শ.ম.গফুর, উখিয়া :
কক্সবাজারের উখিয়ার বোরো চাষাবাদে আকস্মিক ঝড়,হাতির প্রতিনিয়ত ছোবল ও ব্যাপক হারে ডিগকাটা রোগে ধরেছে। তার উপর সসবচেয়ে ক্ষতির দিকটা বেশী হয়েছে ফলন পাঁকার মুহুর্তেই। আকস্মিক ঝড়ে ব্যাপক চাষাবাদের ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এক প্রকার দেউলিয়া হওয়ার আশংকাওও প্রকাশ করছেন কৃষকেরা। ঝড় আর ডিককাটা রোগ দুই -ই মিলে কৃষকের মাথায় হাত উঠার উপক্রম হয়েছে। কৃষকেরা মরিয়া হয়ে চাষাবাদে কীটনাশক ঔষুধ স্প্রে করে ও কোন সুফল পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সংকট কাটিয়ে উঠতে না উঠতে মহামারি আকারে ডিগকাটা রোগে শতশত একর বোরো চাষাবাদ আক্রান্ত হওয়ায় কৃষকেরা হতাশ হয়ে পড়েছে।
সরজমিন ছাদৃকাটা, ফলিয়া পাড়া, মাছকারিয়া, হাজির পাড়া, নলবনিয়া, হরিণমারা, দোছড়ি, টাইপালং, পূর্বডিগলিয়া পালং, ডেইলপাড়া, দরগাহবিল, গয়ালমারা, চাকবৈঠা পালংখালী, থাইংখালী,বালুখালী, উখিয়ার ঘাট,তেলীপাড়া, মাছকারিয়া,কুতুপালং ও মধুর ছড়া এলাকায় বোরো চাষাবাদের জমি ঘুরে দেখাযায়, স্থানীয় কৃষকেরা জমিতে স্প্রে করে কীটনাশক ঔষুধ ছিড়াচ্ছে। এব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে, ডেইলপাড়ার কৃষক আলী আকবর (৪৫) বলেন, ডিগকাটা রোগে ধরেছে ফসলে, কীটনাশক ঔষুধ ব্যবহার করেও কোন কাজ হচ্ছেনা। একই এলাকার কৃষক আব্দুল মজিদ (৪০) বলেন, এক ধরনের পোকা ধানের ডিগ (থোর) কেঠে ফেলছে। যার ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখে আগে-ভাগে ঔষুধ ছিটানো হচ্ছে। ডিগলিয়াপালং এলাকার মৌলভী সোহেল বলেন, ব্লস্ট আর ডিগকাটা রোগ থেকে বোরো চাষাবাদ বাঁচাতে দিনরাত কষ্ট করে যেতে হচ্ছে। কীটনাশক থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকার ওষুধ রোগ-বালাই দমনে প্রয়োগ করেও কাজ হচ্ছে না। গয়ালমারা এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আলম (৪৫) বলেন, দেড় হাজার টাকা লাগিয়ত দিয়ে ২০ শতক জমিতে বোরো চাষাবাদ করতে এপর্যন্ত ৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। সে বলেন, যেভাবে ডিগকাটা রোগে ধরেছে তাতে ফসল নিয়ে দুঃচিন্তায় আছি। উখিয়ার ঘাটের জহিরুল ইসলাম সোনালী ও আমির হোছন জানান, ঝড়ের কবল,হাতির আক্রমণ ও ডিককাটা রোগে আক্রান্ত ধান। আশানুরূপ ফলন পাওয়া দুস্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এব্যাপারে কৃষি অফিস সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে বলেও জানান।
বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও পানি সমস্যা কাটিয়ে এ উপজেলার বোরো চাষাবাদে থোর পড়া উপক্রম হয়েছে। এ মুহুর্তে ব্যাপক আকারে ডিগকাটা রোগে ফসল আক্রান্ত হওয়ায় কৃষকেরা হতাশ হয়ে পড়েছে। কৃষকরা জানান, সরকার সহজ শর্তে কৃষি ঋণ বিতরণের সংশিষ্ঠ ব্যাংক গুলোকে নির্দেশ দিলেও কতিপয় রাজনৈতিক নেতার আত্বীয় স্বজন ছাড়া প্রকৃত কৃষকেরা কৃষি ঋণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পরিবারের চাহিদা পুরনের জন্য এক তৃতীয়াংশ ভুমিহীন কৃষক চড়া সুধে ঋণ নিয়ে অথবা সহায় সম্পত্তি বন্ধকি রেখে সীমিত পরিমান জমিতে বোরো চাষাবাদ করেছে। এমতাবস্থায় রোগ বালাইয়ে আক্রান্ত ফসল ঘরে তুলা আদৌ সম্ভব হবেনা কিনা তা নিয়ে কৃষকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এব্যাপারে জানার জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম মুঠোফোন জানান, কিছু কিছু এলাকায় ব্লস্ট রোগ দেখা দিলে আমরা উঠান বৈঠকের মাধ্যমে এব্যাপারে কৃষকদের রোগ-বালাই দমনে বিভিন্ন ভাবে দিক নির্দেশনা দিয়েছি। পাশাপাশি ডিগকাটা সহ সকল রোগের আক্রমন থেকে বোরো চাষাবাদকে বাঁচাতে আমরা মাঠে সার্বক্ষণিক ব্লক সুপারভাইজারদের নিয়োজিত রেখেছি। এদিকে কৃষকেরা চলতি বোরো চাষাবাদে ঝড়,হাতির আক্রমণ ও ডিককাটা সহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ফলন বিপর্যয়ের আশংকায় রয়েছেন।
