বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা যায় না : জি এম কাদের

gm-kader.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক :স্বৈরতন্ত্র আর সুশাসনের অভাবে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে সেখানে বিভিন্ন দলের অর্ধশত নেতাকর্মীকে নিয়ে আসেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার এনায়েতুর রহমান। জি এম কাদেরের হাতে ফুল দিয়ে তারা জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। দলে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন পার্টির চেয়ারম্যান।

জি এম কাদের বলেন, ‘স্বৈরতন্ত্র আর সুশাসনের অভাবের কারণে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা যায় না। সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে যা চলছে তাতে গণতন্ত্র চর্চা সম্ভব নয়। নোয়াখালীর বসুরহাটের মতো সারা দেশেই অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতাই দেশে দুর্নীতি ও দুঃশাসন জন্ম দিয়েছে।’ দেশে নির্ভেজাল গণতন্ত্র জরুরি হয়ে পড়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, ‘১৯৯১ সালে পল্লীবন্ধু রাষ্ট্র ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্র চলছে। বিএনপি ক্ষমতায় বসে দুর্নীতি ও দলীয় করণের মাধ্যমে দেশে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে, যা এখনো চলছে।’

জাতীয় পার্টির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘পশ্চিম পাকিস্তানীদের বৈষম্যের প্রতিবাদে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল। এখন ক্ষমতাসীন দল না করলে চাকরি মেলে না, ব্যবসা-বানিজ্য করা যায় না। ক্ষমতাসীনরা টেন্ডারবাজি, দলবাজি, চাঁদাবাজি করে দেশের মানুষের শান্তি হরণ করেছে। ৯১ সালের পর থেকে শুধু লুটপাটের রাজনীতি শুরু হয়েছে, রাজনৈতিক কর্মীদের হাতে সাধারণ মানুষ নির্যাতিত হচ্ছে।’

বিরোধী দলীয় উপনেতা আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপির টেন্ডারবাজি, দলবাজি, দুর্নীতি, দুঃশাসন, বৈষম্য আর নির্যাতনে স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা ভুলণ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে মূল্যায়ন করলে মনে হচ্ছে, ৯১ সালের পর থেকে দেশের মানুষ স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পাচ্ছে না। তাই স্বাধীনতার সুফল দেশের মানুষের মাঝে পৌঁছে দিতে নতুন করে সংগ্রাম শুরু করেছে জাতীয় পার্টি।‘ এ সময় সবইকে জাতীয় পার্টির পতাকা তলে যোগ দিতে উদাত্ত আহ্বান জানান পার্টি চেয়ারম্যান।