চকরিয়ায় মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার নতুন ঘর পেলেন ৮০ ভুমিহীন, আরও পাবেন ১২০ পরিবার

Chakaria-Picture-23-01-21.jpg

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া :
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী তথা মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় মুজিববর্ষে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন থেকে ১৮০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে ২ শতক জমি এবং একটি করে সেমি পাকা নতুন ঘর। একইসঙ্গে উপজেলার নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠিও পাচ্ছে নতুন ২০টি সেমি পাকা ঘর।
প্রকল্পের আওতায় প্রথমধাপে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকারি খাসজমিতে নির্মিত ৮০টি নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে উপহারভোগী পরিবারগুলোর হাতে। শনিবার ২৩ জানুয়ারি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্মিত নতুন ঘরের চাবি উপকারভোগীদের মাঝে হস্তান্তর কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন।
চকরিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন মোহনায় অনুষ্ঠিত ঘরের চাবি ও দলিল বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঘর নির্মাণ প্রকল্পের সমন্বয়ক চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ সামসুল তাবরীজ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগী পরিবারের নারী-পুরুষের হাতে ঘরের চাবি ও দলিল তুলে দেন কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ ফজলুল করিম সাঈদী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো.তানভীর হোসেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান মকছুদুল হক ছুট্টু, উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন হক জেসি চৌধুরী, চকরিয়া থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ জোবায়ের, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের ও জেলা পরিষদ সদস্য জাহেদুল ইসলাম লিটু, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো.মাসুদুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন বাবুল, কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত ওসমান, খুঠাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান, কোণাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার ও বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যান জালাল আহামদ সিকদার প্রমুখ।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় চকরিয়ার ১৮টি ইউনিয়নের ভূমিহীন ১৮০ পরিবার এবং ২০টি নৃতাত্ত্বিক দেওয়া হচ্ছে জায়গাসহ নতুন বাড়ি। শনিবার উপকারভোগী নির্বাচিত ৮০ পরিবারকে বাড়িসহ জায়গার বন্দোবস্ত দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকী পরিবারগুলোকে অল্পসময়ের মধ্যে বুজিয়ে দেওয়া হবে জায়গাসহ নতুন বাড়ি, বন্দোবস্ত দলিল।
চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অর্থবরাদ্দের আলোকে শনিবার ২৩ জানুয়ারী উপজেলায় প্রথমধাপে নতুন ঘর পেয়েছেন ৮০ ভুমিহীন পরিবার। পরবর্তীতে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ঘর পাবেন আরও ১২০টি ভুমিহীন পরিবার। প্রতিটি ঘর নির্মাণে সরকারি বরাদ্দ ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। মাটি ভরাটের কোন বরাদ্দ না থাকলেও সেটি করে দিচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন। প্রতিটি সেমিপাকা ঘরে থাকছে ২টি রুম, একটি বারান্দা, একটি কিচেন, একটি ওয়াশরুম ও একটি বেসিন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সাংসদ আলহাজ জাফর আলম বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাই একমাত্র রাষ্ট্রনায়ক, যিনি বাংলাদেশকে তাঁর সৃদক্ষ নেতৃত্বে বিশ^সভায় মর্যাদার আসনে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। সেকারণে আজ বাংলাদেশকে আর কেউ তলাবিহীন ঝুঁড়ি বলার সাহস পায়না। বাংলাদেশ এখন একটি সমৃদ্ধশালী দেশ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। তিনি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নের জন্য ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অসুস্থতা, লিঙ্গ বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। তাই মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন থেকে বাছাই করে ভূমিহীন পরিবারকে নতুন বাড়ি উপহার দিচ্ছেন।
তিনি বলেন জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার সারাদেশে অর্ভূতপুর্ব উন্নয়ন কর্মকা- বাস্তবায়ন করছেন। বিশেষ করে তিনি কক্সবাজার জেলাকে নতুনভাবে সাজিয়ে তুলছেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতের পরশে শুধুমাত্র কক্সবাজার জেলাতে শতাধিক মেগাউন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী দুইবছরের মধ্যে বাস্তবায়নধীন এসব উন্নয়নপ্রকল্প সচল হলে দেশবাসি কক্সবাজারকে দেখবে অন্যরূপে। এই সরকার সারাদেশে একসঙ্গে বিনামূল্যে বই বিতরণ করেছেন। বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী পরিত্যাক্ত নারীদের ভাতা দিচ্ছেন। গ্রাম পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু জনগনের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করছেন।