কাদের মির্জা ও এমপি একরামের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

k-3.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : নোয়াখালী সদর-সুবর্ণচর আসনের সংসদ সদস্য এবং নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীর বাড়িতে তাঁকে হত্যার জন্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। গতকাল শনিবার বসুরহাট পৌরসভায় আট নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তবে তাঁর অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে এমপি একরাম বলেছেন, তিনি ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। কাদের মির্জার অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন।

গতকাল সকাল ১১টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কাদের মির্জা বলেন, ‘যতক্ষণ আমার এক ফোঁটা রক্ত আছে, আমি এখান থেকে সরব না। আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলব। অন্যায়, অবিচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব। এটা কার বিপক্ষে যাবে, কার বিরুদ্ধে যাবে, তা আমার জানার বিষয় নয়। গতকাল থেকে আবার নতুন করে আমার অনুসারী নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার, মামলা হচ্ছে। সারা রাত আমার প্রত্যেক নেতাকর্মীর বাড়িতে পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন হামলা করেছে। অনেক পরিবারকেও লাঞ্ছিত করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এমপি নিজাম ও একরাম চৌধুরীর অস্ত্র আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে। শুক্রবার রাতে একরাম চৌধুরীর বাড়িতে নিজাম হাজারী আর একরাম চৌধুরীর নির্দেশে আমাকে হত্যা করার জন্য বৈঠক হয়। আমার ওপর আবারও হামলা করার চেষ্টা করছে তারা।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি দলীয়ভাবে এখানে জেলা কমিটিকে তদন্তভার দিয়েছেন। তারা একপেশে। তারা সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে। তাদের থেকে সঠিক তথ্য দল পাবে না। সে জন্য আমি প্রস্তাব করছি, আমাদের তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহ্মুদ এবং এ অঞ্চলের নেতা সুজিত রায় নন্দীকে তদন্তভার দিন। তারা তদন্ত করার পর যদি আমি দোষী সাব্যস্ত হই, আমার দলের নেতাকর্মী দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’ এ সময় ঘটে যাওয়া সব ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন তিনি।

এদিকে কাদের মির্জাকে হত্যার পরিকল্পনায় বৈঠকের দাবি নাকচ করে দিয়ে গতকাল বিকেলে একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় অবস্থান করছি। এক সপ্তাহ ধরে আমি এলাকার বাইরে। কাদের মির্জা তাঁকে হত্যার জন্য আমার বাড়িতে পরিকল্পনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও অসত্য। এটি তাঁর কল্পনাপ্রসূত বচন। কারণ আমি ব্যাবসায়িক কাজে চট্টগ্রামে ব্যস্ত ছিলাম। এরপর অন্য কাজে ঢাকায় অবস্থান করছি। আমার স্ত্রী ও সন্তানও আমার সঙ্গে আছে। কাদের মির্জার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

কাদের মির্জার ফেসবুক স্ট্যাটাস ভাইরাল, অতঃপর ডিলিট

এদিকে গতকাল বিকেল ৩টা ৭ মিনিটে কাদের মির্জা ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি লিখেন, ‘ভাই বড় ধন, রক্তের বাঁধন, যদিও পৃথক হয় নারীর কারণ’। স্ট্যাটাসের সঙ্গে তাঁর ভাই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে নিজের দুটি ছবিও যোগ করেন তিনি। পোস্টটি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শত শত লাইক, কমেন্ট পড়তে থাকে এতে। অনেকেই পোস্টটি শেয়ার করেন। ইতিবাচক কমেন্টের পাশাপাশি নেতিবাচক কমেন্টও করেন অনেকে। তবে ঘণ্টাখানেক পরই কাদের মির্জা ওই পোস্টটি ডিলিট করে ফেলেন। স্ট্যাটাসটি তিনি তাঁর ভাই ওবায়দুল কাদের ও তাঁর স্ত্রীকে ইঙ্গিত করে লিখেছেন বলে ধারণা করা হলেও এ বিষয়ে তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।