হুমায়ূন রশিদ : বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফট্যানেন্ট জেনারেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী টেকনাফ সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমারের ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা এখন ‘আরাকান আর্মির’ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে সীমান্তের শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে উভয়পক্ষের সাথে বাংলাদেশ সরকার যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে।
৩০ডিসেম্বর সকাল ১১টায় বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফট্যানেন্ট জেনারেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী হেলিকপ্টার যোগে টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়ান সদরে অবতরণ করেন। সেখানে তিনি সালাম গ্রহণ শেষে বিজিবি ব্যাটালিয়ন পরিদর্শন ও বিজিবি সদস্যদের সাথে আলাপ করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি দমদমিয়া বিওপি সংলগ্ন নাফনদীর মোহনায় যান। নদীর মোহনায় তিনি সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন। এরপর তিনি সফর নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। তাই দেশের স্বার্থে তিনি বিশে^র বিভিন্ন মহলের সাথে যোগাযোগ করে চলেছেন। মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে তিনি ইতিমধ্যে একজন গ্রহণযোগ্য ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি ডঃ খলিলুর রহমানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টি সার্বক্ষণিকভাবে নজর রাখছেন। সীমান্ত এলাকায় এখন আমাদের কোন সমস্যা নেই। বিজিবিসহ সকল বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সর্তকতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। এখানে যেন আইন-শৃঙ্খলা সব সময় স্বাভাবিক থাকে তার উপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘাতের জেরধরে আরো ৫০-৬০হাজার নতুন রোহিঙ্গা আমাদের দেশে অনুপ্রবেশ করেছে। তাদের নতুন করে নিবন্ধিত করা হবে কি না তা নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত জরুরী। তা নিয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। নতুনভাবে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গারা মানবিক সমস্যায় পড়ে এসেছেন। অনেকেই এসেছেন গুরুতর আহত হয়ে। ফলে তাদের ফেরত পাঠানোও খুবই জটিল হয়ে পড়েছে। নতুন আসা রোহিঙ্গারা বিভিন্ন মাধ্যমে খাবারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন।
টেকনাফের বদি মাদকের জন্য বিখ্যাত। এখানে মাদকের সমস্যা দীর্ঘদিনের। নাফনদীর বাংলাদেশের অংশের জালিয়ারদিয়া চরে কিছু অপরাধী ছিল। যারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতো। বর্তমান সরকার আসার পর চর থেকে তাদের বিতাড়িত করা হয়েছে। মাদক পর্যায়ক্রমে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এর জন্য সীমান্তের সব মানুষকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহবান জানান তিনি। মাদক নিয়ন্ত্রণে মসজিদের মাওলানাদের জুমার নামাজসহ বিভিন্ন সময় সচেতনতামূলক প্রচারণনার অনুরোধ জানান তিনি।
নাফনদীতে মাছ ধরা ও গরু আমদানির করিডোর চালু বিষয়ে তিনি বলেন, মিয়ানমার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে। বিভিন্ন সময় গোলাগুলির শব্দ এপারে শোনা যায়। গোলা বারুদও এপারে এসে পড়ে। ফলে নাফনদীতে মাছ ধরা এখন নিরাপদ না। পরিস্থিতির উন্নতি হলে এব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে। গরু আমাদানি বন্ধ থাকায় দেশের খামারীরা খুশি এবং পশু সংকটও নেই। পরিস্থিতির উন্নত হলে উভয়পক্ষের সাথে আলোচনা করেই করিডোরের ব্যাপারে বলা যাবে। এরপর তিনি বিকাল ৪টারদিকে টেকনাফ ত্যাগ করেন। ##
