cft.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : ১৫ মিনিটের ব্যবধানে প্রতিপক্ষের জালে দুবার বল পাঠাল রিয়াল মাদ্রিদ। বিরতির আগে ব্যবধান বাড়তে পারতো আরও। প্রথমার্ধের ছন্দহীনতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় বার্সেলোনা। তবে হার এড়াতে পারেনি তারা। দুর্দান্ত জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠেছে জিনেদিন জিদানের দল।

আলফ্রেদো দি স্তেফানো স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে মৌসুমের দ্বিতীয় ক্লাসিকোয় ২-১ গোলে জিতেছে রিয়াল। করিম বেনজেমার গোলে স্বাগতিকরা এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন টনি ক্রুস। বার্সেলোনার একমাত্র গোলটি করেন অস্কার মিনগেসা।

রিয়ালের জয়ে তিনে নেমে গেল বার্সেলোনা, ৩০ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৬৫। ১ পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে শিরোপাধারীরা। এক ম্যাচ কম খেলা আতলেতিকো মাদ্রিদের পয়েন্টও রিয়ালের সমান ৬৬।

লিগে এই নিয়ে টানা চার ম্যাচ জিতল রিয়াল, অপরাজিত রইল টানা ১০ ম্যাচে। টানা ১৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর হারল বার্সেলোনা।

প্রথমার্ধে রোনাল্ড কুমানের দল ৬৯ শতাংশ সময় বল দখলে রাখলেও প্রতিপক্ষকে তেমন চাপে ফেলতে পারেনি। তাদের ছয় শটের একটি মাত্র ছিল লক্ষ্যে। দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টায় চিত্র; একইভাবে বল দখলে রেখে এই সময়ে ১২টি শট নেয় তারা, যার তিনটি লক্ষ্যে।

অন্যদিকে, পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক রিয়াল দুই অর্ধেই সুযোগ তৈরির বিচারে এগিয়ে ছিল। প্রথমার্ধে তাদের আট শটের তিনটি ছিল লক্ষ্যে। সেখানে বিরতির পর তারা নিতে পারে ছয় শট, লক্ষ্যে ছিল না একটিও!

ঢিমেতালে শুরু ম্যাচে দশম মিনিটে প্রথম উত্তেজনা ছড়ায়। তবে লিওনেল মেসির দারুণ পাস ডি-বক্সে পেয়ে উল্লেখযোগ্য তেমন কিছু করতে পারেননি জর্দি আলবা।

এর তিন মিনিট পরেই উল্লাসে মাতে রিয়াল। একাদশে ফেরা ফেদেরিকো ভালভেরদে নিজেদের সীমানা থেকে বল পায়ে এগিয়ে ডান দিকে লুকাস ভাসকেসকে পাস দেন। স্প্যানিশ এই রাইট-ব্যাক খুঁজে নেন ছয় গজ বক্সের মুখে বেনজেমাকে। চমৎকার সাইড-ফুট ফ্লিকে কাছের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান ফরাসি ফরোয়ার্ড।

চোটে পড়ার আগে পরে মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচে জালের দেখা পেলেন বেনজেমা, এই সময়ে তার গোল ৯টি। আসরে তার মোট গোল ১৯টি, জেরার্দ মোরেনো ও লুইস সুয়ারেসের সমান। ২৩ গোল নিয়ে শীর্ষে মেসি।

২৭তম মিনিটে ক্রুসের ফ্রি কিক ও কিছুটা সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় ব্যবধান দ্বিগুণ করে রিয়াল। প্রতিপক্ষের দুর্বল রক্ষণের ভূমিকাও ছিল।

চার দিন আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লিভারপুলের বিপক্ষে দলের ৩-১ ব্যবধানের জয়ে জোড়া গোল করা ভিনিসিউস জুনিয়র শুরু থেকে ছিলেন ছন্দে। বাঁ দিক থেকে দারুণ ক্ষিপ্রতায় এগিয়ে যাওয়া ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডই ফাউলের শিকার হলে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি কিক পায় রিয়াল। ক্রুসের শটে বল ডিফেন্ডার সের্জিনো দেস্তের পিঠে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়। গোললাইনে বলের লাইনে ছিলেন আলবা, তিনিও পারেননি আটকাতে।

সাত মিনিট পর স্কোরলাইন হতে পারতো ৩-০। তবে ভিনিসিউসের দারুণ পাস পেয়ে ভালভেরদের জোরালো শট দূরের পোস্টে বাধা পায়। ফিরতি বলে ভাসকেসের শট ঝাঁপিয়ে ফেরান মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন।

বিরতির আগে যোগ করা সময়ে অসাধারণ এক গোল হতে পারতো। আগের ছয় ক্লাসিকোয় গোল না পাওয়া মেসির দারুণ কর্নারে বল সবাইকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়াতে যাচ্ছিল; তবে শেষ পর্যন্ত দূরের পোস্টে বাধা পায়।

প্রথমার্ধে শুরু হওয়া বৃষ্টি দ্বিতীয়ার্ধে নামে মুষলধারে। সঙ্গে ঝড়ো বাতাস। প্রতিকূল পরিবেশে ফুটবল তার স্বাভাবিক ছন্দ হারায়। তবে বার্সেলোনা ঠিকই বল দখলে রেখে আক্রমণে চাপ বাড়াতে থাকে।

৬০তম মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় তারা। বাঁ দিক থেকে আলবার ক্রস দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে ছেড়ে দেন বদলি নামা অঁতোয়ান গ্রিজমান। আর ফাঁকায় বল পেয়ে ১০ গজ দূর থেকে ব্যবধান কমান প্রথম ক্লাসিকো খেলতে নামা তরুণ ডিফেন্ডার মিনগেসা।

৬২তম মিনিটে ভিনিসিউসের কোনাকুনি শট বাধা পায় পোস্টে। তিন মিনিট পর প্রতি-আক্রমণে দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়ে আবারও হতাশ করেন তিনি। ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে ডি-বক্সে গিয়ে শট না নিয়ে ডান দিকে দুর্বল পাস দিয়ে সুযোগ নষ্ট করেন। পরের মিনিটে ফাঁকায় বল পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হেডে হতাশা বাড়ান ক্রুস।

বাকি সময়ের প্রায় পুরোটায় চাপ ধরে রাখে বার্সেলোনা। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হয় রিয়াল; মিনগেসাকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন কাসেমিরো।

যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে সমতাসূচক গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল বার্সেলোনা। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি; বদলি নামা তরুণ মিডফিল্ডার ইলাইশ মোরিবার শট ক্রসবারে বাধা পায়। বাজে ম্যাচ শেষের বাঁশি, উল্লাসে ফেটে পড়ে রিয়াল শিবির।

এবারের লা লিগায় দুটি ক্লাসিকোই জিতল মাদ্রিদের দলটি। গত অক্টোবরে কাম্প নউয়ে ৩-১ গোলে জিতেছিল তারা।

৪৩ বছর পর বার্সেলোনার বিপক্ষে টানা তিনটি ম্যাচ জিতল রিয়াল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে এর আগে টানা তিনটি ম্যাচ তারা জিতেছিল ১৯৭৮ সালে, সেবার সবগুলোই লা লিগায়।

গত মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ আটের প্রথম লেগে লিভারপুলের বিপক্ষে জয়ের পর বার্সেলোনার বিপক্ষে দারুণ এই সাফল্য। আত্মবিশ্বাসে ভরপুর রিয়ালের সামনে এবার অ্যানফিল্ড পরীক্ষা; চার দিন পর ফিরতি লেগে লিভারপুলের মুখোমুখি হবে ইউরোপের সফলতম দলটি।