রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনে গতি বেড়েছে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

৩২ হাজার ২৫৩ জন রোহিঙ্গার নিবন্ধন সম্পন্ন

নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ টুডে ডটকম :
রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনে গতি বেড়েছে। গত ১৭ দিনে টেকনাফ ও উখিয়ার ৩টি কেন্দ্রে ৩২ হাজার ২৫৩ জন রোহিঙ্গার নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে ৩টি কেন্দ্রে বুথ ও কম্পিউটারের সংখ্যা বৃদ্ধি করায় গতি এসেছে নিবন্ধনে। টেকনাফের নয়াপাড়া শরনার্থী ক্যাম্পে শনিবার এক দিনেই ২ হাজার জন রোহিঙ্গার নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। যেখানে আগে গড়ে ১ হাজার ২০০ জন রোহিঙ্গার নিবন্ধন হয়েছিল।
শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকালে টেকনাফের নয়াপাড়া শরনার্থী ক্যাম্পে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিদর্শনে দেখা যায়, দুইটি বুথে ১৮ টি স্টেশনে (কম্পিউটার) নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। বাহিরে তখনো রোহিঙ্গাদের সারিবদ্ধ ভাবে রোহিঙ্গা নারীরা নিবন্ধনের জন্য দাড়িয়ে আছে। দায়িত্বরত সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা রোহিঙ্গাদের নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, কত তারিখে এসেছে, মিয়ানমারে তাদের বাড়ির ঠিকানা লিপিবদ্ধ করার পাশাপাশি ছবি ও আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে পরিচয়পত্র প্রদান করছেন। তাৎক্ষণিক পরিচয়পত্র প্রিন্ট করে লেমিনেটিং করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত নিবন্ধনের কথা থাকলেও রোহিঙ্গারা লাইনে থাকলে এখন ৫টার পরেও নিবন্ধন করা হচ্ছে। নয়াপাড়া ক্যাম্প ছাড়াও কুতুপালং ও থ্যাংখালি ক্যাম্পে একইভাবে এই কার্যক্রম চলছে।
এছাড়া শুরুতে ১২ বছরের উর্ধ্বের রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন করা হলেও এখন ৫ বছর থেকে উর্ধ্বে রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে।
নয়াপাড়া শরনার্থী ক্যাম্পের তত্ত্বাবধায়ক ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের উপ-পরিচালক সাঈদুল ইসলাম জানান, শনিবার থেকে বুথ ও কম্পিউটার সংখ্যা বৃদ্ধি করায় নিবন্ধন কার্যক্রমে গতি বেড়েছে। এখন আগের চেয়ে অনেক বেশী রোহিঙ্গা নিবন্ধিত করা যাচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা যাওয়া অনেকটা কমেছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উখিয়ার কুতুপালং ও থ্যাংখালী কেন্দ্রেও একই ভাবে বুথ ও কম্পিউটার সংখ্যা বৃদ্ধি করায় শনিবার থেকে নিবন্ধন কার্যক্রম জোরদার হয়েছে।
কুতুপালং ক্যাম্পে নিবন্ধন কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত লেঃ কর্ণেল মাহাবুবুর রহমান জানান, নিবন্ধন কার্যক্রম এখন আগের চেয়ে অনেক বেশী গতিশীল হয়েছে। এখন প্রয়োজন প্রচারণার। স্থানীয়ভাবে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনে উৎসাহিত করতে প্রচারনা চালাতে হবে। প্রয়োজনে আরো বুথ ও কম্পিউটারের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী গত ২৫ আগস্টের পর থেকে পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। এছাড়া আগে থেকেই আরও অন্তত পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছে।