিত অভিযোগ ছাড়াও দারোগা ফারুকের বিরুদ্ধে রয়েছে সিনিয়র কর্মকর্তাদের অগোচরে ইয়াবা ধরে পুরো চালান গায়েবের মত জঘন্যতম ঘটনা। পাশাপাশি তার টিমে থাকা অন্যান্য সদস্যদের ভাগের টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য বলেন, দারোগা ফারুকের অত্যাচার সহ্য করে টিমের সকল সদস্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। কিন্তু কখনো কোনো দিন কেউ প্রতিবাদ করার সুযোগ কিংবা সাহস পাইনি। সর্বশেষ ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ বদলির পর সুযোগটি এসেছে। কারণ বর্তমানে তিন দারোগার নেতৃত্বে নতুন টিম হয়েছে। আর দারোগা ফারুক সিনিয়র হিসেবে একটি টিমের দায়িত্ব পালন করে আসছে। কিন্তু কোনো পুলিশ সদস্য তার সাথে বা তার টিমে কাজ করতে আগ্রহী না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দারোগা জানান, এসআই ফারুক কক্সবাজারে ইয়াবা ব্যবসা করার জন্য এসেছে। কারণ অভিযানে যা উদ্ধার হয় সবটুকু বিক্রি করে পকেটে নগদ টাকা ঢুকান তিনি। এ পুলিশ কর্মকর্তার গায়েব করা ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো বিক্রি হয় টেকনাফের ইয়াবা মাফিয়াদের কাছে। এসব ইয়াবার লেনদেনের জন্য রয়েছে তার কিছু নির্দিষ্ট গোপন আস্তানা। তার মধ্যে টেকনাফ বন্দর এলাকার বুড়ির মার দোকান, মনিরুল আলম প্রকাশ মাইজ্জার ঘর, টেকনাফের ইয়াবা ডন জয়নাল মেম্বারের কাছে, কক্সবাজার শহরের ঝিলংজার লাহার পাড়া এলাকার লাল মিয়ার আস্তানাসহ আরো বেশ কয়েকটি চিহিৃত স্থানে।
এ দিকে সুষ্ঠু ভাবে ডিবি পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গোপনীয় ভাবে তদন্ত পূর্বক ফারুকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সোর্সের দেওয়া তথ্যমতে উল্লেখিত ইয়াবা বহনকারী গাড়িটি উনছিপ্রাং ব্রীজ পর্যন্ত পৌছলে আমরা গাড়ীটি থামাতে বলি। এ সময় ড্রাইভার কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে আমরা ইয়াবা বহনকারী পিকআপ গাড়িটি জব্দ করে তল্লাশীর উদ্দেশ্য ডিবি হেফাজতে নিয়ে আসি। পরে তল্লাশি করে গাড়ী থেকে কোনো ইয়াবা উদ্ধার করা যায়নি।
এ বিষয়ে কক্সবাজার ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলামের সাথে যোগােেযাগ করা হলে তিনি জানান, উল্লেখিত অফিসার ইয়াবা বহনকারী একটি পিকআপ গাড়ী জব্দ করে নিয়ে আসে কিন্তু ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়ে আমি জানি না। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট অফিসারের সাথে কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন।
এ ব্যাপারে কথা হলে কক্সবাজার পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। তবে ঘটনা সত্যি হয়ে থাকলে আমি জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।