এশিয়ায় চোখের সমস্যা বাড়ছে

Eye-1.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : চোখ মানুষের দেহের একটি অমূল্য সম্পদ। তবে এনডিটিভির একটি সমীক্ষা থেকে দেখা যাচ্ছে এশিয়া মহাদেশের মানুষের চোখের সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। মহাদেশটির বড় বড় শহরে স্কুল পার হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯০ শতাংশ ভুগছেন চোখের সমস্যায়। এক সমীক্ষার ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা এই তথ্য পাওয়ার কথা দাবি করেছেন। বিজ্ঞান বিষয়ক ল্যানসেট পত্রিকায় এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের মতে চোখের এই সমস্যা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে স্কুলে শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও বেশিরভাগ সময় বাইরের আলো থেকে দূরে থাকা। বিজ্ঞানীদের এশিয়ায় প্রতি ৫ জনের ১ জন শিক্ষার্থী এই দৃষ্টি সমস্যায় ভুগছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ দৃষ্টিশক্তি হারাচ্ছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চোখের সমস্যায় ভোগা রোগীর গড় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বলেন একসময় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষের মধ্যেও মাত্র কুড়ি থেকে ত্রিশ শতাংশ এই সমস্যায় ভুগতে দেখা যেত। তিনি জানান গত দুই প্রজন্মের এমন অস্বাভাবিক কিছু ঘটেছে যার কারনে এই সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যদি কোন ব্যক্তি দুই মিটারের বেশি দূরের বস্তু ঝাপসা দেখেন তাহলে বুঝতে হবে তিনি দৃষ্টিহীনতায় আক্রান্ত। গবেষণায় দেখা গেছে চোখের এই সমস্যাটির পেছনে বেশ কয়েকটি বিষয় জড়িত। এর মধ্যে রয়েছে পড়াশোনা বিষয়ক কঠোর পরিশ্রম আর সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকা। এর পক্ষে অধ্যাপক যুক্তি দেখিয়ে বলেন দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অনেক শিশু ঘন্টার পর ঘন্টা স্কুলে পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এই বিষয়গুলো তাদের চোখে চাপ সৃষ্টি করে। ঘরের আলোর পাশাপাশি ভারসাম্যের জন্য ৩ থেকে ৩ ঘন্টা দিনের আলোর সংস্পর্শ তাদের চোখের বা তাদেরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীদের মতে ডোপামাইন নামে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ অক্ষিগোলক বাড়তে দেয় না। তাই ডোপামাইন এর পরিমাণ যত বেশি হবে দৃষ্টি তত কম হবে আর দিনের আলোর সংস্পর্শে যত বেশি পাওয়া যাবে চোখে ডোপামাইন মাত্রাও তত বেশি হবে। তারা বলেন দিনের স্বাভাবিক আলোতে ২ ঘন্টা থাকলেই চলবে। তথ্য অনুযায়ী এশিয়ার সাংস্কৃতিক বিষয়ক এই অঞ্চলে চোখের সমস্যায় কিছুটা প্রভাব ফেলে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিশুরা দুপুরের খাওয়ার পর একটু ঘুমায়। এব্যাপারে অধ্যাপক মর্গান বলেন এতে তারা দিনের আলো পান না।