উখিয়ায় প্রবাসীর জায়গা জবর দখলের অভিযোগ

IMG_20201027_140302-scaled.jpg

ফারুক আহমদ, উখিয়া :

উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাই ছড়ি সমিতির ঘোনা নামক এলাকায় জায়গা জবরদখল কে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষসহ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় বয়োবৃদ্ধ মহিলা ফাতেমা বেগম সহ ৩ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গত ১৯ অক্টোবর ওই এলাকার মৃত রশিদ আহমদের পুত্র সৌদি প্রবাসী খাইরুল আমিনের মালিকানাধীন জায়গা প্রতিপক্ষ মকবুল আহমদ গং রাতের আধারে জবর দখল করে নিয়েছে এমন কথা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, বিদেশে পুত্র খাইরুল আমিনের ভিসা নবায়নে টাকা সংকট হলে বয়োবৃদ্ধ মা ফাতেমা বেগম মৃত হোসেন আলীর স্ত্রী নূরজাহান বেগমকে বিশ শতক জায়গা বন্ধক দিয়ে টাকা নেন।

এদিকে নুর জাহান অসুস্থ হওয়ায় চিকিৎসায় টাকার প্রয়োজনে বন্ধক কৃত জায়গা পুনরায় মকবুল আহমদ কে বন্ধক দেন।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, কয়েক মাস পূর্বে খাইরুল আমিন বিদেশ থেকে এসে বন্ধক কৃত জায়গা ফেরত নেওয়ার জন্য মকবুল আহমদের নিকট ধরর্ণা দেন। কিন্তু টাকা গ্রহণ ও জমি ফেরত দিতে গরিমসি শুরু করে মকবুল।

এদিকে প্রবাসী খায়রুল আমিন এক পর্যায়ে তার জায়গায় সুপারি গাছ রোপন সহ একটি ছোট ঘর তৈরি করে।

দাতা সংস্থা ডাব্লিউ এফপি পরিচালিত মহিলা সমিতির সদস্য হামিদা বেগম, রাশেদা বেগম সাহারা খাতুন ও ছকিনা খাতুন জানান, সমিতির কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণের জন্য দুই বছরের চুক্তিতে খাইরুল আমিনের নিকট হতে ঘরটি ভাড়া নেন। তারা অভিযোগ করেন সমিতির অফিস ঘরটি মকবুল আহমদ জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে।

বড় ভাই জালাল আহমদ অভিযোগ করে বলেন ছোট ভাই খাইরুল আমিন গত ১৯ অক্টোবর সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে চলে গেলে প্রতিপক্ষ মকবুল আহমদ ও তার ছেলে আবুল কালামের নেতৃত্বে ভাড়াটিয়ার সন্ত্রাসীরা রাতের আধারে আমার বয়োবৃদ্ধ মা ফাতেমা বেগম ও অন্যান্য সদস্যদের কে হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করে তাড়িয়ে দিয়ে জায়গা ও ঘরটি জবর দখল করে নেয়।শুধু তাই নই বিভিন্ন অজুহাত সৃষ্টি করে আমাদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করতেছে।
মা বয়োবৃদ্ধ ফাতেমা বেগম জানান জায়গাটি বন্ধকের সময় দেয়া খালি স্টাম্প কৌশলে পূরণ করে জায়গা বিক্রির রশিদ বানিয়ে মকবুল আহমদ প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মকবুল আহমদ বলেন বিগত ১৫-১৬ বছর পূর্বে আমি জায়গাটি টাকা দিয়ে ক্রয় করেছি। জায়গা ক্রয়ের সময় স্বাক্ষী রয়েছে । এখন আমার জায়গায় ঘর তৈরি করতে আসলে ওরা বাধা প্রদান করছে। এদিকে নুরজাহানের কন্যা মাহমুদা খাতুন বলেন আমার মা মকবুল আহমদকে জায়গা বন্ধক দিয়েছিল। কোন অবস্থাতে বিক্রি করেনি। ভুয়া কাগজ সৃষ্টি করে মকবুল আহমদ খাইরুল আমিনের জায়গাটি সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে জোর পূর্বক দখল করে নিয়েছে।

স্থানীয় গ্রামবাসীরা সাথে কথা বলে জানা গেছে জায়গার মালিক খাইরুল আমিন বিদেশে চলে যাওয়ার সাথে সাথে ওই দিন রাতেই ১৯ অক্টোবর জায়গাটি জবর দখল করে নেয়। বাধা দিতে গিয়ে বয়োবৃদ্ধ মা ফাতেমা বেগম সহ কয়েক জন রক্তাক্ত হয়েছে।

জায়গার মালিকানা নিয়ে সৃষ্টি সমস্যা স্হানীয় ভাবে আপোষ মিমাংসা করার জন্য চেয়ারম্যান মেম্বার একাধিক বার বৈঠক বসেও ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা যায়।