উখিয়ায় বন্দুকযুদ্ধে শাহজাহান নিহতের জের ; ডেইলপাড়া করইবনিয়ার শীর্ষ মাদককারবারী জঙ্গলে!

Forest.jpg

মুহাম্মদ হানিফ আজাদ : উখিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় জনপদ ইয়াবা পাচারের নিরাপদ রুট। ডেইলপাড়া ও করইবনিয়ার শীর্ষ ইয়াবা কারবারীরা এখন গ্রাম ছেড়ে জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে। সম্প্রতি বিজিবির সাথে বন্দুক যুদ্ধে ডেইলপাড়া গ্রামের ইয়াবা ডন ছৈয়দ নূরের ছেলে মুহাম্মদ শাহ্জাহান (২৭) নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকার আলোচিত মাদক কারবারীরা এখন জীবন বাঁচাতে গ্রাম ছেড়ে জঙ্গলে রাত কাটাচ্ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এটিএম রশিদ জানান, ডেইল পাড়া ও করইবনিয়া প্রায় ৩৫ শীর্ষ ইয়াবা কারবারী রামরাজত্ব চলছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে শতাধিক ইয়াবা বহনকারী। তারা আরও বলেন, মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে আসা ইয়াবার চালান সীমান্তে মওজুদ রাখা হয়। যেখানে আশ্রয় নিয়েছে মিয়ানমারের বিদ্রোহী জনগোষ্ঠী। পরে বাহক মারফত এসব ইয়াবার চালান ক্যাম্পে পৌঁছে দেয়া হয়। ক্যাম্পে বসবাসকারী ইয়াবার গডফাদার রোহিঙ্গার মাধ্যমে এসব ইয়াবা সারাদেশে সড়ক, জনপদ, আঞ্চলিক ও সমুদ্র পথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনায়াসে পাচার হয়ে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে আইন শৃংখলা বাহীনির হাতে কিছু কিছু ইয়াবা কারবারী ধরা পড়লেও স্থানীয়রা বলছেন মূলত তারা বাহন। টাকার বিনিময়ে ইয়াবা পৌঁছে দেয়াই তাদের একমাত্র কাজ। নেতৃবৃন্দরা বলেন চনুপুটি মেরে কোন লাভ হবেনা, রাঘববোয়াল নামে খ্যাত যারা কোরলপতি, গাড়ী, বাড়ী, জমিজমার মালিক বনে দাপটের সাথে ইয়াবা পাচার করছে আগে তাদের মারতে হবে। তা নাহলে ইয়বা পাচার প্রতিরোধ সম্ভব হবেনা। সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়ান-৮ এপিবিএন এর অস্থায়ী সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এপিবিএন এর কমান্ডিং অফিসার(এসপি শিহাব কায়সার) বলেছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ দমন ও মাদক প্রতিরোধে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। ঐ সংবাদের উপর ভিত্তি করে এপিবিএন এর সদস্যরা কাজ করলে ইনশাআল্লাহ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি ও মাদক প্রতিরোধ, বেচাকেনা, সেবন বন্ধ হবে।বডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রবিবার ভোররাত টেনাফের নাফনদীর তীর ও উখিয়ার ঘুমধুম রেজু অঞ্চলের সীমান্তে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ডেইলাপাড়া গ্রামের একাধিক ইয়াবা মামলার আসামী শাহ্জাহান সহ একজন রোহিঙ্গা নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা স্বীকার করে বলেন, তাদের কাছ থেকে ৩ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা ও ২টি কার্তোজ উদ্ধার করা হয়েছে। কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ বলেন, মাদক প্রতিরোধে ইয়াবা করবারীদের সঠিক তথ্য দেওয়া হলে তাবে পুরস্কৃত করা হবে। তিনি বলেন, করই বনিয়া ও ডেইলপাড়া এলাকায় একাধিক ইয়াবা কারবারীর মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে প্রতিনিয়ত ইয়াবার চালান আসছে, যাচ্ছে ক্যাম্পে, ছড়িয়ে পড়ছে। টেকনাফ-২ বিজিবির কমান্ডার লে. কর্নেল ফয়সাল হাসান খান বলেন, ইয়াবা পাচারের অন্যতম রুট সীমান্তের নাফনদী এখন বিজিবির নিয়ন্ত্রণে। তাই মাদক কারবারীরা রুট পরিবর্তন করে ডেইলপাড়া করই বনিয়া এলাকা দিয়ে ইয়াবা পাচার করছে। বন্দুক যুদ্ধের পর উখিয়ার ডেইলপাড়া ও করইবনিয়া গ্রামের ইয়াবা ডন মো: আব্দুর রহিম মেম্বার, আনোয়ার ইসলাম, ইকবাল, জসিম, শামশুল আলম ও আব্দুল গফুর আতœকে বন জঙ্গলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।