হ্নীলায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ৬পরিবার খোলা আকাশের নীচে ; ভাগ্যে জুটেনি সহায়তা

Teknaf-Pic-A-21-02-21.jpg

হুমায়ূন রশিদ : হ্নীলা ঊলুচামরীতে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ এবং এখনো খোলা আকাশের নীচে বসবাসকারী ৬টি পরিবার কোন ধরনের সহায়তা না পাওয়ায় মানবেতর দিনযাপন করছে। ক্ষতিগ্রস্থ এসব পরিবার মানবিক সহায়তার জন্য সমাজের বিত্তবানদের নিকট আহবান জানিয়েছে।

২১ ফেব্রুয়ারী (রবিবার) সকালে উপজেলার হ্নীলা ঊলুচামরীর অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্য আব্দু রশিদের পুত্র আবুল কালাম বলেন,গত ৬/৭দিন আগে আগুনে সবকিছু পুড়ে যাওয়ার পর পরিবারের ১০জন সদস্য-সদস্যা নিয়ে খোলা আকাশে পলিথিন দিয়ে রাত-দিন পার করছি। কারো সাহায্য আর ধার করে পেট চালাচ্ছি। আমাদের পরনের কাপড় পর্যন্ত নেই তাই আমরা সার্বিক সহায়তা কামনা করছি। গফুরের স্ত্রী নারু বলেন,আমার পরিবারে ৫জন ছেলে-মেয়ে রয়েছে। পরনের কাপড়-চোপড় না থাকায় গোসল পর্যন্ত করতে পারছিনা। আবু সুফিয়ানের স্ত্রী সোনা মেহের বলেন, আমার ঘরে ৪জন নারী-পুরুষ রয়েছে। কোন কাজ নেই পলিথিন টাঙ্গিয়ে রাত কাটাচ্ছি। পাশের লোক থেকে এনে খাবার খাচ্ছি। আমাদের সহায়তা খুবই দরকার। মৃত শামসুল আলমের স্ত্রী রহিমা খাতুন বলেন, আমার ঘরে ৩জন ছেলে-মেয়ে রয়েছে। তাদের নিয়ে খোলা আকাশে রাত কাটাচ্ছি। নিয়মিত খাবার পাচ্ছি না। স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানায়, উক্ত ৪ পরিবার পুরান রোহিঙ্গা পরিবার। এই গ্রামে অবস্থান নিয়েছে। অগ্নিকান্ডে তাদের সবকিছু ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় মানবেতর দিনযাপন করছে।

এদিকে স্থানীয় মোহাম্মদ ইউনুছের স্ত্রী সনজিদা বলেন, আমার পরিবারে ৬জন ছেলে-মেয়ে রয়েছে। এখন আমার স্বামী বেকার তাই খুবই কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।
এলাকার সুশীল সমাজ ক্ষতিগ্রস্থ এবং সর্বহারা এসব পরিবারে মানবিক সহায়তা দরকার বলে মনে করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ফেব্রুয়ারী (মঙ্গলবার) রাত সাড়ে ৮টারদিকে হ্নীলা ঊলুচামরী লামার পাড়ার আব্দু রশিদের পুত্র আবুল কালামের বাড়ির কারেন্ট মেইন সুইচের অটোর শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়ে তা দ্রæত ছড়িয়ে পড়ে। এতে আব্দু রশিদের পুত্র আবুল কালাম, মেয়ে রহিমা খাতুন, গফুর মিয়ার স্ত্রী নারু, আবু সুফিয়ানের স্ত্রী সোনা মেহের, মোস্তাকের পুত্র ইউনুছ মিয়াসহ ৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ এবং আব্দু শরীফের পুত্র নুর মোহাম্মদের বাড়ির কিছু অংশ পুড়ে যায়।

এই ব্যাপারে হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন,অগ্নিকান্ডের সময় আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। ক্ষতিগ্রস্থ ৫টি পরিবারের মধ্যে ৪টি পরিবারই পুরাতন রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গাদের মূলত রোহিঙ্গা সেবায় নিয়োজিত সঙস্থা সমুহ সহায়তা দিয়ে থাকে। এছাড়া আমি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যস্ত থাকায় বাহিরে ছিলাম। তবুও মানবিক বিষয়ে আমি যথাসাধ্য তাদের সহায়তার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি। ###