বৃক্ষনিধন ও এর প্রভাব

tree-1.jpg

কামাল হোসাইন : বৃক্ষনিধন হলো কৃষিকাজ, বাণিজ্যিক, আবাসন বা অন্যান্য উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে গাছপালা ধ্বংস করা বা সরিয়ে ফেলা। আমরা সারা বিশ্বে বৃক্ষনিধনের ভয়ংকর পরিণতির সম্মুখীন। সমুদ্রস্তর উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জীব বৈচিত্র ভয়ানকহারে ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে। কিন্তু কিছু লোভী ব্যক্তি এখনো নির্বিচারে গাছপালা কাটছে। সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য হাজার হাজার গাছ কাটায় আমাদের এলাকার একটা বিরাট অঞ্চল বিরান হয়ে গেছে। বন্যা ও নদী ভাঙ্গন বাংলাদেশের মানুষের নিত্য সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিডরের মতো কয়েকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি উর্বরতা হারিয়েছে কেননা লবণাক্ত পানি ওইসব জমি প্লাবিত করেছে। বর্ষাকালে অবিরাম বৃষ্টিপাত হতে থাকে। তাছাড়া প্রতিবছর শৈত্যপ্রবাহ এবং দাবদাহের ফলে অনেক মানুষ মারা যায়। আবার ঋতুচক্রের আন্তঃ পরিবর্তন ঘটছে। গতবছর গ্রীষ্ম ছিল বেশ দীর্ঘ এবং শীতকাল এসেছে দেরিতে। এসব আমাদের বাস্তুসংস্থানের পরিবর্তনে অনেক ভূমিকা রাখছে। এখন আমাদের বেশি করে গাছ লাগাতে হবে যদিও তা যথেষ্ট নয়। যারা অবৈধভাবে গাছ কাটছে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমাদের পুনঃবনায়নে একটা বিপ্লব আনতে হবে। কাঠের ফার্নিচার ব্যবহার করা কমিয়ে পেলতে হবে। বনাঞ্চল রক্ষার জন্য আমাদেরকে প্রবর্তিত আইন বা কার্যক্রমগুলো সক্রিয়ভাবে সমর্থন করতে হবে। সংরক্ষিত, রক্ষিত, অর্পিত বা অন্য যেকোন ধরনের সরকারি বনভুমির সীমানা হইতে ১০ কিলোমিটারের আওতাভুক্ত এলাকায় স্থাপিত করাতকলসমূহ ( স”মিল) অতিসত্বর বন্দ করার ব্যবস্থা করতে হবে। আর এই জন্য আমাদের সবাইকে পরিবেশ সচেতনতা অভিযানে অংশ নিতে হবে।