সীমান্ত বন্ধের সময়োচিত সিদ্ধান্ত

sompadokio-1.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : সম্প্রতি ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া রাজ্যের রাজধানী পার্থে একজনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তিন দিনের লকডাউন জারি করেছে রাজ্য সরকার। স্থানীয় লোকজনের মধ্যে সংক্রমণ ঠেকাতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী। পার্থে এ লকডাউনের ফলে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে রাজ্যটির। মাত্র একজনের করোনা শনাক্ত হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার এই লকডাউন পদক্ষেপকে অতিসতর্ক অবস্থা বলা হলেও করোনার ভয়াবহতা ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়া রোধে এটি কার্যকর বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এর আগেও রাজ্যগুলোর সীমান্ত দীর্ঘদিন বন্ধ রেখেছিল অস্ট্রেলিয়া। আর এতে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে রোধ করতে পেরেছে দেশটি। অন্য দেশগুলোও সীমান্ত বন্ধের নানা পদক্ষেপ নিয়ে সুফল পেয়েছে। মনে রাখতে হবে, পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার সক্ষমতা যেকোনো প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলায় সহায়ক।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেওয়ায় দেশটির সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার থেকে স্থলপথে চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এই ঘোষণা ১৪ দিনের জন্য বলবৎ থাকবে। এমন সিদ্ধান্ত সময়োচিত বলেই বিবেচিত হচ্ছে বিশেষজ্ঞ মহলে। করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার প্রেক্ষাপটে এর আগে থেকেই দেশটির সঙ্গে আকাশপথে চলাচলও বন্ধ হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত, সীমান্ত খোলা থাকলে দেশে দ্রুত ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ঢুকে পড়তে পারে। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ঢুকলে পরিস্থিতি খারাপ হবে। স্বাস্থ্য খাত চরম ঝুঁকিতে পড়বে।

১৪ দিনের জন্য সীমান্ত বন্ধ করা হলেও সে দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা যথাযথ অনুমোদন সাপেক্ষে বেনাপোল, আখাউড়া ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে তাদেরকে ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। ভারতে শনাক্ত করোনাভাইরাসের একটি ভ্যারিয়েন্ট বা ধরন এখন সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন। এখনো জানা যায়নি কভিডের এই ভ্যারিয়েন্ট কতটা ছড়িয়ে পড়েছে এবং ভারতে এখন সংক্রমণের যে ভয়াবহ ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ চলছে, তার জন্য নতুন শনাক্ত এই করোনাভাইরাস কতটা দায়ী। ভারতের রাজধানী দিল্লির হাসপাতালগুলোয় কভিড রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তে নজরদারি জোরদার করতে হবে। সেখান থেকে আসা রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে আলাদা করে। পাশাপাশি পণ্যবাহী যানবাহনগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢুকতে দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট ড্রাইভার ও হেলপারদের করোনা প্রটোকল মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি জনসাধারণকে সামগ্রিক পরিস্থিতি বোঝাতে হবে। জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি না করলে কোনো পদক্ষেপই কাজে আসবে না। কাজে যে আসবে না, তার প্রমাণ যশোর জেনারেল হাসপাতাল। ভারত থেকে কভিড-১৯ পজিটিভ হয়ে আসা ১০ জন বাংলাদেশি রোগী যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে রবিবার পালিয়ে গিয়েছিলেন। পালিয়ে যাওয়া ১০ ব্যক্তি সাতক্ষীরা, রাজবাড়ী, খুলনা এবং যশোর জেলার বাসিন্দা। ওই ১০ জন যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। দেশে প্রবেশের সময় তারা সবাই কভিড-১৯ পজিটিভ ছিলেন। তাদের ফেরানো গেলেও এই পলায়ন বলে দিল, হাসপাতালে কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর পাহারা বা নজরদারির জন্য আলাদা কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেই।

ভারতে দিনে গড়ে কয়েক লাখ মানুষ নতুন করে সংক্রমিত হচ্ছেন। সবশেষ সোমবার এক দিনেই সাড়ে তিন লাখের বেশি আক্রান্ত মানুষ শনাক্ত হয়েছেন। এখন, হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়া রোগীরা যদি তাদের পরিবার ও এলাকায় ফিরে যায় তাহলে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টা এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। যারা ভারত থেকে ফিরে আসছেন তাদের মাধ্যমেই বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরনটি ছড়াতে পারে, এমন আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও সীমান্তে আগত মানুষের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। তাই শুধু ১৪ দিনের সীমান্ত বন্ধ ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকলে হবে না, এটির সর্বোচ্চ সুফল পেতে কাজ করতে হবে। সেজন্য সীমান্তরক্ষী, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা খাতের সংশ্লিষ্টদের সচেষ্ট থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সরকার সীমান্ত বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে। এখন তা যথাযথ পালনে সকলের সর্বাত্মক সহযোগী মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। ইতিমধ্যে চলমান ‘কঠোর বিধিনিষেধ’-এর মেয়াদ বৃদ্ধি করে ৫ মে পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।