উহানে বন্যপ্রাণী খাওয়া নিষিদ্ধ

Uhan.png

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসের প্রথম উপকেন্দ্র চীনের উহান শহর। অভিযোগ রয়েছে, উহান শহরেরই একটি সামুদ্রিক বাজার থেকে প্রথম ছড়িয়েছিল করোনাভাইরাস, যা লাখ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বিশ্বব্যাপী।

বন্যপ্রাণী বিক্রির জন্য প্রসিদ্ধ ওই বাজারটি থেকে বাঁদুড় অথবা প্যাঙ্গোলিনের মাধ্যমেই প্রথম করোনাভাইরাস ছড়িয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। এবার সেই উহান শহরে সব ধরনের বন্যপ্রাণী কেনাবেচা, শিকার ও খাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার উহান কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এ তথ্য জানায়।

নিষিদ্ধ প্রাণীর তালিকায় যেকোনো ধরনের বন্যপ্রাণী, সংরক্ষণের তালিকায় থাকা জলজ প্রাণী, বন্দি অবস্থায় প্রজনন করে এমন প্রাণী রয়েছে।

নির্দেশনায় বন্যপ্রাণীর খামারগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। যারা খামারি আছেন, তাদের সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া উপযুক্ত কারণ ব্যতিরেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বন্যপ্রাণী শিকার।

এদিকে উহান শহর কর্তৃপক্ষ এমন সময় এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল, যখন বন্যপ্রাণীর অবৈধ ব্যবসা বন্ধে দেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাপের মুখে পড়েছে চীনা সরকার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চীনের কৃষি মন্ত্রণালয় সম্প্রতি খামারে পালনযোগ্য পশুপাখির একটি তালিকা দিয়েছে। সে তালিকায় কুকুরসহ নির্দিষ্ট কিছু প্রাণীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান নগর কর্তৃপক্ষ মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি শহরের সীমানার মধ্যে কোনো বন্যপ্রাণী শিকারও নিষিদ্ধ করেছে। উহানকে ‘বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম’ ঘোষণা করা হয়েছে। একমাত্র সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে গবেষণা, সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, মহামারি রোগবালাই পর্যবেক্ষণ এবং অন্য বিশেষ পরিস্থিতিতেই শুধু বন্যপ্রাণী শিকার করা যাবে।

তবে যে বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছিল, সেটা অবশ্য প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই গত জানুয়ারিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ৩০ প্রজাতির বন্যপ্রাণী বেচাকেনা হতো। খাওয়ার জন্যও অনেকে এসব প্রাণী কিনে নিতেন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো অনেক আগে থেকেই চীনকে এমন বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে এসেছিল। কিন্তু তারা এসব আহ্বানে কর্ণপাত করেনি এতদিন।

করোনাভাইরাসের মূল উৎস কী, তা এখন পর্যন্ত সুনিশ্চত না হওয়া গেলেও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এটি প্রাণীর শরীর থেকে ছড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।