জাতীয় সম্মাননা প্রাপ্ত টেকনাফ সিপিপির ইউনিয়ন টিম লিডারের চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্বভার নিলেন ডিজি

T-scaled.jpg

হুমায়ূন রশিদ : জাতীয় সম্মাননা প্রাপ্ত টেকনাফের সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক ও ইউনিয়ন টিম লিডার কিডনি জনিতরোগে আক্রান্ত আব্দুল্লাহ আল মামুনের যাবতীয় চিকিৎসার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন সিপিপির ডিজি (প্রশাসন) আহমাদুল হক মুকুল। এই মহতি উদ্যোগের ফলে সারাদেশের স্বেচ্ছাসেবকগণ মানবিক কাজে আরো উৎসাহিত হবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

জানা যায়, সম্প্রতি টেকনাফ উপজেলার ৫নং বাহারছড়া ইউনিয়ন সিপিপির গর্বিত টিম লিডার, নোয়াখালী পাড়ার মরহুম হাজী হাসান আলী এবং গুলবাহার বেগম দম্পতির ৩ছেলে এবং ৩ মেয়ের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪২) ২য় সন্তান। তিনি গত ১৪ আগষ্ট অসুস্থতা অনুভব করলে কক্সবাজার ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তাঁর ২টি কিডনী ডেমেজ সংক্রান্ত অসুখ ধরা পড়ে। তাঁকে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখান হতে ঢাকা ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখান হতে গতকাল ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে তিনি অধ্যাপক ডাঃ আছিয়া খানমের তত্তাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আপাতত কিডনী ডায়ালোসিসের মাধ্যমে তাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, স্বেচ্ছাসেবক, সমাজসেবী ও রাজনৈতিক কর্মী হলেও এত ব্যয়বহুল চিকিৎসা করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ইউনিয়ন এই টিম লিডারের চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসলেও সংকুলান হচ্ছেনা।

এমতাবস্থায় বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) পরিচালক (প্রশাসন) ও উপসচিব আহামুদুল হক মুকুল (উপসচিব) নিজেই স্বেচ্ছাসেবক আব্দুল্লাহ আল মামুনের চিকিৎসা সেবা দেখাশুনা করছেন এবং তিনি একাই তাঁর যাবতীয় চিকিৎসার সেবার ব্যবয়ভার বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন। সিপিপি ডিজির এই ঘোষণায় আব্দুল্লাহ আল মামুনের উদ্বিগ্ন পরিবারের পাশাপাশি টেকনাফের সকল স্তরের স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এই বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা সিপিপি টিম লিডার কায়সার উদ্দিন আহমদ জানান, আব্দুল্লাহ আল মামুনের দূরারোগ্যের খবর আমরা উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত। মানব সেবায় এই সাহসী বীরের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তহবিল সংগ্রহ করছি। সিপিপির ডিজি (প্রশাসন) মামুনের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ায় আমরা আনন্দিত এবং মহান আল্লাহর নিকট শুকরিয়া আদায় করছি। আশাকরি সে দ্রæত সুস্থ হয়ে আমাদের মধ্যে ফিরে আসবে।

স্বেচ্ছাসেবক ও বাহারছড়া ইউনিয়ন টিম লিডার আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংসারিক জীবনে ৩ছেলে এবং মেয়ের জনক। বড় মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়, ২য় মেয়ে কলেজ,৩য় মেয়ে হাইস্কুলে, বড় ছেলে কোরানে হাফেজ,মেঝ ছেলে প্রাইমারী ও ছোট ছেলে নুরানী প্লেতে অধ্যয়নরত।

তিনি ১৯৯০ সাল হতে সিপিপিতে স্বেচ্চাসেবক হিসেবে যোগদান করে। তিনি টিম লিডারের পাশাপাশি মাষ্টার ট্রেইনার হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ২০১৭সালে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করেন। উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে ১শ জন করে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগে সার্বিক সহায়তা করেছিলেন। যার ফলে ২০১৯সালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাতে শ্রেষ্ট স্বেচ্ছাসেবক পদক-২০১৯ গ্রহণ করেন।

তিনি রাজনৈতিকভাবে ছাত্র ও যুবলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। তিনি ১৯৯৬ইং হতে ২০১৩ইং পর্যন্ত বাহারছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত¦ পালন করেন। বর্তমানে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।
এছাড়া তিনি এলাকার শিক্ষা উন্নয়নে ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১টি হাইস্কুল প্রতিষ্ঠায় সকলের সাথে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসেন। যা এখন সরকারী এবং এমপিওভূক্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়ে এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। ###