টেকনাফে প্রলোভন ও ছদ্মবেশে অপহরণকারী চক্র সক্রিয় ; হেফজখানার এক ছাত্র ১১দিনধরে নিখোঁজ

Teknaf-Pic-A-03-03-21.jpg

হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় ছদ্মবেশ ধারণকারী একটি চক্র প্রলোভন দেখিয়ে স্কুল-মাদ্রাসা,মক্তব পড়ুয়া এবং বেকার শিশু-কিশোর অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় ও পাচারের ঘটনা ঘটছে। তাদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছে ভূক্তভোগী মহল।

চলতি বছরের গত ২১শে ফেব্রুয়ারী সকালের দিকে হ্নীলা আল জামিয়া দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র ও হ্নীলা পুরান বাজারের মোহাম্মদ হোছন ও মরিয়ম আক্তার দম্পতির ছেলে রাকিব (১৬) কে চকরিয়ার এক মৌলভী চট্টগ্রাম শুলবহর মাদ্রাসায় পড়ানো,ভাল খাবার ও কাপড়-চোপড়ের লোভ দেখিয়ে নিয়ে যায়। ঐদিন রাতেই মোবাইল-০১৮৭২-৫০৮৭৬৮ থেকে কথা বলে এক হুজুরের নিকট একটি মসজিদে রয়েছে বলে জানান। এরপর থেকে উক্ত নাম্বারে যোগাযোগ করলে ঐ হুজুর কথা বলেনা। না হয় কোন শিশু অথবা নারীকে দিয়ে কথা বলান। এরপর থেকে ছেলের খোঁজ না পেয়ে মা পুত্র শোকে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছে। বাপ কান্ড-জ্ঞান হারিয়েছে। নিখোঁজ হাফেজ ৩ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে ২য়। সর্বশেষ ৩ মার্চ উক্ত মোবাইল নাম্বারে কথা বলতে চাইলে এক মহিলা রিসিভ করে এবং উক্ত মৌলভী কিছু ছেলে নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে বলে জানান। এই ঘটনায় নিখোঁজ ছেলের অভিভাবক ছেলেকে উদ্ধারের জন্য থানা পুলিশের আশ্রয় নিচ্ছেন বলে জানান।

উক্ত মৌলভীর আস্তানা থেকে পালিয়ে আসা লামার এক হাফেজ এই ধরনের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানান, এই চক্রের নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরীর লোকজনের সমন্বয়ে বেশ ধারণ করা চক্র রয়েছে। তারা কক্সবাজারের প্রত্যন্ত এলাকাসহ উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা অধ্যূষিত এলাকায় বিচরণ করে স্কুল-মাদ্রাসা, মক্তব ও গ্রামের শিশু-কিশোরদের টার্গেটে রেখে পরে কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন জনের নিকট বিক্রি অথবা অপরাধ জগতের লোকজন দিয়ে মুক্তিপণ আদায় করে পড়ে ছেড়ে দেয়।

উল্লেখ্য,চলতি বছরের গত ৪ঠা জানুয়ারী পূর্ব পানখালীর আলী আহমদ প্রকাশ সোনা মিয়ার পুত্র ও স্থানীয় মাঝের পাড়া নুরানী মাদ্রাসার ৩য় শ্রেণীর ছাত্র মোঃ নুরুল আমিন (১৩) বাড়ি থেকে বের হয়ে খেলতে আসার পথে এক সন্ন্যাসীর পাল্লায় পড়ে। তাকে বশে নিয়ে হাতে করে কক্সবাজার নিয়ে যায়। টার্মিনালে বাস থেকে নামার পথে উক্ত সন্ন্যাসী পুলিশ দেখতে পেয়ে ছেলেটিকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। অজানা স্থানে ঐ ছেলে কিছু চিনতে না পেরে যেদিকে মন চাই হাঁটতে থাকে। বাদে এশা কলাতলী এলাকার বসত-বাড়ির পাশে গিয়ে কাঁদতে থাকলে এক সুহৃদ ব্যক্তি স্বাক্ষাত পেয়ে বাড়িতে নিয়ে খাবার দেয় ও রাত কাটান। পরদিন পার্শ্ববর্তী এক দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ দেয়। প্রায় মাস খানেক অতিবাহিত হওয়ার পর মালিক থেকে কিছু টাকা পেয়ে পথ-ঘাট সনাক্ত করে বাড়ি ফিরে এসে এসব ঘটনা খুলে বলেন। যা খুবই রহস্যজনক।

সাম্প্রতিক সময়ে টেকনাফের প্রত্যন্ত এলাকা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প সমুহে এই জাতীয় ঘটনা অহরহ ঘটছে। তাই এলাকায় এই ধরনের কর্মকান্ড কঠোর হাতে দমনে এলাকায় অজ্ঞাত লোকের উপর নজরদারী বৃদ্ধি, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে অবহিত করণসহ সকল অভিভাবকদের সজাগ থাকার বিকল্প নেই। ###