দীর্ঘ ৩৪ বছর প্রতীক্ষার পর বাংলার মাটিতে স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার

Bonghubondu-scaled.jpg

মুক্তিযোদ্ধা সোলতান আহমদ : ১৯৯৬ সালের ২৩জুন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর ২ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের সদস্যগণকে হত্যার বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়। ১২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়। ১লা মার্চ ১৯৯৭ইং ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ হাজী গোলাম রসুল ৭৬ পৃষ্টার রায় ঘোষণায় ১৫জনকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন। ১৪ নভেম্বর ২০০০সালে হাইকোর্টে মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলী দুই বিচারক বিচারপতি মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং বিচারপতি এবিএম খাইরুল হক দ্বিমতে বিভক্ত রায় ঘোষণা করেন। এরপর ৩য় বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম ১২জনের মৃত্যুদন্ড বহাল রাখার সিদ্বান্ত দেন। এরপর ৫জন আসামী আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করে। ২০০২ ইং হইতে ২০০৬ইং পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় মামলাটি কার্য তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে শুনানীর জন্য বেঞ্চ গঠিত হয়। ২০০৯ সালে ২৯দিন শুনানীর পর ১৯ নভেম্বর প্রধান বিচারপতিসহ ৫জন বিচারপতি রায় ঘোষণায় আপিল খারিজ করে ১২জনের মৃত্যুদন্ড বহান রাখেন। ২০১০ সালের ২রা জানুয়ারী আপিল বিভাগে আসামীদের রিভিউ পিটিশন দাখিল এবং ৩দিন শুনানী শেষে ২৭ জানুয়ারী ৪ বিচারপতি রিভিউ পিটিশনও খারিজ করেন।

এদিনই মধ্যরাতের পর ২৮ জানুয়ারী ৫ ঘাতকের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। ঘাতকদের এক জন বিদেশে পলাতক অবস্থায় মারা যায়। করোনাকালে ভারত হতে পালিয়ে আসা মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আরেকজন আসামীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর এই হত্যাকান্ডের বিচার বাস্তবায়িত হল। এই নৃশংস হত্যাকান্ডের মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত অবশিষ্ট ৬জন আসামী এখনো বিদেশে আ্ত্নগোপনে রয়েছে।

এই জাতীয় শোক দিবসের অঙ্গিকার হোক বিদেশে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর ৬জন খুনীকে কুটনেতিক তৎপরতার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে কলংকমুক্ত করা হোক।

(প্রিয় পাঠক, আমি ১৯৬৬সন থেকে দীর্ঘ ৫৪টি বছর আওয়ামী রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। কথায় এবং কাজে কারো মনে আঘাত দিয়ে থাকলে আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।)

পরিশ্রম আঘাত আর ত্যাগেই যার জীবন

সোলতান আহমদ
০১৮৬৬-৪৬৪১০৬
মুক্তিযোদ্ধা (মুজিব বাহিনী)
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, হ্নীলা ইউনিয়ন শাখা
টেকনাফ, কক্সবাজার। ###