থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চোলাচালান নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে হতাহত আরো বাড়তে পারে!

gun_fight.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ৭ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। তা আরো বাড়তে পারে। আহত হয়েছেন আরো ১০/১৫জন । এ ঘটনায় অস্ত্রসহ ১জনকে আটক করেছে পুলিশ। ক্যাম্পগুলোতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলছে।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) ভোরে উখিয়ার ১৮ নং ক্যাম্পের ব্লক এইচ-৫২এর জাফরইজ্জা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রথমে পুলিশ ৪ জন নিহত হওয়ার কথা জানালেও পরে ৭ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন ক্যাম্পে দায়িত্বপালনরত ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার খান। সংঘর্ষে নিহত যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন- মো. ইদ্রীস (৩২),বালুখালী-২, ইব্রাহীম হোসেন (২২),বালুখালী-১, আজিজুল হক (২৬),পিতা- নূরুল ইসলাম, ক্যাম্প-১৮, ব্লক-এইস৫২ ও মো. আমীন (৩২ , পিতা-আবুল হোসেন, ক্যাম্প ১৮, ব্লক-এইস৫২।

এ ঘটনায় মুজিবুর রহমান নামে ১জনকে অস্ত্রসহ আটক করেছেন ৮ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার ৮ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এসপি শিহাব কায়সার খান বলেন, ‘কি কারণে দুই গ্রুপ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে অস্ত্রসহ একজনকে আমরা আটক করেছি।’

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ইতোমধ্যে ৬টি মৃতদেহ নিয়ে ক্যাম্প থেকে উখিয়া থানায় উপস্থিত হয়েছেন। আরও একটি মৃতদেহ ক্যাম্প থেকে থানায় আসার পথে। সেগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হবে ময়নাতদন্তের জন্য। এ ব্যাপারে থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে ও জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

এদিকে, হঠাৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় আশপাশের গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান পিপিএম জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।
এদিকে স্থানীয় একাধিক সুত্রের দাবী, আরসা আর আরএসও মতাদর্শী এবং মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালান এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মূলত এই ঘটনার সুত্রপাত।