ইয়াবা ব্যবসা ও চোরাই গাড়ী বিক্রি করে কোটিপতি টেকনাফের মেহেদী

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

আইনশৃংখলা বাহিনীর নাকের ডগায় প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলে ও সম্পূর্ন অধরায়

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ইয়াবার বিনিময়ে নামী দামী বিভিন্ন ব্রান্ডের চোরাই গাড়ী এনে গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে টেকনাফের নাইটং পাড়ার বাসিন্দা আবদুল গফুরের পুত্র মেহেদী হাসান ওরফে মেহেদী। টেকনাফের ইয়াবার জগতের কিং
মেহেদী হাসান এখন ১০/১২টি যানবাহন ছাড়াও অঢেল সম্পদের মালিক। ইয়াবা ও চোরাই গাড়ীর ব্যবসা করে মেহেদী টেকনাফ পৌরসভা সহ বিভিন্ন জায়গায় তার নামে বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়েছে বলে এক অনুসন্ধানে নানা তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
জানা যায়, মেহেদী হাসান গেল বছর কয়েক আগে তার অবস্থান ছিল কুড়ে ঘরে। মিয়ানমারের সুজার দিয়া নামক গ্রামের জনৈক মোঃ আলম ও মংডুর এক রাখাইন যুবকের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে। এর পর শুরু করে জমজমাট ইয়াবা ব্যবসা। নাইট্যং পাড়ার সীমান্ত পয়েন্ট ও হেচ্ছার খাল দিয়ে তার নেতৃত্বাধী সিন্ডিকেট বড় বড় ইয়াবার চালান খালাস করে। বিজিবি ও কোষ্টগার্ড একাধিকবার তাদের চালান আটক করতে ও স্বক্ষম হয়। মরন নেশা ইয়াবা ঢাকায় পাচার করে বিনিময়ে প্রথমে চোরাই মোটর সাইকেল এনে টেকনাফ কক্সবাজারে বাজারজাত করে। এর পরে ব্যবসা ব্যাপক আকার ধারণ করায় ঢাকার গাড়ী চোর সিন্ডিকেটের সাথে হাত করে। রাজধানী সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে হাইজাক করা নোহা বক্সি, প্রাইভেটকার গোপনে টেকনফে আনা শুরু করে। টেকনাফের বিভিন্ন ইয়াবা ডনদের নিকট নানা হাইব্রান্ডের গাড়ী বিক্রি শুরু করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান চোরাই গাড়ী বিক্রির গোপন সংবাদ পেয়ে ২০১৬ সালের ৮ জুন গোয়েন্দা পুলিশের জালে আটকা পড়ে। ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম দীর্ঘ নজরদারী করে তাকে টেকনাফর একটি দোকানে আড্ডা দেয়ার সময় আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্য মতে আরো ৭ টি গাড়ী জব্দ করা হয়। জব্দকৃত গাড়ীর মধ্যে একটি কার (ঢাকা মেট্রো-গ ১৪-৬১১৬) ও ৬ টি নোহা মাইক্রো । গাড়ীসহ আটক মেহেদীকে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। জানা যায়, আটক মেহেদী টেকনাফের শীর্ষ একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী। তার ইয়াবা নেটওর্য়াক গতিশীল করতে সখ্যতা গড়ে তোলে রাজধানীসহ দেশের চোরাই গাড়ী চক্রের সাথে। ইয়াবার বদলে চোরাই গাড়ী দিয়ে যায় চক্রটি। মেহেদী এসব চোরাই গাড়ী টেকনাফে বসে বিক্রয় করতে থাকে। এসব চোরাই গাড়ী দিয়ে টেকনাফ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পাচার করে থাকে এরা। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার নিশাত রহমান মিথুন সাংবাদিকদের জানান, চোরাই গাড়ী চক্রের সদস্য মেহেদী হাসানকে ৭টি গাড়ীসহ আটক করা হয়। তার কাছে ইয়াবা বিক্রি ও চোরাই সিন্ডিকেটের সাথে সখ্যতার প্রমান পাওয়া গেছে বলে ও জানান। ঢাকায় গোয়েন্দা পুলিশ তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে কোর্টে চালান দেয়। ইতিপূর্বে মেহেদী হাসান ইয়াবার চালান নিয়ে ও বেশ কয়েকবার আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। সর্বশেষ টেকনাফ থানা পুলিশের অভিযানে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা আটকের ঘটনায় দুই ইয়াবা গডফাদার কে পলাতক আসামী করে টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করেন অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন। এ দায়ের করা টেকনাফ থানা মামলায় (নং-৮৬)পলাতক আসামী করা হয় নাইট্যংপাড়া এলাকার আব্দুল গফুরের পুত্র উক্ত মেহেদী হাসান কে। তার বিরুদ্ধে চোরাই গাড়ী বিক্রির মামলা সহ প্রায় ৫/৬টি মাদকের মামলা রয়েছে। বর্তমানে জামিনে ছাড়া পেয়ে মেহেদী হাসান আবারো ইয়াবা ব্যবসায় সক্রিয় হয়ে পড়েছে বলে এলাকা সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে মেহেদী টেকনাফ উপজেলা,নাইট্যং পাড়া সহ পৌর সভা এলাকায় আইন শৃংখলা বাহিনীর নাকের ডগায় প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলে ও সম্পূর্ন অধরায় রয়েছে ক্রস ফায়ারে নিহত নুর মোহাম্মদের প্রধান সহযোগী মেহেদী হাসান ওরফে মেহেদী। অভিযোগের বিষয়ে মেহেদীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,ইয়াবা ব্যবসায়ী যে যত বড় শক্তিশালী হোক না কেন, অবশ্যই তাদের কে আইনের আওতায় আনা হবে। এব্যাপারে অভিযান চলমান রয়েছে বলে ও জানান।