রাজনীতি সমাজ নীতি আর সমবায় নীতিতে চেয়ারম্যান আবদুল হান্নানের মতো হিতেষী মানুষের প্রয়োজন : মুজিবুর রহমান

Chakaria-Picture-17-09-2020.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়ন বদরখালী জনপদের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে শ্রেষ্ঠ সমবায়ী পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথিতযশা রাজনীতিবীদ আলহাজ আব্দুল হানান চেয়ারম্যানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নানা আয়োজনের মাধ্যমে অনু্ষ্িঠত হয়েছে।
বরণ্যে ব্যক্তিত্ব আবদুল হান্নানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবার এবং আবদুল হান্নান চেয়ারম্যান স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সকালে মরহুমের বাসভবনে খতমে কোরআন, বিকাল ৩ টায় বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি মিলনায়তনে স্মরণসভা ও বাদে মাগরিব ইছালে সওয়াব উপলক্ষে মিলাদুনবী (সঃ) মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা মাস্টার আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্বরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান।
প্রবীণ সাংবাদিক এসএম আকতার কামালের সঞ্চালনায় স্বরণসভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন শাহাজাদা হারুনুর রশিদ। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ও চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদী, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সসভাপতি মকছুদুল হক ছুট্টু, মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাহারবিল ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন বাবুল, স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সভাপতি রশিদ আহমদ এমএ।
স্বরণসভায় পরিবারের পক্ষথেকে বক্তব্য দেন মরহুমের বড়ছেলে আওয়ামীলীগ নেতা নুরে হাবিব তছলিম, ছোট ছেলে বদরখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরে হোছাইন আরিফ। মরহুম আবদুল হান্নান চেয়ারম্যানের কর্মময় ও ব্যক্তিগত জীবনী সম্পর্কে আলোচনা করেন বদরখালী সমবায় কৃষিও উপনিবেশ সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব নুরুল আলম সিকদার, সম্পাদক নুরুল আমিন জনি, সহ-সভাপতি আলী মোহাম্মদ কাজল, বদরখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক একে ভুট্টো সিকদার, মাতামুহুরি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক এড. রবিউল এহেছান লিটন প্রমুখ।
দিনব্যাপী স্বরণসভার নানা কর্মসুচিতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগের জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং বদরখালী সমিতির সাবেক ও বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দ, সমিতির সভ্য পোষ্যরা, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। স্মরণশেষে রাতে মরহুমের বাসভবনে মিলাদ মাহফিল ও তবারক বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মরহুমের বড় ছেলে আওয়ামীলীগ নেতা নুরে হাবিব তছলিম।
স্বরণসভায় প্রধান অতিথি কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, মরহুম আবদুল হান্নান চেয়ারম্যান ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, তিনি ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশের একজন পরীক্ষিত সৈনিক। আমৃত্যু তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অবিচল থেকে এই জনপদে আওয়ামীলীগের সু:খ দু:খের সারথী ছিলেন।
তিনি বলেন, রাজনীতির বাইরে হান্নান মিয়া ছিলেন বঞ্চিত জনপদের আলোকিত বাতিঘর: মানুষের বিপদের বন্ধু। পরিষদের চেয়ারম্যান ও সমিতির সভাপতি সম্পাদক ছিলেন তিনি। সেইসময় উপকুলের অবহেলিত এই জনপদকে আলোকিত করতে কাজ করেছেন। এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসারে যেমন অবদান রেখেছেন হান্নান মিয়া, তেমনি জনগনের কল্যাণ সাধনেও ছিলেন অবিচল।
স্বরণসভায় স্মৃতিচারণ করে উপস্থিত বক্তারা বলেছেন, এইযুগের রাজনীতি, সমাজনীতি, সমবায় নীতিতে আবদুল হান্নান মিয়ার মতো সমাজ হিতেষী মানুষের বড়ই অভাব। তাই স্বরণসভার মাধ্যমে ক্ষণজন্মা এই গুনীজনকে শুধু স্বরণ করলে তাঁর আত্মত্যাগ অবদান শেষ হবেনা। নতুন প্রজন্ম যাতে ভবিষ্যতে গুনী মানুষগুলোর অবদানের কথা জানতে পারেন সেইজন্য দৃশ্যমান কিছু করতে হবে। ##