প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়িত হোক

pm-1.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : দেশে করোনা মহামারী বিস্তারের শুরু থেকেই সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে। করোনা দুর্যোগ সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রীর বেশকিছু নির্বাহী আদেশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হয়েছে। এসবের সুফলও পাওয়া গেছে। একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর কিছু নির্দেশনা না মানার মাশুলও দিতে হচ্ছে। দেশ রূপান্তরে শনিবার প্রকাশিত একটি সংবাদ তারই উদাহরণ।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, গত বছর দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে করোনা শনাক্তে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার জন্য গত বছর জুনে প্রধানমন্ত্রী জরুরি ভিত্তিতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের নির্দেশ দেন। এজন্য মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ১ হাজার ২০০ পদ এবং মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের ১ হাজার ৮০০ পদসহ তিন হাজার নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী গত বছর ২৯ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ৮৮৯টি পদ এবং মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের ১ হাজার ৮০০টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে ২৩ হাজার ৫২২ ও মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের বিভিন্ন গ্রুপে প্রায় ৫০ হাজার জনকে লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়। গত ১২, ১৮ এবং ১৯ ডিসেম্বর লিখিত পরীক্ষা হয়। এ বছর ২২ ফেব্রয়ারি ও ১০ মার্চ লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষাও নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের চুড়ান্ত ফল প্রকাশ করেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ফলে গত বছর জুনে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি নির্দেশ দেওয়ার পর গত ১০ মাসেও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশের পরও এই করোনাকালে টেকনোলজিস্ট নিয়োগ না হওয়াটা খুবই হতাশার। নিয়োগ না হওয়া বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, নিয়োগে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন রকমের অভিযোগ আছে। অথচ তারা লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়েছে। এখন চ‚ড়ান্ত পর্যায়ে এসে নিয়োগ না হওয়া জনমনে নানা প্রশ্ন জাগিয়ে তুলছে। যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা গেলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না বলে আশা করা যায়। দেশে এখন করোনা নমুনা পরীক্ষা বাড়ানো দরকার। করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসাব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। এমন অবস্থায় টেকনোলজিস্ট নিয়োগ বাস্তবায়ন না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। অথচ পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এদের বাইরেও দেশে আরও ২৫ হাজার বেকার মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আছে প্রয়োজনে তাদের নির্বাহী আদেশে করোনা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনায় ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ দেশে চাহিদার তুলনায় টেকনোলজিস্টের স্বল্পতা রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, একজন চিকিৎসকের বিপরীতে পাঁচজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট থাকার কথা। দেশে সরকারি পর্যায়ে চিকিৎসক আছেন ৩০ হাজার। কিন্তু সরকারি পর্যায়ে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আছেন মাত্র পাঁচ হাজার। অর্থাৎ বর্তমানে ছয়জন চিকিৎসকের জন্য আছেন একজন টেকনোলজিস্ট। অথচ এই ছয়জনের জন্য থাকার কথা ৩০ টেকনোলজিস্ট। ঘটনাবলীর পরম্পরায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, এখানে নিয়োগ বাণিজ্য ঘটেছে। যার সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ছোট থেকে বড় বিভিন্ন পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিরা জড়িত। দেশের এমন দুর্যোগের দিনে একশ্রেণির লোক নিয়োগ বাণিজ্য করে চলেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবার মতো জরুরি বিষয়ের নিয়োগে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে এই বাস্তব সমস্যা দূর করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। কেউ নির্দেশনা না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সবাইকে এটা বুঝতে হবে, আমরা এক বিশেষ ও ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। সবার সম্মিলিত উদ্যোগ ও চেষ্টা ছাড়া এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। যারা জাতীয় দুর্যোগকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। করোনা মহামারীতে নিজের স্বার্থ হাসিলের মতো হীন কাজে নিয়োজিতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।