শ.ম.গফুর, উখিয়া :
উখিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ৯ বছর ধরে কর্মরত অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর বশির আহমদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে ১৪ জন ভুক্তভোগী শিক্ষক স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ উপ-পরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে উক্ত অফিস সহকারি উখিয়া প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ২০০৯ ইংরেজী সনে যোগদান করে। যোগদানের পর থেকে এ পর্যন্ত যতগুলো প্রাথমিক শিক্ষকের টাইমস্কেল ও ইবিক্রস হয়েছে তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২/৩ হাজার টাকা আদায় করেছে। অতি সম্প্রতি উপজেলার লম্বরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মুহিবুল্লাহ, নলবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শাহ আলম ও কামারিয়ার বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোঃ আলম, টাইমস্কেলের আবেদন করলে তাদের প্রত্যেকের নিকট থেকে ৫ হাজার টাকা উক্ত অফিস সহকারি আদায় করলেও বিলটি এখনো অনুমোদন প্রাপ্ত হয়নি।এছাড়া ২০১৪ সালে টাইম স্কেল প্রাপ্ত ৩৮জন শিক্ষক থেকে ২ হাজার টাকা, ২০১৫ সালে ২১ জন টাইম স্কেল প্রাপ্ত শিক্ষক থেকে জন প্রতি ৩ হাজার টাকা আদায় করেছে অভিযুক্ত অফিস সহকারি বশির আহমদ। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, অতি সম্প্রতি পেনশনে যাওয়া মাদারবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক কবির আহমদের ফাইল আটকে রেখে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। একই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা চেমন বাহারকে প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি দেওয়ার কথা বলে ১০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেছে।
সদ্য জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের বকেয়া টাইমস্কেল অতি সু-কৌশলে আটকে রেখে ৯৫ জন শিক্ষক থেকে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে ২ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই অফিস সহকারি। উপরোক্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে অফিস সহকারি বশির আহমদের সাথে মুঠোফোনে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে উখিয়ার কতিপয় প্রাথমিক শিক্ষক উঠে পড়ে লেগেছে। এব্যাপারে উখিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুব্রত বড়ুয়া জানান, তিনি বশির আহমদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ উত্থাপনের বিষয়টি জেনেছেন এবং ঘটনাটি স্থানীয় ভাবে মিমাংসা করার জন্য চেষ্টা করেছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
