স্মিথের সেঞ্চুরিতে ভারতকে হারিয়ে সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার

australia-291120-02.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : ভারতের বিপক্ষে যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন স্টিভেন স্মিথ। টানা পাঁচ ইনিংসে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস, শেষ তিনটিতে সেঞ্চুরি। তার বিস্ফোরক সেঞ্চুরিতে আবারও রান পাহাড় গড়ার পর বোলারদের মিলিত অবদানে সিরিজ জিতে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫১ রানে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া।

সিডনিতে রোববার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে ৪ উইকেটে ৩৮৯ রান করে স্বাগতিকরা। ভারতের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে গড়ে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

সিরিজ শুরুর আগে ২০০৩ বিশ্বকাপের ফাইনালের ৩৫৯ ছিল ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ। প্রথম ওয়ানডেতে সেটি ছাড়িয়ে করে ৬ উইকেটে ৩৭৪ রান। এবার এটাও পেছনে পড়ে গেল।

বিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুলের ফিফটিতে ৯ উইকেটে ৩৩৮ রান পর্যন্ত করতে পারে ভারত।

আগের ম্যাচে ৬২ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন স্মিথ, যা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তৃতীয় দ্রুততম। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডেও তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন ৬২ বলে, জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। শুধু তার ইনিংস নয়, মোটা দাগে দুই ম্যাচে খেলা হয়েছে প্রায় একই রকম।

নিজেদের ইতিহাসে কেবল দ্বিতীয়বারের মতো এদিন ফিফটি পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যান। শতরানের জুটিতে স্বাগতিকদের ভিত গড়ে দেন ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ।

শুরুর জুটিতে অগ্রণী ছিলেন ওয়ার্নার, আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ফিঞ্চ দিয়ে যাচ্ছিলেন সঙ্গ। স্বাগতিক অধিনায়ককে ফিরিয়ে ১৩৮ বলে গড়া ১৪২ রানের জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ শামি। ৬৯ বলে ৬ চার ও এক ছক্কায় ফিঞ্চ করেন ৬০। অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কেবল তারই স্ট্রাইক রেট একশর নিচে।

ঝুঁকিপূর্ণ দুই রান নেওয়ার চেষ্টায় রান আউট হয়ে থামেন ওয়ার্নার। ৭৭ বলে এই বাঁহাতি ওপেনার তিন ছক্কা ও সাত চারে করেন ৮৩ রান।

কাছাকাছি সময়ে দুই ওপেনারের ফিরে যাওয়ার সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি ভারত। আগের ম্যাচে দ্রুত ফেরা মার্নাস লাবুশেনের সঙ্গে স্মিথের জুটিতেও রান আসতে থাকে দ্রুত। বলে বলে রান করে এগোচ্ছিলেন লাবুশেন, স্মিথ ছিলেন আগ্রাসী।

৩৮ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন স্মিথ, ৪৬ বলে লাবুশেন। ৬২ বলে সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ফিরে যান স্মিথ। ভাঙে ৯৫ বল স্থায়ী ১৩৬ রানের জুটি। স্মিথের ৬৪ বলে খেলা ১০৪ রানের ইনিংসে ১৪টি চারের পাশে দুটি ছক্কা।

ক্রিজে গিয়েই ঝড় তোলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তার শেষের খুনে ব্যাটিংয়েই চারশ রানের কাছাকাছি যায় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ। ৬১ বলে পাঁচ চারে ৭০ রান করা লাবুশেনকে ফিরিয়ে ঝড়ের বেগে এগোনো জুটি ভাঙেন জাসপ্রিত বুমরাহ।

২৯ বলে চারটি করে ছক্কা ও চারে ৬৩ রানে অপরাজিত থাকেন ম্যাক্সওয়েল।

রান তাড়ায় আক্রমণাত্মক শুরু করে ভারত। শুরু থেকে শট খেলেন মায়াঙ্ক আগারওয়াল ও শিখর ধাওয়ান। তবে দুই ওপেনারের কেউ পারেননি ইনিংস বড় করতে।

শ্রেয়াস আইয়ারের সঙ্গে কোহলির ৯৩ রানের জুটিতে এগিয়ে যায় ভারত। আগের ম্যাচে সুযোগ হাতছাড়া করা কোহলি খেলছিলেন আস্থার সঙ্গে, বাউন্সারের ফাঁদ এড়িয়ে আইয়ারও দিচ্ছিলেন দারুণ সঙ্গ।

মিড উইকেটে স্মিথের চমৎকার ক্যাচে ভাঙে জুটি। ইতি ঘটে আইয়ারের সম্ভাবনাময় ইনিংসের। পরের উইকেটেও পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি পায় ভারত। এক প্রান্তে আস্থার সঙ্গে খেলছিলেন রাহুল, আরেক প্রান্তে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন কোহলি।

জশ হেইজেলউডকে পুল করতে গিয়ে ঠিক মতো টাইমিং করতে পারেননি ভারত অধিনায়ক। মিডউইকেটে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচে তাকে বিদায় করেন মোইজেস হেনরিকস। ৮৭ বলে খেলা কোহলির ৮৯ রানের ইনিংস সাজানো ৭ চার ও ২ ছক্কায়।

শেষ ১০ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ১৩০ রান। টি-টোয়েন্টিতেও এই সমীকরণ মেলানো ভীষণ কঠিন। চেষ্টায় ছিলেন রাহুল। বেশ কিছু বড় শটও খেলেছিলেন। অতি আক্রমণাত্মক খেলার চেষ্টাতেই শেষ হয় তার ইনিংস। ৬৬ বলে পাঁচ ছক্কা ও চারটি চারে এই কিপার-ব্যাটসম্যান করেন ৭৬ রান।

ব্যবধান কমিয়ে আনছিলেন দুই অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা ও হার্দিক পান্ডিয়া। পরপর দুই বলে তাদের বিদায় করেন প্যাট কামিন্স। এরপর বেশিদূর এগোয়নি ভারতের ইনিংস।

আগামী বুধবার ক্যানবেরায় হবে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ৩৮৯/৪ (ওয়ার্নার ৮৩, ফিঞ্চ ৬০, স্মিথ ১০৪, লাবুশেন ৭০, ম্যাক্সওয়েল ৬৩*; হেনরিকস ২*; শামি ৯-০-৭৩-১, বুমরাহ ১০-১-৭৯-১, সাইনি ৭-০-৭০-০, চেহেল ৯-০-৭১-০, জাদেজা ১০-০-৬০-০, আগারওয়াল ১-০-১০-০, পান্ডিয়া ৪-০-২৪-১)

ভারত: ৫০ ওভারে ৩৩৮/৯ (আগারওয়াল ২৮, ধাওয়ান ৩০, কোহলি ৮৯, আইয়ার ৩৮, রাহুল ৭৬, পান্ডিয়া ২৮, জাদেজা ২৪, সাইনি ১০*, শামি ১, বুমরাহ ০, চেহেল ৪*; স্টার্ক ৯-০-৮২-০, হেইজেলউড ৯-০-৫৯-২, কামিন্স ১০-০-৬৭-৩, জ্যাম্পা ১০-০-৬২-২, হেনরিকস ৭-০-৩৪-১, ম্যাক্সওয়েল ৫-০-৩৪-১)

ফল: অস্ট্রেলিয়া ৫১ রানে জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া

ম্যান অব দা ম্যাচ: স্টিভেন স্মিথ