টেকনাফ সীমান্তে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার নুরুল বশরদের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা চাইঃইয়াবা চক্রের ষড়যন্ত্র শুরু

E75F74AA-A04A-4CBE-9E86-955800B16C50.jpeg

স্পর্শকাতর উপজেলা টেকনাফ। এখানে মাদকের পৃষ্টপোষক, ইয়াবাব্যবসায়ী, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সুবিধাভোগী সহযোগী, সাংবাদিক নামধারী কতিপয় দালাল, ভাল মানুষের ছদ্মবেশে থাকা কিছু দলীয়-দলছুট দুষ্টলোক মিলেই শক্তিশালী ইয়াবা চক্র।

কার এতবড় স্পর্দা এই চক্রের বিরুদ্ধে মূখখোলে??!!যেন বাংলাদেশের বুকে কলম্বিয়ান মাফিয়াদের মহড়াভূমি টেকনাফ!স্থানীয় যারা দীর্ঘদিন মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করছেন কেবল তাদেরই পরিস্থিতি বুঝা সহজ।

প্রদীপের মাদকদমনের নামে দানবীয় স্বেচ্চাচারীতার ২২মাসে এইচক্রের রমরমা অবস্থা ছিল। চুনোপুঁটি ও বাহক টাইপের মাদক কারবারীরা প্রদীপের ক্রসফায়ারের শিকার হলেও জিরো থেকে হিরো,হিরো থেকে সুপার হিরো হয়েছে মাদক চক্রের মূল নিয়ন্ত্রকরা। প্রদীপ আইনের আওতায় আসায় তাদের মনে হতাশা,ভয়,দুঃখ বিরাজমান।কারণ চক্রের কেউকেউ বেকায়দায় পরে দালালীর মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ফেরতের খবর ও লোকমূখে।

টেকনাফে মাদক আগ্রাসনের শুরু থেকে নির্মোহ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বতর্মান আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আলহাজ্ব নুরুল বশরসহ হাতেগুণা কজন লোক।অসীম সাহসী এই নেতা ও নিরাপত্তাহীনতায় কখনো টেকনাফ কখনো কক্সবাজার।তিনি সর্বশেষ আলোচনায় আসেন প্রদীপের রামরাজত্বের সময়ে,যখন প্রদীপের রক্তগঙ্গায় স্নানের সময় সাধারণ টেকনাফবাসী ছিল ট্রমাটাইজড্।সেই কালদিনগুলোতে তিনি একি সাথে মাদকের বিরুদ্ধে আবার প্রদীপের ভয়ানক নির্যাতনের বিরুদ্ধে ও একমাত্র সরব ব্যক্তি।তাই এই সময়ে উপজেলাব্যাপী সর্বত্র তাঁকে নিয়ে আলোচনা ও নেতৃত্বের প্রশংসা।

গতকাল একি সাথে বেশকিছু ফেক আইডি থেকে নুরুল বশর ও মাদকের বিরুদ্ধে হাতেগুণা অল্পসংখ্যক লোক আছেন তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সম্মানহানী শুরু হয়েছে।এটা হিংসাত্মক বালকের বালকিল্য ভাবাটা বোকামি হবে।এটা ভয়ানক ইয়াবা চক্রের রাস্তা পরিস্কারের অপকৌশল।

২০১০ সালের দিকে আমিও বিবেকের দায়ে মাদকবিরুধী যুদ্ধে জড়িয়ে পরি। ১/ইয়াবা আগ্রাসনের ভীকটিম মাদকাসক্ত যুবকদের রিহ্যাবের মাধ্যমে সুস্থ করা২/উপজেলা ও থানার সম্মুখের জনবহুল স্থানে মাদকবিরুধী স্লোগানের বিলবোর্ড স্থাপন ৩/দৈনিক পত্রিকায় মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক তিনটি কলাম লেখা ৪/সামাজিক মাধ্যমে ক্রমাগত মাদকবিরুধী লেখালেখি ৫/ইয়াবা সম্পৃক্তদের ঘৃণার মাধ্যমে দূরত্ব বজায় রাখা ৬/সামাজিক স্থানে মাদকের কুফল বলা ৭/নৈতিকভাবে মাদকবিরুধী রাজনৈতিক নেতা নুরুল বশরকে সমর্থন ও নিঃশর্ত সহযোগিতা করি।এইসব কাজ করতে গিয়ে আমিও ইয়াবা চক্রের হুমকি,হয়রানী ও নিরাপত্তাহীনতায় থাকি।অথচ ব্যক্তি হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে এত চেষ্টার পরও আমাদের সংখ্যা বাড়েনা কারণ রাষ্ট্রের কোন সুরক্ষা আমাদের জন্য নেই।স্বীকৃতি ও নেই।তবে সৎ মানুষের দোয়া পাই,বিবেকের প্রশান্তি অনুভব করি।

প্রশাসন স্থানীয় জনগণের জাগরণ ছাড়া ইয়াবা দমনে ব্যর্থ হবে, সহজ অনুমেয়।এই অবৈতনিক দুঃসাহসিক কাজটি করে যাচ্ছেন নুরুল বশররা।সরকার ইয়াবা দমনে আন্তরিক হলে এই নুরুল বশরদের সুরক্ষা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।নতুবা জাগরণের বিপ্লবী কাজটি কে চালাবে?

তাই নতুন ষড়যন্ত্রের শুরুতে ইয়াবাচক্রের ফেক আইডি সমূহ প্রযুক্তি সহায়তায় সনাক্ত করে তাদের ডিজিটাল আইনের আওতায় আনা একান্ত জরুরি।

একদিন নুরুল বশরদের চেষ্টা সফল হবে।বিবেকবান মানুষেরা তাঁদের আহবানে সাড়া দেবেন।ইয়াবাচক্র ভেঙ্গে চৌচির হবে।এই সীমান্ত মাদকের কালিমামুক্ত হবে।

লেখক : মনজুরুল করিম সোহাগ,সমাজকর্মী,কলামিস্ট-টেকনাফ।