এমপি জাফরকে অব্যাহতির প্রতিবাদে চকরিয়ায় ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ মহাসড়ক অবরোধ, যানবাহন চলাচল বন্ধ

Snapshot_27.png

নিজস্ব প্রতিবেদক,চকরিয়া :
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলমকে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সাথে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সরওয়ার আলমকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুন) জেলা আওয়ামী লীগের জরুরী সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তাঁর আগে গত ৮ জুন চকরিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী ও চকরিয়া পৌরসভার নৌকার মনোনীত মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র আলমগীর চৌধুরী উপর হামলা ও দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গের অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জরুরী সভায় জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
জানা যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত ৮ জুন মঙ্গলবার জেলা আওয়ামী লীগ তাঁকে বহিষ্কার করে। এ ঘটনার জের ধরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে একপক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছেন কক্সবাজার-১ আসনের সাংসদ জাফর আলম। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার চিংড়ি চত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে সাংসদ ধাক্কাধাক্কিতে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অব্যাহতি পাওয়া চকরিয়া পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘নৌকা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী আলমগীর চৌধুরীর পক্ষে চকরিয়া সড়ক বিভাগের ডাক বাংলাতে নির্বাচনী সভা করায় আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।’ এখন জেলা আওয়ামী লীগ বলছে, আমি নৌকা প্রতীকের বিরোধিতা করছি। এটা একটা হাস্যকর কথা।
তিনি বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগ অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে আমাকে এখন পর্যন্ত জানায়নি বা অব্যাহতি দেওয়ার আগে শোকজ নোটিশও দেয়নি। আমি অব্যাহতির ব্যাপারটি নিয়ে স্পষ্ট নই।’
এমপি জাফরকে অব্যাহতির প্রতিবাদে চকরিয়ায়
বিক্ষোভ, মহাসড়কে অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ
এদিকে বৃহস্পতিবার ১০ জুন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের জরুরী সভায় কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলমকে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার খবরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতা।
বৃহস্পতিবার রাত দশটার দিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মহাসড়কের দুইপাশে যানবাহন চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। জয় বাংলা শ্লোগান ও জাফর ভাইয়ের কিছু হলে মুহুর্মুহ শ্লোগানে মহাসড়কের একাধিক স্থানে মহাসড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে এবং লাঠিসোটা হাতে নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ মহাসড়ক থেকে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সরিয়ে দিতে গেলেও তারা পিছু হটে।
প্রসঙ্গত গতকাল বিকেলে সংসদ সদস্য জাফর আলমকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে মর্মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে জাফর আলমের নির্বাচনী এলাকা চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনতা রাস্তায় নেমে এসে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে।
চকরিয়া উপজেলার বিভিন্নস্থানে মহাসড়ক অবরোধ করার সত্যতা নিশ্চিত করে চকরিয়া থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, ‘মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার প্রায় ৩৯ কিলোমিটার মহাসড়কের একপ্রান্তের আজিজনগর এবং অপরপ্রান্তের খুটাখালী পর্যন্ত কিছুদূর পর পর অসংখ্য ব্যারিকেড দেয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা।’ ওসি বলেন, ‘অল্পসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়ে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন।
চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগ সিন্ডিকেট নির্ভর রাজনীতি করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। এরই অংশ হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের বলয়ের নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে অগণতান্ত্রিক পন্থায় ও অন্যায্য সিদ্ধান্তের আলোকে বিএনপি-জামায়াত ও আগুন সন্ত্রাসীদের আতঙ্ক এমপি জাফর আলমকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন মর্মে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপরেই দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতা রাস্তায় নেমে এসেছে।
অপরদিকে চকরিয়া পৌরশহরে বিক্ষোভ চলাকালে রাত সাড়ে দশটার দিকে উপস্থিত হন সাংসদ জাফর আলম। ওইসময় তিনি ক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, দলীয় সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। গঠনতন্ত্রপরিপন্থী সিদ্ধান্ত আমরা মানি না। গাদ্দারি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা লড়ে যাব।
তিনি বলেন, সাবধান হয়ে যান। হয় আমি থাকব, না হয় মুজিব থাকবে। আর ছাড় দেয়া হবে না। জীবন দিয়ে হলেও আমরা রাজপথে থাকব। দলের জন্য আমি জেল জুলমের শিকার। প্রধানমন্ত্রী আমাকে যে সিদ্ধান্ত দিবেন, তা মেনে নেব।##