চকরিয়ায় চাষের জমি কেটে মাটি লুট ছড়াখালে বিলীন হচ্ছে ফসলের ক্ষেত : অভিযোগ দায়ের

Chakaria-Picture-04-08-21-1.jpg

এম.জিয়াবুল হক : চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের অদুরে বগাচতর মৌজায় ব্যক্তি মালিকানাধীন ফসলি জমি কেটে মাটি লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল জমি মালিক ও কৃষকদের বাঁধার মুখে ইতোমধ্যে ফসলি জমি কেটে লাখ লাখ ঘনফুট মাটি লুটে নিয়েছে।
এই অবস্থার কারণে বর্তমানে বর্ষামৌসুমের শুরুতেই কেটে নেয়া ওইজমির অংশে ছড়াখালে পরিণত হয়েছে। তাতে অবশিষ্ট থাকা জমির (ধানক্ষেত) ফসলও সৃষ্ঠ ছড়াখালে বিলীন হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী জমি মালিকরা। এব্যাপারে ভুক্তভোগী জমি মালিকপক্ষ উচ্চ আদালতে (হাইকোটে) রিট মামলা করলেও করোনাকালীন সময়ে মামলার শুনানী না হওয়ার সুযোগে অভিযুক্ত মহলটি আবারও সেখান থেকে জমি কেটে মাটি লুটের চেষ্ঠা চালাচ্ছে।
এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী প্রতিকার চেয়ে সর্বশেষ ৩ আগস্ট চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রেজাউল কবির চৌধুরী নামের ভুক্তভোগী এক জমি মালিক। বাদি রেজাউল কবির উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মাইজপাড়া গ্রামের মরহুম এনামুল হক চৌধুরীর ছেলে। আর অভিযোগটিতে বিবাদি করা হয়েছে সাতজনকে। তাঁরা হলেন একই ইউনিয়নের বাসিন্দা সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল এহেছান চৌধুরী, তাঁর ভাই মাইদুল এহেছান চৌধুরী, সহযোগি সজিব, রেজাউল ওরফে সোনা মিয়া, নেজাম উদ্দিন, বদিউল আলম ও জিয়াউল করিম।

ইউএনও’র দপ্তরে দায়েরকরা লিখিত অভিযোগে জমি মালিক রেজাউল কবির চৌধুরী দাবি করেন, ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বগাচতর মৌজার বিএস ৬২ খতিয়ানের কিছু জমি নিয়ে বিবাদিপক্ষের সঙ্গে তাদের বিরোধ আছে। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলাও হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্তরা করোনা সময়ে আদালতের কার্যক্রম ধীরগতি হচ্ছে দেখে কৌশলে প্রভাব দেখিয়ে আমাদের পৈত্রিক জমি কেটে লাখ লাখ ঘনফুট মাটি লুটে নিয়ে গেছে। এখনো তাঁরা উল্লেখিত খতিয়ানের ৭০০, ৭০১, ৭০২ ও ৫৮৪ দাগের আমাদের জমি থেকে মাটি লুটের জন্য অপচেষ্ঠা চালিয়ে আসছে।
ভুক্তভোগী জমি মালিক অভিযোগ তুলেছেন, বর্তমানে বর্ষামৌসুমের শুরুতেই কেটে নেয়া ওইজমির অংশে ছড়াখালে পরিণত হয়েছে। তাতে অবশিষ্ট থাকা জমির (ধানক্ষেত) ফসলও সৃষ্ঠ ছড়াখালে বিলীন হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ঠ হচ্ছে, তেমনি অপরদিকে আমাদের জমির শ্রেণী পরিবর্তন হচ্ছে। এই অবস্থায় আমাদের অপুরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।
বিষয়টি প্রসঙ্গে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ সামসুল তাবরীজ বলেন, ডুলাহাজারা ইউনিয়নের সাফারি পার্ক লাগোয়া বগাচতর এলাকা থেকে পাহাড় ও আবাদি জমি কেটে মাটি লুটের ঘটনায় সত্যতা পেয়ে ইতোপুর্বে সেখানে অভিযান পরিচালনা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মাটিভর্তি ডাম্পার ট্রাক জব্দ করে জরিমানাও করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আদালতের অভিযানের পর সেখানে মাটি কাটা বন্ধ ছিল। তবে নতুনভাবে ভুক্তভোগী জমি মালিক বাদি হয়ে দায়েরকরা লিখিত অভিযোগের আলোকে তদন্তসাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় এলাকাবাসি জানিয়েছেন, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী একাধিক চক্র উন্নয়ন প্রকল্পের অজুহাতে গেল ছয়মাস ধরে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কসংলগ্ন বেশ কিছু পাহাড় এবং চাষের জমি কেটে অন্তত শতকোটি টাকার মাটি লুটে নিয়েছে। জড়িতরা বেশিরভাগই সরকারি দলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। সেইকারণে পাহাড় টিলা ও চাষের জমি লুটের মহোৎসব চালালেও তাদের বিরুদ্ধে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা বনবিভাগ এই পর্যন্ত কার্যকর কোনআইনী পদক্ষেপ নেয়নি।
এই সুযোগে প্রভাবশালী চক্রের লোকজন এলাকার কিছু কিছু মালিকদের কাছ থেকে জমিবর্গা নিয়ে শক্তিশালী স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে লুটে নিয়েছে। তাতে আবাদি জমি শ্রেণি পরিবর্তনের কারণে পুকুরে পরিণত হয়েছে। এই অবস্থায় মাটি লুটের আশপাশের অন্তত হাজার একর চাষের জমি ভেঙে ছড়াখালে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে চাষের জমি রক্ষা করতে চরম হিমশিম খাচ্ছেন ভুক্তভোগী জমি মালিক ও চাষিরা। ##