টেকনাফে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২১ পালিত

received_2088820017937730.jpeg

রোববার বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘অসম বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য’। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিবছর ১০ অক্টোবর নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বে এই দিবসটি পালন করা হয়। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ দিবসটি পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ বিষয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আরও বেশি মনোযোগী হতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে করোনা মহামারির এই বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জনসাধারণের মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আক্রান্ত ব্যক্তি ছাড়াও পরিবারের সদস্য, সমাজের নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের মানসিক স্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন। এই পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হবে। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে টেকনাফ এ মানসিক রোগীদের তহবিল মারোত এর উদ্যোগে উন্নত খাবার বিতরণ, কাপড় বিতরণ ও এক আলোচনা সভা স্থানীয় হাকিম আলী মার্কেট এ সংঘটনের সভাপতি আবু সুফিয়ান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হলো। এতে৷ মানসিক রোগীদের তহবিল মারোত এর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক সন্তোষ কুমার শীল বলেন, দেশে মানসিক ব্যাধির ব্যাপকতা অনেক বেশি। চিকিৎসাসেবা অবহেলিত বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আক্রান্তরা এ রোগে চিকিৎসা পান না। মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিতে সরকারি সুপরিকল্পিত নীতিমালা, প্রশিক্ষিত মনোরোগ চিকিৎসক তথা স্বাস্থ্যকর্মী, অপর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ ও কুসংস্কারজনিত কারণে মানসিক রোগের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। করোনাকালে মানসিক রোগের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ সম্পাদক রাজু পাল এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মারোত কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ঝুন্টু বড়ুয়া, আইটি সম্পাদক মোহাম্মদ হোসাইন আমিরী, অর্থ সম্পাদক আজিম উদ্দিন, মোহাম্মদ মাজেদ, হারুন রশীদ প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে কেউ না কেউ আত্মহত্যায় প্রাণ হারান। আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর অধিকাংশই প্রতিরোধযোগ্য। অধিকাংশ ব্যক্তিই আত্মহত্যার সময় কোনো না কোনো মানসিক রোগে আক্রান্ত থাকেন। সাধারণত সেটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না বা মানসিক রোগ নিশ্চিত হলেও যথাযথ চিকিৎসা করা হয় না বলেই আত্মহত্যা বেড়ে যাচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে আত্মহত্যার এ হার কমিয়ে আনা সম্ভব”।
সভাপতির বক্তব্যে আবু সুফিয়ান বলেন “মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই। শারীরিক সুস্থতার ক্ষেত্রে আপনি যখন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী, তখন আপনার অনেক কর্মশক্তি থাকে এবং আপনি ভালো কাজ করতে পারেন। সেরকম, আপনি যখন মানসিকভাবে সুস্থ, তখনও আপনি পূর্ণ উদ্যমে অনেক ভাল কাজ করতে পারেন”।