সাবরাং-হ্নীলায় বিজিবির পৃথক অভিযানে ৭০হাজার ইয়াবা উদ্ধার ; মৌলভী বাজারের ফায়সাল সিন্ডিকেট অধরা

Teknaf-Pic-A-04-04-21.jpg

ফরিদুল আলম : সাবরাং ও হ্নীলায় সীমান্ত পয়েন্টে বিজিবি জওয়ানেরা পৃথক অভিযান চালিয়ে ৭০হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেছে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে হ্নীলা মৌলভী বাজারের মাদক কারবারী ফায়সাল সিন্ডিকেটের অপতৎপরতায় জনমনে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও আইনের আওতায় না আসায় জনমনে চরম ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
বিজিবি সুত্র জানায়, গত ৩এপ্রিল রাত ১০টারদিকে টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের হ্নীলা বিওপির রাত সোয়া ৭টারদিকে হ্নীলা বিওপির বিশেষ টহল দল মাদকের চালান পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হোয়াব্রাং পোস্টে কৌশলী অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর পোস্টের ১শ গজ উত্তর পাশ দিয়ে এক ব্যক্তিকে আসতে দেখে দাড়ানোর জন্য বললে একটি পুটলা ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এসময় উক্ত পাচারকারীকে আটকের চেষ্টা করতে গিয়ে একজন আহত হয় বলে জানা গেছে। পরে পুটলাটি উদ্ধার করে ব্যাটালিয়ন সদরে নিয়ে গণনা করে ৬০লক্ষ টাকা মূল্যমানের ২০হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।
অপরদিকে সাবরাং বিওপির জওয়ানেরা মিয়ানমার হতে মাদকের চালান পাচারের সংবাদ পেয়ে বিশেষ একটি টহল দল বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর একটি কাঠের নৌকা হতে ৩জন ব্যক্তি কেওড়া বন দিয়ে বেড়িবাঁধে উঠতে দেখে চ্যালেঞ্জ করে। তখন বিজিবি টহল দল সামনে অগ্রসর হলে দূবৃর্ত্তরা কেওড়া বন দিয়ে পালিয়ে যায় এবং বিজিবি জওয়ানেরা ঘটনাস্থল তল্লাশী করে ১টি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করে। তা ব্যাটালিয়ন সদরে নিয়ে গণনা করে দেড় কোটি টাকা মূল্যমানের ৫০হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।
টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান (বিজিবিএম,পিএসসি) জানান, জব্দকৃত ইয়াবা পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মিডিয়া কর্মীদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করার জন্য ব্যাটালিয়ন সদরে জমা রাখা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, হ্নীলা মৌলভী বাজার মুসলিম পাড়ার দুদু মিয়ার পুত্র ফায়সালের ইয়াবার চালান খালাস করতে যায় হোয়াব্রাং এলাকার হাসানের পুত্র জুবাইর। সে মাদকের চালান খালাস করে ফিরে আসার সময় বিজিবি টহল দল ও সহযোগীরা ধাওয়া করলে জুবাইর টহল দলকে সহায়তাকারী এক সদস্যকে রক্তাক্ত করে কোন রকমে পালিয়ে রক্ষা পায়। এই জুবাইর পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে ফায়সাল ও জুবাইর সিন্ডিকেটের দীর্ঘদিনের অপকর্ম নিয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছে। অবিলম্বে এই মাদক সিন্ডিকেটকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আহবান জানানো হয়। ##