সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

Sheikh-Mujib.jpg

মুক্তিযোদ্ধা সোলতান আহমদ : আমি পৃথিবীর সবচাইতে দরিদ্র, সবচাইতে জনবহুল একটি দেশের একজন রাজনৈতিক নেতার জীবন কাহিনী বলছি। এ জন্যই এদেশের রাজনীতির উত্থান পতনের কথা আমি যথা সম্ভব সংক্ষেপে বলতে বাধ্য হয়েছি। কারণ এই রাজনীতির সাথে জড়িয়ে আছে বঙ্গবন্ধুর জীবন। তিনি উচ্চ পদস্থ কোন সরকারী চাকুরে ছিলেন না, সামরিক বাহিনীর কোন অফিসার ছিলেন না, কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন না, এমনকি শিল্পী, সাহিত্যিক কবিও ছিলেন না। তাঁর ধ্যান জ্ঞান, আরাধনা সবই ছিল রাজনীতি। এই দেশকে, এদেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালোবেসে ছিলেন বলেই তিনি রাজনীতির এই সংঘাত-সংঘর্ষময় জীবন বেঁচে নিয়ে ছিলেন।

তাঁর জেল খাটা রাজনৈতিক জীবনের শ্রেষ্ঠ ফসল ছিল, ছয় দফার স্বায়ত্ব শাসনের দাবী। এই দাবী একদিকে যেমন তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু’ বানিয়েছে, অন্যদিকে তেমনি বাংলাদেশের স্বাধীনতাও এনে দিয়েছে। দীর্ঘকালের শোষণ বঞ্চনার বেদনা থেকেই জন্ম নিয়েছিল এই গণদাবী। কিন্তু স্বাধীনতার পরও সেই শোষণ বঞ্চনার অবসান ঘটেনি। দেশী ও বিদেশী শোষকেরা সেই আগের মতোই বঙ্গবন্ধুর উপর চাপ সৃষ্টি করছিল। এই চাপের মুখে নতি স্বীকার করলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে খুবই লাভবান হতে পারতেন। এটাই যদি করতে পারতেন তাহলে পশ্চিম পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে কি সংগ্রাম করার প্রয়োজন ছিল? অবলীলায় তিনি তার টোপ গিলে প্রধানমন্ত্রীত্বসহ বিবিধ সুবিধা লাভ করতে পারতেন। এইখানেই তিনি তাঁর ব্যক্তি স্বার্থ এমনকি দলীয় স্বার্থের গন্ডিকে ছাড়িয়ে গেছেন। এই জন্যেই তিনি নির্র্দ্বিধায় উচ্চারণ করতে পেরেছেন।

পৃথিবী আজ দু’ভাগে বিভক্ত। একদিকে শোষক, আর অন্যদিকে শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে। এই উচ্চারণ শুধু দেশে নয়; বিদেশ থেকেও তাঁর জন্য খ্যাতি ও পুরস্কার এনে দিয়েছিল। তিনি জুলিও কুরি আর্ন্তজাতিক শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন। সুতরাং তিনি এই দেশের শোষিত নির্যাতিত সাধারণ মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন শোষিতের গণতন্ত্র। এই উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়েই তিনি বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ (বাকশাল) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অথচ বাহিরে তখন তাঁর একদলীয় শাসন সেই বাকশালে যোগদানের জোয়ার বইছে। বঙ্গবন্ধু এই গণজোয়ার দেখে এতটাই আশান্বিত হলেন যে, তাঁর নিরাপত্তার কথাও ভুলে গেলেন। ভুলে যাবারই কথা। কারণ তিনি মানুষের এই বাহ্যিক রূপটিকে বিশ^াস করেছিলেন। এরই সুযোগ গ্রহণ করল নিষ্ঠুর ঘাতকের দল। ১৯৭৫ সনের ১৫ই আগষ্ট স্বপরিবারে নিহত হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই টুঙ্গিপাড়ায় যেখানে তিনি জন্মেছিলেন, শৈশব কাটিয়ে ছিলেন সেখানে তাকে নিয়ে গিয়ে কবর দিল ঘাতকেরা। রীতি রক্ষার জন্য কয়েকজন মুসল্লী ছাড়া তখন তাঁর কবরের পাশে আর কেউ উপস্থিত ছিল না। তাঁর পরিবারের কেউতো থাকার কথা নয়। কারণ বঙ্গবন্ধু দুই জন মেয়ে বিদেশে থাকার জন্য বেঁচে গিয়েছিলেন।

সেই শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা তো তখনও বিদেশে। তাঁর দলের কেউ, তাঁর দেশের কেউ, না, কেউ না। একটা শোক সভা, একটা শোক মিছিল, না, কিছুই হলো না। কি এমন অপরাধ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু? তাঁর অপরাধ যদি এতটাই জঘন্য ছিল তাহলে তাঁকে বঙ্গশত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হলো না কেন? আর তাঁর দোষে কেনই বা তাঁর শিশু পুত্রসহ পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়-স্বজনকে নির্বিচারে হত্যা করা হলো? যদি কেউ বলেন গণতন্ত্র হত্যাকারী, অত্যাচারীর এমনি শাস্তি হওয়া উচিত। তাহলে আমি বলবো যে, গণতন্ত্রতো আরো অনেকে হত্যা করেছে তাদের বেলায়? আর তাঁকে যেভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছে; তা শুধু অমানবিক বর্বরতা নয়; চরম স্বেচ্ছারিতাও। এতে গণতন্ত্রের নয়; স্বৈরাচারেরই বিজয় ঘোষিত হয়েছে। এসব কথা আমি আপনাদের কাছে এই জন্যই বলছি যাতে আপনারা বুঝতে পারেন যে, আমি এমন একজন রাজনৈতিক নেতার জীবন কাহিনী বলছি যাকে তাঁর দেশের মানুষ পরম বন্ধু বলেই গ্রহণ করেছিল। কিন্তু বিনা বিচারে তাঁকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে; চরম শত্রুকেও কেউ এমনভাবে হত্যা করে না। তবে এই কথা ঠিক যে, ঘাতকেরা তাঁকে হত্যা করতে পারেনি; তাঁর নশ্বর দেহটাকে শুধু দুরে সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বাংলার কোটি কোটি সাধারণ মানুষের অন্তরে তিনি চিরদিন ‘বঙ্গবন্ধু’ রূপে বিরাজ করবেন।

প্রিয় পাঠক, আমি ১৯৬৬ সন থেকে দীর্ঘ ৫৪টি বছর আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। কথায় এবং কাজে কারো মনে আঘাত দিয়ে থাকলে আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

পরিশ্রম আঘাত আর ত্যাগেই যার জীবন

সোলতান আহমদ

মুক্তিযোদ্ধা (মুজিব বাহিনী)

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ

হ্নীলা ইউনিয়ন শাখা, টেকনাফ, কক্সবাজার।

মোবাইল : ০১৮৬৬ ৪৬৪১০৬