এখনো টেকনাফে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে কোন প্রকার কম্পিউটার লার্ণি সেন্টার নেই!

20200921_104116.jpg

মাহবুব নেওয়াজ মুন্না : কম্পিউটার ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন বর্তমানে অত্যাবশকীয় একটি একটি দক্ষতা; যেটি অর্জনে ব্যর্থ হলে শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বাস্তবিকভাবে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। কম্পিউটার আধুনিক যুগে মানুষের পরম নির্ভরযোগ্য বন্ধু। কোটি কোটি সংখ্যার অঙ্ক মিলিয়ে নির্ভুল হিসাব ব্যাংকের ক্যাশিয়ার কমিটির হাতে অতি অল্পসময়ে তুলে দিয়ে তাকে নিশ্চিন্ত নির্ভাবনায় ঘরমুখো করিয়ে দিতে পারে কম্পিউটার। কম্পিউটারের মাধ্যমে বড়ো বড়ো কলে-কারখানায় বসে উৎপাদনের পরিকল্পনা ও তা নিয়ন্ত্রণ করছে, শ্রমিক নিয়োগ ও বরখাস্ত করছে, লাভ-ক্ষতি হিসাব নিকাশ করছে। রেলওয়ে, এয়ারলাইন্স, ব্যাংক, রিসার্চ সেন্টার, ইনস্যুরেন্স প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটারের অপ্রতিরোধ্য আধিপত্য বিরাজমান। পরীক্ষার ফল প্রকাশ, অপরাধীকে খুঁজে বের করা, পুরোনো মামলার নথিপত্র খুঁজে তথ্য সরবরাহ করা, বিজ্ঞাপন প্রচার করা- এ সমস্তই এখন করছে এই যন্ত্র। কম্পিউটার চালিত ‘স্ক্যানার’ খুঁজে এনেছিল আটলান্টিক মহাসাগরে ভেঙে পড়া বিমানের ‘ব্ল্যাকবক্স’। যেসব দুরূহ কাজ মানুষের অসাধ্য, যেসব দুর্গম স্থান মানুষের অগম্য- সেখানেই কম্পিউটারের প্রয়োগ, আর সেখানে তার অকল্পনীয় সাফল্য। আধুনিক জীবনে কম্পিউটার তাই অপরিহার্য। একই কারণে আধুনিক সভ্যতায় কম্পিউটারের অবদান অনস্বীকার্য। বাংলাদেশেও কম্পিউটারের ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মুদ্রণশিল্প, ব্যাংক-অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সব ধরণের চাকুরীতে কম্পিউটারের বহুল ব্যবহার বর্তমানে লক্ষণীয়।

টেকনাফ বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের অবহেলিত একটি উপজেলা। যার মোট আয়তন ৩৮৮.৬৮ বর্গকিলোমিটার। সুযোগহীনতার কারণে টেকনাফ উপজেলার শিক্ষার হার মাত্র ২৬.৩৭ শতাংশ; যা আশঙ্কাজনক। সীমান্তে বিরাজমান নানা সমস্যার সাথে সাথে উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও দক্ষতা উন্নয়নের বড়ই অভাব। বর্তমানে কক্সবাজার জেলার প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে কম্পিউটার লার্ণি সেন্টার রয়েছে একমাত্র টেকনাফ ছাড়া। এখনো টেকনাফ উপজেলায় কারিগরি বোর্ডের অধীনে কোনপ্রকার কম্পিউটার লার্ণি সেন্টার স্থাপিত হয়নি। পাশ্ববর্তী উখিয়া উপজেলায়ও অন্ততঃ ৩টি কম্পিউটার লার্ণি সেন্টার রয়েছে। যেগুলোতে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ৩ মাস ও ৬ মাসে মেয়াদি কম্পিউটারের বিভিন্ন কোর্স প্রদান করা হয়।

বর্তমানে কারিগরি দক্ষতা অর্থাৎ কম্পিউটার দক্ষতাই অনেক চাকুরী ও কাজ লাভের অন্যতম মাধ্যম। পেশাগতজীবনে কম্পিউটারের মাধ্যমে ডকুমেন্টস তৈরি, স্প্রেডশিট এনালাইসিস অর্থাৎ এক্সেলে হিসাব তৈরি, প্রেজেন্টেশনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যারের দক্ষতা থাকা অতি প্রয়োজন।

টেকনাফে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে কোনপ্রকার কম্পিউটার লার্ণি সেন্টার না থাকার কারণে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও পেশাজীবিরা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কম্পিউটার দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। বিশেষ করে নারীদের আরো বেশী ভোগান্তি পেতে হয়, কারণ তাদের দূরে গিয়েও উক্ত দক্ষতা অর্জন সম্ভব হয় না। কম্পিউটার দক্ষতা অর্জনের সুযোগ না থাকার কারণে বেকার সমস্যা প্রবল আকার ধারণ করছে। অনেকেই বেকারত্বের গ্লানিতে হতাশাগ্রস্থ হয়ে মাদকের মতো সমাজ ও রাষ্ট্র বিধ্বংসী কারবারে জড়াচ্ছে।

তাই সুযোগহীনতার কথা বিবেচনা করে টেকনাফে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে কম্পিউটার লার্ণি সেন্টার স্থাপন করলে হাজার হাজার বেকারের কম্পিউটার দক্ষতা অর্জন ও কর্মের সুযোগ হতে পারে। এক্ষেত্রে জরুরিভিত্তিতে কক্সবাজার সদরের ন্যায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে কম্পিউটার কোর্স প্রদান করা যেতে পারে।

এতদ্ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।