টেকনাফে করোনার চরম সংকটে রোহিঙ্গা নিয়ে এলএমএফ প্রশিক্ষণ কোর্স

LMF-scaled.jpg

জসিম উদ্দিন টিপু : টেকনাফে রোহিঙ্গাদের নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে পল্লী চিকিৎসক প্রশিক্ষণ কোর্স। লোভনীয় অফার, মন ভালানো বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে স্থানীয়দের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে মর্মে রোহিঙ্গাদের দিয়েই দিন দুপুরে পল্লী চিকিৎসক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালিত করছে একটি প্রতারক চক্র।
উপজেলার হ্নীলাস্থ ক্যাপ্টেন মকবুল আহমদ সড়কের চেয়ারম্যান মার্কেটের ৩য় তলায় পল্লী চিকিৎসক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি চলছে। করোনাকালীন সময়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালিত হওয়ায় জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা ভূয়া এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বন্ধের দাবী জানিয়েছেন।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, করোনা কালীন সময়ে এলএমএফ,ডিএমএস ও আরএমপি কোর্সের নামে পল্লী চিকিৎসক প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন,প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি চলছে। মাত্র ২জন ছাড়া বাকী সব প্রশিক্ষণার্থীরা রোহিঙ্গা। ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অনুমোদন আছে কিনা? তা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনায় জড়িতদের কেউ নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে ওই কেন্দ্রের শিক্ষক নয়াপাড়া শরনার্থী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি হাসপাতালে কর্মরত মেডিকেল এসিসট্যান্ড তুষার চক্রবর্তী জানান,অনুমোদন আছে কি নাই। তা আমি জানিনা। তবে ক্লাশ ওয়ারী আমি সম্মানী পেয়ে থাকি। রোহিঙ্গাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা তিনিও অকপটে স্বীকার করেন। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির ম্যানেজার মোঃ ইমরানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সন্ধ্যায় কথা বলবেন বলে মুঠোফোনের লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেন। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশাসক আলতাফ হোসাইন রোহিঙ্গা ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলেন,প্রশিক্ষণে রোহিঙ্গা বাঙ্গালী কোন বিধি নিষেধ নেই।
স্থানীয় যুবক এবং প্রশিক্ষণার্থী হারুন জানান,টেকনাফ ষ্টেশনে বিজ্ঞাপন দেখে এক বছর মেয়াদী ডিএমএস কোর্সে ভর্তি হয়েছি। দেখছি,এখানে আমি এবং অপর যুবক তাহের ছাড়া বাকী সবাই মুচনী এবং পাশ্ববর্তী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ টিটু চন্দ্র শীল জানান,অবৈধ ভাবে পল্লী চিকিৎসক প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনার সুযোগ নেই। তিনি উক্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনায় জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
এদিকে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ পারভেজ চৌধুরী বলেন,অনুমোদন বিহীন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনার কোন সুযোগ নেই। করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালিত হওয়া খুবই দুঃখজনক। তিনি ওই কেন্দ্র পরিচালনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান। #