শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্কের সম্ভাবনা

abdul-momen.jpg

ড. এ কে আবদুল মোমেন : অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিক থেকে শ্রীলঙ্কা বহুকাল ধরেই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্ধুরাষ্ট্র। বিভিন্ন সময়ে উভয় দেশ একে অপরের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় সঙ্গী হয়েছে অতীতে। বর্তমানেও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের বাংলাদেশ সফর এ অর্থনৈতিক সম্পর্কের উচ্চতাকে আরও বৃদ্ধি করেছে। একই সঙ্গে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে উভয় দেশের আন্তঃবাণিজ্যের ক্ষেত্রে। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আগমন একদিকে বাংলাদেশকে যেমন সম্মানিত করেছে, অন্যদিকে বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনাও উন্মোচন করেছে। উভয় দেশের মধ্যে এ সময় বিভিন্ন রকম বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা থেকে শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশ উভয় দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত দশ দিনব্যাপী ‘মুজিব চিরন্তন’ শিরোনামের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে গত ১৯ মার্চ, ২০২১ রাষ্ট্রীয় সফরে এসেছেন বাংলাদেশে। গত বছর আগস্টে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তার প্রথম বিদেশ সফর। করোনাকালে এ সংকটময় সময়েও বাংলাদেশের আমন্ত্রণে এ দেশে এসেছেন তিনি। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মতো আনন্দঘন আয়োজনে তাকে পেয়ে বাংলাদেশ সত্যিই সম্মানিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনার মাধ্যমে স্বাগত জানিয়েছেন তাকে। পরে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতা’ দেন।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে আগত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উভয় দেশের মধ্যে ছয়টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। কৃষি, যুব উন্নয়ন ও কারিগরি শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক জোরদারে স্বাক্ষরিত হয়েছে এ ছয়টি সমঝোতা স্মারক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসব চুক্তিতে সই করেন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে যুব উন্নয়ন জোরদারে সহযোগিতা, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদ (বিএআরসি) ও শ্রীলঙ্কার কাউন্সিল ফর এগ্রিকালচারাল রিসার্চ পলিসির (এসএলসিএআরপি) মধ্যে সমঝোতা স্মারক, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও শ্রীলঙ্কার টারশিয়ারি অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন কমিশনের (টিভিইসি) মধ্যে কারিগরি দক্ষতা বিনিময়ে সমঝোতা স্মারক।

এ ছাড়া শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণে সহায়তা, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ও লক্ষ্মণ কাদিরগামা ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মধ্যে সহযোগিতা এবং ২০২১-২৫ মেয়াদে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সাংস্কৃতিক কর্মসূচি বিনিময় সমঝোতা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ও শ্রীলঙ্কার রুরাল হাউজিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড বিল্ডিং ম্যাটেরিয়াল ইন্ডাস্ট্রিজ মন্ত্রী ইন্দিকা অনুরাধা যুব উন্নয়ন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। বিএআরসি ও এসএলসিএআরপির মধ্যে সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক ও শ্রীলঙ্কার বাটিক, হ্যান্ডলুম ফেব্রিকস অ্যান্ড লোকাল অ্যাপারেল প্রোডাক্ট মন্ত্রী দয়াশ্রী জয়সেকারা। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও শ্রীলঙ্কার টিভিইসির মধ্যে কারিগরি দক্ষতা বিনিময়ে সমঝোতা স্মারকে সই করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শ্রীলঙ্কার শিক্ষামন্ত্রী প্রফেসর জিএল পেইরিস। শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণে সহায়তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও শ্রীলঙ্কার মানি অ্যান্ড ক্যাপিটাল মার্কেট অ্যান্ড স্টেট এন্টারপ্রাইজ সংস্কার প্রতিমন্ত্রী আজিথ নিভ্রাদ কাবরাল। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এবং লক্ষ্মণ কাদিরগামার ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মধ্যে সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও শ্রীলঙ্কার আঞ্চলিক সহযোগিতা মন্ত্রী থারাকা বালাসুরিয়া এবং ২০২১-২৫ সাল মেয়াদে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সাংস্কৃতিক কর্মসূচি বিনিময়ে সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব বদরুল আরেফিন ও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর সচিব গামিনি সেদারা সেনার্থ। এসব চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকভাবে একে অপরের প্রতি সহযোগিতার আশ্বাস ব্যক্ত করেছেন। এ চুক্তিগুলো বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার চলমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী ফল বয়ে আনবে।

মূলত যে ছয়টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে মাহিন্দা রাজাপাকসের এবারের সফরে, এর মধ্যে পাঁচটি হয়েছে নবায়ন এবং একটি নতুন স্মারক। যে পাঁচটি চুক্তি নবায়ন হয়েছে, সেগুলো প্রতিটি মাহিন্দা রাজাপাকসে যখন প্রেসিডেন্ট তখনকার আমলে সই করা। এ চুক্তিগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা উভয় দেশই লাভবান হবে। উভয় দেশের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক ও আন্তঃবাণিজ্যের দ্বার আরও প্রশস্ত হবে। অর্থনৈতিক সম্পর্কও লাভ করবে নতুন গতি।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরকালে দুদেশের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কলম্বোয় বোমা হামলার বিষয়টি শ্রীলঙ্কার পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমরা তাদের জানিয়েছি, সব ধরনের সন্ত্রাস দমনে আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছি। সন্ত্রাস দমনে শ্রীলঙ্কার পাশে আছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করবে। এ ছাড়া সমুদ্র নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ করে অস্ত্র, মাদক ও মানব পাচার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে উভয় দেশ একত্রে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। শ্রীলঙ্কানরা বিশ্বাস করে যোগাযোগই এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশের সঙ্গে কোস্টাল শিপিং চুক্তি নিয়ে তারা মোটামুটি রাজি রয়েছে। কোস্টাল সার্ভিস চালু হলে একাধিক সুযোগ-সুবিধা তৈরি হবে। আকাশপথে যোগাযোগ বাড়ানোর কথাও আলোচনায় স্থান পেয়েছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে উন্নয়নের অভিযাত্রায় বাংলাদেশকে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করোনা নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতির ওপর করোনার বৈরী প্রভাব মোকাবিলা করে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে উত্তরণের সব মানদ- সফলভাবে পূরণ করায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের এ অর্জন ও অগ্রগতিকে তারা সাধুবাদ জানিয়েছেন। সার্ক কোভিড-১৯ জরুরি তহবিলের আওতায় শ্রীলঙ্কায় সহায়তা পাঠানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকসে।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকসের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এ বৈঠকে উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক দিক গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষত বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিবিধ অঙ্গনে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সংহত করতে ফরেন অফিস কনসালটেশনস, বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠক ও বিভিন্ন জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপসহ বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোসমূহের অধিকতর সক্রিয়করণের বিষয়ে এবং বিস্তৃত পরিসরে সহযোগিতার বলয় সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দুদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে Joint Commission for Comprehensive Cooperation প্রতিষ্ঠায় দুই প্রধানমন্ত্রী সম্মত হয়েছেন। এ সম্মতি দুদেশকেই সুসম্পর্ক ও উন্নয়নের সুফল এনে দেবে।

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত সম্ভাবনার তুলনায় বাণিজ্য অগ্রগতি এখনো কাক্সিক্ষত পর্যায়ে পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি। এ কারণে উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে দুই নেতা গুরুত্বারোপ করেছেন। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনে আগ্রহী বাংলাদেশ। এর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষর প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দুই পক্ষই সম্মত হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে শিপিং কানেকটিভিটির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বৈঠকে চট্টগ্রাম-কলম্বো ফিডার সার্ভিস পরিচালনা এবং উপকূলীয় জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে দুদেশ একমত হয়েছে। এ ছাড়া, দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, দ্বৈত কর পরিহার ও কাস্টমস সহযোগিতার বিষয়ে দ্রুত চুক্তি সম্পাদনেরও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে উৎপাদিত অত্যন্ত গুণগত মানসম্মত বিভিন্ন ওষুধ আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হচ্ছে। শ্রীলঙ্কার বাজারেও বাংলাদেশ ওষুধ রপ্তানিতে আগ্রহী। বাংলাদেশ থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে গুণগত মানসম্পন্ন ওষুধপণ্য অধিক পরিমাণে আমদানির জন্য শ্রীলঙ্কার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। এ সময় ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য আমদানি করতে শ্রীলঙ্কাকে আহ্বানের পাশাপাশি শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে শ্রীলঙ্কার বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতেও আহ্বান জানিয়েছেন। বিনিয়োগ ও বাণিজ্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে বাংলাদেশ মৎস্য, কৃষি, বিশেষত ধান উৎপাদন, জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও আইটি সেক্টরে শ্রীলঙ্কাকে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ সহযোগিতা দেবে। অন্যদিকে, সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ ও নার্সিং সেক্টরে শ্রীলঙ্কা থেকে সহযোগিতা পেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

দক্ষিণ এশিয়ান দেশ হিসেবে শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের জন্য সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্ধুরাষ্ট্র। উভয় দেশের মধ্যে বর্তমানে যে সম্পর্ক বিরাজ করছে, মাহিন্দা রাজাপাকসের এবারের সফরের কারণে সেই সম্পর্ক আরও ভিন্নমাত্রায় উন্নীত হবে। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বৃদ্ধি পাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে চলমান সহযোগিতার সম্পর্ক আরও শক্ত হবে। রোহিঙ্গা ইস্যুর বিস্তারিত প্রেক্ষাপট, পরিস্থিতি ও প্রত্যাবাসন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করে এই ইস্যুতে বাংলাদেশকে সমর্থন ও সহযোগিতা দেওয়ার জন্য শ্রীলঙ্কাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারা বাংলাদেশের পাশে আছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার আন্তঃসম্পর্ক, আন্তঃবাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের সার্বিক উন্নয়নই হবে প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকসের এবারের সফরের সুফল।

লেখক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার