টেকনাফে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত-১ ; আহত-১

iii-scaled.jpg

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম / সাদ্দাম হোসাইন : টেকনাফে রোহিঙ্গা নারীকে বিয়ে করে বিপদগামী হওয়া ব্যক্তিকে সুপথে ফেরাতে গিয়েই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপের গুলিতে স্থানীয় সিএনজি চালক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। এসময় আরো একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়,২২এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) রাত ৮টায় উপজেলার হ্নীলা ২৭নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জামবাগান এলাকায় ডাকাত হাশিম উল্লাহ, কালু ও নুরাইয়া গ্রæপে যোগ দেওয়া স্থানীয় গোলাম নবীর পুত্র আব্দুর রহমান প্রকাশ ভেজিকে ভাল পথে ফিরিয়ে এনে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করার পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জাদিমোরার সোলতান আহমদের পুত্র হেলাল উদ্দিন, মফজল আহমদের পুত্র ইলিয়াছ, নুরু মিয়ার পুত্র আবছার, আকবরের পুত্র মোবারক, জনৈক হাবিব উল্লাহ, আনোয়ার ও গুজা মোস্তাকসহ ৩০/৩৫জন মিলে যানবাহনযোগে সেখানে গিয়ে আলোচনায় বসে। গ্রামের লোকজন গোলাম নবীর পুত্র আব্দুর রহমান প্রকাশ গেজিকে ভাল পথে ফিরে এসে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করার আহবান জানালে রোহিঙ্গা ডাকাত হাশিম উল্লাহ, কালু, নুরুসহ ১০/১৫জনের একটি গ্রæপের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। তখন ক্ষিপ্ত হয়ে হাশিম উল্লাহ, কালু, নুরু এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করলে স্থানীয় বাঁচা মিয়ার পুত্র মোহাম্মদ হোসেন (৩০) এবং পুরান রোহিঙ্গা মুজিবুল্লাহর পুত্র আয়াজ উদ্দিন (১৯) গুলিবিদ্ধ হয়। উপস্থিত লোকজন গুলিবিদ্ধদের দ্রæত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিএনজি চালক মোঃ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী আনোয়ার হোসেন নিশ্চিত করেন।
এই নৃশংস ঘটনার খবর পেয়ে হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জানান, দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরধরে গোলাগুলির ঘটনায় ২জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যায়। তিনি রোহিঙ্গাদের এই ধরনের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোঃ হাফিজুর রহমান জানান,এই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশের দল সন্ত্রাসীদের আটক অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
উল্লেখ্য, উত্তর দমদমিয়ার গোলাম নবীর পুত্র আব্দুর রহমান প্রকাশ ভেজি রোহিঙ্গা ডাকাত কালুর মেয়েকে বিয়ে করেন। এর কিছুদিন পর সেও ডাকাত দলে যোগদান করে সক্রিয় সদস্য হয়ে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এবং ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে খুন নানা অপরাধ করে আসছে। কিছুদিন পূর্বেও স্থানীয় এক মহিলাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবী করেছিল। এসব বিষয়টি এলাকায় আলোচিত হওয়ায় দূবৃর্ত্তরা বিনা মুক্তিপণে ঐ মহিলাকে ছেড়ে দেয়। এরপর হতে পরিবারের লোকজন তাকে ভাল পথে ফিরিয়ে আনার জন্য এলাকাবাসীর সহায়তা কামনা করলে স্থানীয়রা মিলে তাকে ফিরিয়ে আনতে যায়। সম্প্রতি আইন-শৃংখলা বাহিনীর ক্রিস্টাল আইস মেথ উদ্ধারের ঘটনায় আব্দুর রহমান পলাতক আসামী হওয়া এবং ডাকাত গ্রæপে ঘেকে দৈনিক ৫০হাজারের উপরে লভ্যাংশ পাওয়ায় সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে রাজি হয়নি। তা নিয়ে দুপক্ষের কথা কাটাকাটিতেই এই নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। আর রোহিঙ্গাদের হাতে একের পর এক স্থানীয় খুনের ঘটনায় জনমনে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ###