অপরাধপ্রবণতা নির্মূলে চকরিয়া পৌরসভা ৩টি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে বিট পুলিশিং কার্যালয় উদ্বোধন

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৪ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক : “বিট পুলিশিং বাড়ি বাড়ি, নিরাপদ সমাজ গড়ি ” স্লোগানে আইনশৃংখলা পরিস্থতি স্বাভাবিক ও অপরাধ নির্মূলে থানা পুলিশের আয়োজনে চকরিয়া পৌরসভায় বিট পুলিশিং কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুনভাবে শুরু হওয়া বিট পুলিশিং কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকা হিসেবে থাকবে চকরিয়া পৌরসভার ১ নম্বর, ২ নম্বর ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড। শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে চকরিয়া পৌরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডস্থ তরছপাড়া ষ্টেশনে এ বিট পুলিশিং কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়।
বিট পুলিশিং কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবতী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিট পুলিশিং কার্যালয় উদ্বোধক ছিলেন সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) মো: তফিকুল আলম।
চকরিয়া পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারী সার্ভিস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও কমিউনিটি পুলিশিং নেতা রাজিবুল মোস্তফা রাজিফ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চকরিয়া পৌরসভা (১,২ ও ৩) নম্বর ওয়ার্ডের বিট পুলিশিং অফিসার কামরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এইচএম তাজ উদ্দিন, চকরিয়া পৌরসভা ১নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো: নুরুস শফি, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর রাশেদা বেগম, চকরিয়া পৌরসভা ৩নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইফতেখারুল ইসলাম হানিফ, ২নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া পৌরসভার সচিব (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) মাসউদ মোর্শেদ, চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার (এস আই) রাজিব চন্দ্র সরকার, সহকারি বিট অফিসার (এএসআই) উত্তম কুমার ভৌমিক, কামাল হোসেন, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতাসহ এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক কক্সবাজার সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) মো: তফিকুল আলম বলেন, বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে মানুষের সমস্যা জানার সঙ্গে সঙ্গে সুনির্দিষ্ট বিট পুলিশিং অফিসার তা নিরসন করবেন। আর এ বিট পুলিশ কার্যক্রমের সেবা নিশ্চিতে এবং এলাকার অপরাধ প্রবণতা নির্মূলে জনগণের সহযোগিতার বিকল্প নেই। মানুষকে এখন আগের মতো ভোগান্তি বা হয়রানির শিকার হতে হবে না।
পুলিশ এখন আগের অবস্থানে নেই, পুলিশের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক পরিবর্তন হয়েছে। থানায় মামলা বা জিডি করতে কোন ধরণের টাকা লাগে না। মানুষের সহযোগিতা ছাড়া শুধু আইন প্রয়োগ করে মাদক ও সন্ত্রাস দমন করা যাবে না। মাদক, চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাস ও ইভটিজিং মতো অপরাধ সম্পর্কে তথ্য দিন, পুলিশ আপনাদের পাশে থাকবে। যারা মাদক, চুরি-ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থাকবে তাদের অবশ্যই কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে এবং অপরাধী যতো বড় শক্তিশালী হোক কোন ধরণের ছাড় দেয়া হবে না। জনগণ পুলিশকে আন্তরিক ভাবে সহযোগীতা করলে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব।
প্রধান অতিথি চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী বলেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশকে সহযোগীতা করুন, তাহলে এলাকা থেকে সবধরণের চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং মতো অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব।
তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবারের বাবা-মা’কে তাদের সন্তানের ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। কেন না তাদের সন্তানেরা কখন কোথায় যায়, কার সাথে উঠাবসা ও মেলামেশা করে তা জানা অবশ্যই দরকার। তাই অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান কোন সন্তান যেন বিপদগামী না হয় এবং অপরাধ নির্মূলে পাড়া-মহল্লার সবাইকে ভুমিকা রাখতে হবে। ##