চকরিয়ায় আদালত ভবনের সামনে জায়গা দখলে মুখোশ পরিহিত অস্ত্রধারীদের তান্ডব ; সীমানা প্রাচীর ভাংচুর-বাড়িতে হামলা

Chakaria-Picture-27-04-2021.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া উপজেলা পরিষদস্থ আদালত ভবনের সামনে খতিয়ানভুক্ত ব্যক্তিগত জায়গা জবরদখলে মুখোশ পরিহিত অস্ত্রধারীরা তাÐব চালিয়েছে। এসময় রাতের আঁধারে জমির সীমানা প্রাচীর ভাংচুর করেছে। ঘটনার সময় বাঁধা দিতে গেলে জমি মালিকের বাড়িতেও হামলা চালিয়েছে অস্ত্রধারীরা। এতে বাড়ির বেশ কটি কাচের জানালা ভেঙ্গে গেছে। উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের সামনে হাজারিকা বিল্ডিংয়ের পাশে ঘটেছে জমি দখলচেষ্ঠার এ ঘটনা।
এদিকে জমি দখলে হামলা ও তাÐবের ঘটনায় জমি মালিক মোহাম্মদ ইসমাইল ও তাঁর স্ত্রী জেবুন্নেছা বেগম বাদি হয়ে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি এমআর মামলা (নং ৯৫০/২০২১) দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে চকরিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাহারিয়াঘোনা গ্রামের মৃত আবদুল খালেক সিকদারের ছেলে সাবেক পৌর কমিশনার জসিম উদ্দিন, সহযোগি বিনামারা গ্রামের মৃত ছমি উদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোছাইন, জসিম উদ্দিনের ভাই এমরানুল এহছান, হেলাল উদ্দিন, রায়হান উদ্দিন ও ভরামুহুরী এলাকার মৃত নেছার আহমদের ছেলে নুরুল ইসলামসহ ৬জনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদির ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৪ ধারার আবেদন আমলে নিয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো.আমিন আল পারভেজ মামলার শুনানী শেষে বিবাদিপক্ষকে উল্লেখিত জমিতে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। একইসঙ্গে আদালত উল্লেখিত জমির ব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে চকরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনারকে (ভুমি) ও জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে চকরিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
এদিকে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি এবং খতিয়ানভুক্ত নিজেদের জমি রক্ষায় প্রশাসনিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়ে গতকাল চকরিয়া হাজারিকা বিল্ডিংয়ের নিজবাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জমি মালিক মোহাম্মদ ইসমাইল।
সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী মৌজার মুল বিএস খতিয়ান নং ৫৯ থেকে সৃজিত বিএস ৮৭৫ এবং বিএস ১৬৪৯ খতিয়ানের বিএস ৬২৫ দাগের মোট ৩০ দশমিক ২৬ শতক বা ৯০ দশমিক ৭৬ কড়া জমির মালিক তিনি ও তাঁর পরিবার। উল্লেখিত জমির আগের মালিক আবদুল বারী ও বরকত আলী থেকে ১৯৭৯-৮২ সনে তিন কিতা কবলায় ২০দশমিক ২৬ শতক এবং ২০০৫ সনে স্ত্রী জেবুন্নেছা বেগমের নামে ৬২৮৬নং কবলামুলে ১০শতকসহ মোট ৩০ দশমিক ২৬ শতক জমি ক্রয় করেন মোহাম্মদ ইসমাইল ও তাঁর পরিবার। পরবর্তীতে উল্লেখিত জমির বিপরীতে আলাদা খতিয়ানও সৃজিত হয়েছে। সেই থেকে জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে বৈধভাবে ভোগদখলে রয়েছেন জমি মালিক মোহাম্মদ ইসমাইল।
ভুক্তভোগী জমি মালিক মোহাম্মদ ইসমাইল অভিযোগ করে বলেন, উল্লেখিত ৩০ দশমিক ২৬ শতক জমি ক্রয় করে তাঁর পরিবার বৈধভাবে ভোগদখলে থাকলেও সম্প্রতি সময়ে দুর্লোভের বশবর্তী হয়ে আসামিপক্ষের লোকজন তাঁর ক্রয়কৃত খতিয়ানভুক্ত ওই জমি দখলে নানাধরণের অপচেষ্ঠা চালাতে শুরু করে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে অভিযুক্তদের নিয়ে স্থানীয়ভাবেও সমঝোতা বৈঠকের চেষ্ঠা করেন ভুক্তভোগী জমি মালিক ইসমাইল। কিন্তু স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জমির স্বপক্ষে অভিযুক্তরা দালিলিক কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তাতে ক্ষুদ্ধ হন অভিযুক্তপক্ষের মুলহোতা সাবেক কমিশনার জসিম উদ্দিন। এমনকি বৈঠকে বিচার অগ্রাহ্য করে হুমকি দেন বৈধ কাগজ না থাকলেও তিনি পেশিশক্তির দাপটে উল্লেখিত জমি দখল করবেন।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, বৈঠকে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ প্রতিপক্ষের উপস্থিত হুমকির প্রেক্ষিতে জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠায় আমাকে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। এরই প্রেক্ষিতে গত ৫ এপ্রিল কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে অভিযুক্তপক্ষের ৬জনকে বিবাদি করে একটি এমআর মামলা দায়ের করি। বিষয়টির আলোকে চকরিয়া থানা পুলিশ বিবাদিপক্ষকে নোটিশ দিয়ে উল্লেখিত জমিতে প্রবেশ না করতে বারণ করেন।
আদালতের দ্বারস্থ হবার খবর শুনে অভিযুক্তপক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ২৫ মার্চ রাত আনুমানিক দুইটার দিকে মুখোশ পরিহিত একদল অস্ত্রধারী হামলা চালায় জমি জবরদখলের জন্য। ওইসময় তাঁরা জমিতে অনাধিকার প্রবেশ করে ব্যাপক তাÐব চালিয়ে একাধিক সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। ঘটনাটি জানতে পেরে গভীর রাতে আমরা বাড়ি থেকে বের হয়ে তাদেরকে বাঁধা দিতে যাই। ওইসময় অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা আমাদেরকে প্রাণে হত্যার ভয় দেখালে বাধ্য হয়ে আমরা বাড়ি চলে আসি। এরপর ঘটনাটি জানিয়ে পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ৯৯৯ এ ফোন করলে পুলিশের উপস্থিতি আঁচ করতে পেরে অস্ত্রধারীরা আমার বাড়িতে ব্যাপক ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে আমার বাড়ির বেশ কটি জানালার কাচঁ ভেঙ্গে যায়।
জমি মালিক মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ঘটনার বিষয়টি ৯৯৯ ফোনে জানানোর পর রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে চকরিয়া থানার এসআই মাইন উদ্দিন সুমনের নেতৃত্বে পুলিশের একটিদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ওইসময় পুলিশ দেখে হামলাকারী অস্ত্রধারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এসআই মাইনউদ্দিন সুমন তাঁর মোবাইল ফোনে ঘটনাস্থলের তাÐব চিত্র সংরক্ষন করেন এবং ফজরের আজান পর্যন্ত পুলিশদল ঘটনাস্থলে পাহারা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে জমি মালিক মোহাম্মদ ইসমাইল অভিযোগ করেন, বর্তমানে অভিযুক্ত দখলবাজ চক্রের লোকজন আদালতের আদেশ অমান্য করে জমি দখলের চেষ্ঠা চালাচ্ছে। এছাড়াও তাকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে দায়েরকৃত এমআর মামলাটি তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। মামলাটি তুলে না নিয়ে স্বপরিবারে হত্যা করবে বলেও বিভিন্নস্থানে বলাবলি করছে। এমনকি একাধিক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তিনি এবং পরিবার সদস্যদেরকে হয়রাণির পাশাপাশি এলাকা ছাড়া করতে বলেও ভীতি ছড়াচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
চকরিয়া কোট সেন্টার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসমাইল দাবি করেন, জমি দখলচেষ্ঠার নাটের গুরু সাবেক কমিশনার জসিম উদ্দিন একজন চিহিৃত দখলবাজ। তার বিরুদ্ধে চিংড়িজোনের জমি দখল থেকে শুরু করে নানাধরণের একাধিক অভিযোগও আছে। ২০০৭ সালে তত্তাবধায়ক সরকারের আমলে চকরিয়া উপজেলায় প্রথম সেনাবাহিনীর হাতে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন কমিশনার জসিম উদ্দিন। সেই থেকে তিনি সময়ে সময়ে ভোল্ড পাল্টিয়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রতাপশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় অধ্যবদি অনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন।##