কক্সবাজারে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধন করল আইওএম

ffc7335e-2069-4ea9-bd7f-2b5d1d30134a.jpg

কক্সবাজারঃ

কক্সবাজার জেলার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য একটি নতুন প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন কেন্দ্র উদ্বোধন করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম-জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা) ও এর সহযোগী সংস্থা প্রত্যাশী। জাপান সরকারের সহায়তায় নির্মিত হয়েছে এই প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন কেন্দ্রটি। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এই কেন্দ্রটি উদ্বোধন করা হয়।
আইওএমের নয় মাসব্যাপী “প্রত্যেকের জন্য জীবিকা উন্নয়ন (লাইফ)” প্রকল্পের আওতায় এই কেন্দ্রটির লক্ষ্য উখিয়া এবং টেকনাফ উপজেলার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বাড়িয়ে এবং আয়ের নানা উৎস তৈরি করে স্থানীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখা।
নাফ নদীতে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞার ফলে এবং বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক সুযোগের সন্ধান করতে করতে এই অঞ্চলের জেলে সম্প্রদায়গুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এই সম্প্রদায়ের পাশাপাশি প্রকল্পটি যুবক, পাচারের শিকার, লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতায় বেঁচে যাওয়া এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ পিছিয়ে পড়া ব্যক্তিদের জন্য কাজ করছে।
এই প্রকল্পটি বাজারের চাহিদা মেটাতে গৃহস্তরের জীবন-জীবিকার উদ্যোগের মাধ্যমে এবং সম্ভাবনাময় সমবায়ের মাধ্যমে নারী ক্ষমতায়নেরও চেষ্টা করছে। এই প্রকল্পটিতে অংশগ্রহণকারীরা অর্জিত জ্ঞানের সাথে প্রারম্ভিক অনুদানের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী্র উদ্যোগকে আরো প্রসারিত করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। টেকনাফ উপজেলার হ্নীলায় নতুনভাবে চালু হওয়া কেন্দ্রটি অংশগ্রহণকারীদের ব্যবসায় বিকাশ, ক্রাফট, সূচিকর্ম, সেলাই, ইত্যাদি প্রশিক্ষণে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে সম্পূর্ণ সজ্জিত।
এই প্রকল্পের আগে হ্নীলার বাসিন্দা রিনা পারভিন জীবিকার জন্য লড়াই করছিলেন।তিনি বলেনঃ “আমি যখন নতুন কেন্দ্রের কথা শুনি, আমি আমার দক্ষতা বাড়াতে আগ্রহী হই। আমার ইতোমধ্যে সেলাইকাজের দক্ষতা ছিল তবে তা পেশাদারী পর্যায়ে ছিল না। এখন আমি উৎপাদন করতে এবং আমার ক্রেতা বৃদ্ধি করতে কাজ করছি।“
স্থানীয় বেসরকারী প্রতিষ্ঠান স্বদেশ পল্লীর সাথে যুক্ত হয়ে কেন্দ্রে তৈরি পণ্যগুলো কক্সবাজার, চট্টগ্রাম এবং ঢাকা জুড়ে দোকান এবং আউটলেটগুলোতে বিক্রি হবে। এই পদক্ষেপটি দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রতিষ্ঠানটি সব অংশগ্রহণকারীদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিবে এবং বাজারে অভিগম্যতায় সাহায্য করবে।
সুবিধাভোগীদের পরামর্শ চাওয়া ও সহায়তা করার জন্য এবং বাজারের অসুবিধা এবং সুযোগগুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রয়োজনীয় সভা, কৌশলগত কর্মশালা এবং মাঠ দিবসের আয়োজন করা হবে। তৈরি পণ্যগুলো কক্সবাজারের বিভিন্ন প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হবে এবং স্থায়ীভাবে একটি ই-বাণিজ্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিক্রি হবে।
আইওএম কক্সবাজারের ট্রানজিশন ও রিকভারি ইউনিটের প্রধান প্যাট্রিক শেরিগনন বলেনঃ “টেকনাফের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের বৈধ উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য উপযুক্ত দক্ষতা এবং যে উদ্যোক্তা শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে তা নিশ্চিত করার জন্য ‘লাইফ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা এই জনগোষ্ঠীদের সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ দিতে পারি।“