বিএমচরের উত্তর বহদ্দারকাটা বিলে রাতের তান্ডবে কৃষকের সব শেষ

Chakaria-Picture-11-09-2020-.jpg

এম.জিয়াবুল হক : চকরিয়া উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নে রাতের আঁধারে তান্ডব চালিয়ে কৃষকের আমন ধান ক্ষেত গুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় দুইলাখ টাকার মতো ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক মানিক সিকদার। শুক্রবার ভোররাতে ইউনিয়নের উত্তর বহদ্দারকাটা এলাকার একটি বিলে ঘটেছে এ ঘটনা। এদিকে ধানক্ষেত গুড়িয়ে দেয়ায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবগত করে ভুক্তভোগী কৃষক বাদী হয়ে গতকাল চকরিয়া থানায় নয়জনকে অভিযুক্ত করে এবং আরো ৭-৮জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে একটি এজাহার দিয়েছেন। কৃষক মানিক সিকদার বিএমচর ইউনিয়নের উত্তর বহদ্দারকাটা এলাকার মৃত কালু সিকদারের ছেলে।
থানার এজাহারে বিবাদি করা হয়েছে বিএমচর ইউনিয়নের উত্তর বহদ্দার কাটা এলাকার মৃত জালাল আহমদের ছেলে আবু বক্কর, খলিলুর রহমানের ছেলে ফোরকান, মৃত আলী আহমদের ছেলে মনুর আলম, জালাল উদ্দীনের ছেলে ইব্রাহিম ও মো.ইসমাঈলকে।
ভুক্তভোগী কৃষক মানিক সিকদার জানান, উপজেলার ভেওলা মানিকচর মৌজার বিএস ৫৭৬ নম্বর খতিয়ানের বিএস ১৩৫০ ও ১৩৫১ দাগের এবং তার নামে সৃজিত-২৬০২নম্বর খতিয়ানের একই দাগের ৫০শতক জমি রয়েছে। উল্লেখিত পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে ভোগদখলীয় জমিতে দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আমি পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। সর্বশেষ শুক্রবার ভোররাতে কতিপয় দখলবাজ চক্রে তাÐব চালিয়ে জমিতে রোপিত সম্পূর্ণ ধান ক্ষেত গুড়িয়ে দিয়েছে।
কৃষক মানিক সিকদার অভিযোগ করে বলেন, আমার পরিবারের কিছু অংশের জমি নিয়ে প্রতিবেশি একই এলাকার মৃত জালাল আহমদের ছেলে আবু বক্কর গংয়ের মধ্যে বিরোধ চলছে আসছে। মুলত ওই বিরোধের জেরে ধানক্ষেতে তান্ডব চালিয়েছে আবু বক্কর ও তার ভাড়াটে লোকজন। এ ঘটনায় আমার দুই লাখ টাকার বেশি ক্ষতিসাধন হয়েছে।
ভুক্তভোগী মানিক সিকদার বলেন, ধান গুড়িয়ে দেয়ার ঘটনাটি তাৎক্ষনিক ইউপি বিএমচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম জাহাংগীর আলমকে জানিয়েছি। এ ঘটনায় গতকাল ৯জনকে আসামি করে চকরিয়া থানায় একটি এজাহার করেছি। থানার ওসি আমার এজাহারটি তদন্তের জন্য মাতামুহুরী পুলিশ ফাঁড়ির এস আই সিরাজুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া দিয়েছেন।
এদিকে ঘটনার ব্যাপারে বক্তব্য জানতে গতকাল ঘটনাস্থলে গিয়েও অভিযুক্ত আবু বক্করকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মোবাইলে ফোন করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মাতামুহুরী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সিরাজুল ইসলাম বলেন, ধান ক্ষেত গুড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে থানার একটি অভিযোগ আমাকে তদন্তের জন্য দেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং সমাজপতিদের নিয়ে নিষ্পত্তি করতে চেষ্টা করছি। এরপরও সমাধান না হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ##