নতুন শপথে আসুক নতুন দিন

Editoral.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের পরে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ সূচনা হয়েছিল। লাখো প্রাণের বিনিময়ে নয় মাস পর তার অবসান ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে। একাত্তরে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে। এই সময়ে পুরো জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদকে। একই সঙ্গে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় উদযাপন করছে স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর সময়ে এবারের স্বাধীনতা দিবস তাই বাংলাদেশিদের কাছে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।

২৬ মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়। বাঙালির হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পার করছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে আত্মনির্ভরশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এ বছর জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীও। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের মুক্তির ইতিহাস, স্বাধীনতার ইতিহাস। ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান আর দুই লাখ মা-বোনের ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং কোটি বাঙালির আত্মনিবেদন ও সংগ্রামের গৌরবগাথা, বীরত্বের ইতিহাস, স্বাধীনতার ইতিহাস। স্বাধীন বাংলাদেশের অভিযাত্রায় এক মহাসন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছে বাংলাদেশ। এ বছর বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ করছে। সমগ্র বাঙালি জাতির জন্য এক আনন্দঘন গৌরবের অনুভূতি। একের পর এক মাইলফলক অর্জন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনকে মহিমান্বিত করেছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে নতুন শপথের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী সব ভেদাভেদ ভুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ-অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার সুবর্ণজয়ন্তী ভাষণে বলেছেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতাসর্বস্ব না হয়। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে আমাদের দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার নতুন করে শপথ নিতে হবে। এবারের স্বাধীনতা দিবস অন্যান্য বছরের স্বাধীনতা দিবসের মতো নয়। এবার স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি হলো। এই দিন আনন্দে অবগাহনের দিন। সুবর্ণজয়ন্তীর এই শুভক্ষণে আমাদের শপথ নিতে হবে কেউ যেন বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে। দেশের গণতান্ত্রিক এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে।

পৃথিবীর ইতিহাসে ৫০ বছর খুব বেশি সময় নয়, আবার কমও নয়। কোনো দেশের গতি-প্রকৃতি বোঝার জন্য ৫০ বছর তাই একটি মাইলফলক। বাংলাদেশ সেই মাইলফলক স্পর্শ করেছে। স্বাধীনতার এই সুবর্ণজয়ন্তীতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ আজ অনুন্নত রাষ্ট্রের পরিচিতি ছাড়িয়ে নতুন পরিচয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশকে দারিদ্র্য-জয় এবং উন্নয়নের আদর্শ মডেল হিসেবে তুলে ধরছেন। স্বাধীনতা দিবসের এই শুভক্ষণে বাঙালি ও বাংলাদেশের জন্য এটা আনন্দের।

একাত্তরে কেবল স্বাধীন দেশের জন্যই সংগ্রাম হয়নি, চিন্তার সুস্থ নিরাপদ বিকাশ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য লড়াই হয়েছিল। আজকের দিনে উন্নয়নের রোল মডেল হওয়ার পাশাপাশি নাগরিকের অধিকার ও যে লক্ষ্য-আদর্শ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, স্বাধীনতার ৫০ বছরে সেই লক্ষ্য ও আদর্শ কতটা অর্জিত হয়েছে, কতটা হয়নি, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সেই আত্মজিজ্ঞাসাও জরুরি। প্রধানমন্ত্রী যে নতুন শপথের ডাক দিয়েছেন একাত্তরের চেতনায় বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাক এটাই প্রত্যাশা।