টেকনাফে হঠাৎ ইয়াবার আগ্রাসন বৃদ্ধি ; ফের নেতৃত্ব দিচ্ছে আত্নস্বীকৃত ইয়াবা কারবারীরা

yaba.jpg

রহমত উল্লাহ : সীমান্ত জনপদ টেকনাফে কঠোর লকডাউন এবং বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। দেমনি বাড়ছে সংক্রমণের ভীতিও। কিন্তু করোনার এই দুর্যোগকালেও বসে নেই মাদক কারবারিরা। কিন্তু টেকনাফে হঠাৎ ইয়াবার আগ্রাসন বেড়ে যাওয়ার কারণ আত্নস্বীকৃত ইয়াবা কারবারী সিন্ডিকেট ।

সাগরপথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ির টহল জোরদার করার পর ও মিয়ানমার থেকে আসছে ইয়াবার বড় বড় চালান।প্রতিনিয়ত আটকও হচ্ছে ইয়াবার চালান। সম্প্রতি সময়ে গত এপ্রিল মাসে বিজিবির অভিযানে আসামীসহ ২ লাখ৩৪ হাজার ১ শত ৭২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। মালিকবিহীন ৬ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেছে।

টেকনাফ মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ১৬ টি পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা পাচারের নতুন ঘাট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিবেশী দেশে সামরিক শাসন জারী থাকায় শাসক দলের সাথে সখ্যতার সুযোগে অনেকে মাদক পাচারের মতো জঘন্য কাজে লিপ্ত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টেকনাফের ৫টি ইউনিয়নে মাদক পাচারের নিরাপদ ১৬ টি পয়েন্ট রয়েছে। টেকনাফ সদর ইউনিয়নে রয়েছে মহেশখালী পাড়া ঘাট,নাজির পাড়া ঘাট, মৌলভী পাড়ার ঘাট।বাহারছড়া ইউনিয়নে রয়েছে। নোয়াখালী পাড়া ঘাট,শামলাপুর বব ডেইল ঘাট। হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলিক বাজার,হোয়াক্যং ইউনিয়নে লম্বাবিল ঘাট, চোধুরী পাড়া ঘাট।
সাবরাং ইউনিয়নের খুরের মুখ,আলীর ডেইল, মুন্ডার ডেইল, নয়া পাড়া, কচুবনিয়া ঘাট। শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিম পাড়া, ঘোনারপাড়া, মাঝের পাড়া,জালিয়া পাড়াসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার কোনো না কোনো পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবার বড় বড় চালান প্রবেশ করে। আর এর নেতৃত্বে রয়েছেন আত্নস্বীকৃত ইয়াবা কারবারির সদস্য ও প্রভাবশালীরা।

অন্যদিকে নৌপথে মাদকের বড় বড় চালান আসছে, কিন্তু শতকরা ২ ভাগও ধরা পড়ছে না। এদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক সোর্স আছে।

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর বলেন,স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একশ্রেণির কর্মকর্তা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। নইলে প্রতিটি ওয়ার্ড ও গ্রামে মাদক পাওয়া যায় কীভাবে? স্থানীয় একশ্রেণির রাজনৈতিক নেতাকর্মী মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন প্রকাশ্যে। মোটা অঙ্কের টাকা মাসে উেকাচ পান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একশ্রেণির সদস্য। আরা যারা জামিনে বাহির হয়ে এল তারা এখন পুরো দমে ইয়াবা ব্যবসা শুরু করেছে। এই অবস্থা হলে টেকনাফে আবার ভয়াবহ রুপ নিবে বলে মনে করি। আরেকটি কথা দীর্ঘদিন স্কুল কলেজ বন্ধ থাকার কারণে কিছু ছাত্র এই ব্যবাসায় জড়িয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো কঠোর হতে হবে।

টেকনাফ র‌্যাব-১৫এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিমান চন্দ্র কর্মকার জানান,, ‘র‌্যাব টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প বিভিন্ন এলাকায় অভিযান জোরদার করেছে। প্রতিনিয়ত বড় বড় চালান আটক হচ্ছে। তবে সাগর উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও বাড়তি নজর রাখছে র‌্যাব।’

টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘টেকনাফের প্রত্যেক এলাকায় পুলিশের অভিযান চলছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে যে সকল ব্যবসায়ীর কথা বলা হচ্ছে, সেই তথ্য আমাদের কাছে অবশ্যই আসবে।’
অভিযান চলমান রয়েছে, সে ধরনের অভিযান উপকুলীয় এলাকাগুলোতেও চালানো হবে। ইয়াবার বিস্তার যেকোনো মূল্যে ঠেকাতে চাই পুলিশ।’