চকরিয়ায় পৌর বাসটার্মিনালে কোটি টাকার জমি দখলে হামলায় আহত-৫ ; জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি

Chakaria-Picture-28-05-2020.jpg

এম.জিয়াবুল হক : চকরিয়া পৌরসভার বাসটার্মিনাল এলাকায় দিনদুপুরে কোটি টাকা দামের ব্যক্তিগত জমি জবরদখলে নিতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বাঁধা দিতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হামলা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছে। বুধবার ২৭ মে বিকেল পাঁচটার দিকে ঘটেছে এ হামলার ঘটনা। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক চকরিয়া পৌরশহরে টইলরত সেনা বাহিনী ও পুলিশের দুটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। তবে ওইসময় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
এদিকে জমি জবরদখলে হামলা ও জমি মালিকপক্ষের লোকজনকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি করেছেন আক্রান্ত জমি মালিকপক্ষের লোকজন এবং বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসি। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল রাত সাতটার দিকে স্থানীয় মহল্লা মাঠে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ এবং দাবি তুলেছেন জমি মালিকপক্ষের লোকজন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন জমি মালিক পক্ষের অংশিদার চকরিয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আহমদ রেজা। এসময় অংশিদারপক্ষের ওয়ারিশ জাকের আহমদ গং, নুরুল আলম জিকু গং, আবুল হোসেন মেম্বার গং, আহমদ রেজা গং, আলী হোসেন গং, নুরুল আলম গং ও আবুল কাশেম গংয়ের লোকজন ছাড়াও এলাকাবাসি উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জমি মালিক পক্ষের অংশিদার চকরিয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আহমদ রেজা বলেন, চকরিয়া পৌরসভার কোচপাড়া মৌজার আরএস ১৪৮ নং এবং এমআরআর ১৫৫ নং খতিয়ানের আরএস ৩১১ দাগের (বিএস ৭৪ নং খতিয়ানের) প্রায় ৫০ শতক জমির মালিক স্থানীয় মাস্টারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাজী মাজন আলীর ছেলে আবদুর রহমান এবং নজর আলী। পরবর্তী সময়ে তারা মরণে ওয়ারিশসুত্রে উল্লেখিত জমির মালিক হন স্থানীয় জাকের আহমদ গং, নুরুল আলম জিকু গং, আবুল হোসেন মেম্বার গং, আহমদ রেজা গং, আলী হোসেন গং, নুরুল আলম গং ও আবুল কাশেম গংয়ের লোকজন। উল্লেখিত জমির অবস্থান চকরিয়া পৌর বাসটার্মিনাল এলাকায়।
তিনি বলেন, বৈধ দলিলপত্র মুলে অংশিদার পরিবার গুলো যুগের পর যুগ ধরে পৈত্রিক উল্লেখিত জমি বৈধভাবে ভোগদখলে থেকে শান্তিপুর্ন অবস্থায় বসবাস করে আসছেন। উল্লেখিত জমি নিয়ে অংশিদার পক্ষের লোকজনের মধ্যে কোন ধরণের বিরোধ নেই। সবাই একে অপরের পরিপুরক হিসেবে পৈত্রিক সম্পত্তি শান্তিপুর্ন পরিবেশে ভোগদখলে আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জমির অংশিদার পক্ষের লোকজন অভিযোগ তুলেছেন, যুগের পর যুগ ধরে তাঁরা পৈত্রিক এসব সম্পত্তি বৈধভাবে ভোগদখলে থাকলেও সর্বশেষ বুধবার (২৭ মে) বিকালে হঠাৎ করে তাদের জমি দখলে নিতে ভাড়াটে দুর্বৃত্তদের নিয়ে হামলা চালায় চকরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা তারেকুল ইসলাম রাহিত। যদিও জমিতে বৈধ কোন ধরণের মালিকানা নেই ওই ছাত্রলীগ নেতার। তারপরও জমিমালিক পক্ষের দাবী-জমির মালিকানা নিয়ে অভিযুক্তদের কোন কাগজপত্র থাকলে তা দেখানোর জন্য আমরা ওপেন চ্যালেঞ্জ করছি। পাশাপাশি হামলার ঘটনায় জড়িত তারেকসহ সহযোগিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি প্রশাসনের কাছে।
ওইসময় ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঁধা দিতে চাইলে হামলাকারীদের মারধর ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন জমি মালিকপক্ষের মেহেদী হাসান (১৬), ইমরানুল ইসলাম ইমন (১৬), জাহেদুল ইসলাম (২৫), মিনহাজ উদ্দিন (১৮) ও মোহাম্মদ ইমন (২৪)। এছাড়াও হামলায় জমি মালিকপক্ষের আরো ৮-১০ জন কমবেশি আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত পাঁচজনকে চকরিয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জমি মালিকপক্ষের অংশিদাররা দাবি করেছেন, জমি দখলে হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা তারেকুল ইসলাম রাহিত ছাড়াও অংশনেন তানভীর, জাকের, মুরাদ, এহেছান, মিনহাজ উদ্দিন, মাহাবুব, জসিম উদ্দিন সিকদার, জয়নাল আবেদিন, রিয়াদ, তানজীম, আবদুল মোমেন, কফিল উদ্দিন, বাবুলসহ ১৫-২০ জনের একটি দল।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অংশিদারপক্ষের ওয়ারিশ চকরিয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আহমদ রেজা, জাকের আহমদ গং, নুরুল আলম জিকু গং, আবুল হোসেন মেম্বার গং, আলী হোসেন গং, নুরুল আলম গং ও আবুল কাশেম গংয়ের লোকজন জানিয়েছেন, হামলার এ ঘটনায় তাঁরা চকরিয়া থানায় আইনের আশ্রয় নেবেন। এব্যাপারে তাদের পক্ষথেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষার্থে হামলার ঘটনায় জড়িত তারেকসহ সহযোগিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি প্রশাসনের কাছে।#