ঈদ উপহার যখন পাঞ্জাবী!

IMG_20200521_233211.jpg

সাইফুল ইসলাম : মনটা তেমন ভালো নেই। ঈদ হতে তিনদিন বাকী মাত্র। ঈদের কোন কেনাকাটা হয়নি। যদিও মহামারী করোনার কারণে এবারের ঈদ কিছুটা ভিন্ন। আমার বড় মেয়ে পুতুল বলে,বাবা এবার ঈদে পাঞ্জাবী পড়বে না! মেয়ের প্রশ্নের উত্তরে কিছু বললাম না। কারণ আমি পুরাতান পাঞ্জাবী নিয়ে ঈদ করতে ইতিমধ্যে মানসিকভাবে পুরাপুরি প্রস্তুত। আর বাড়িতে আমার অনেক পাঞ্জাবী সংগ্রহে আছে। তবে মেয়ের অনুরোধে বাজারে গেলাম পাঞ্জাবী কিনতে। উল্লেখ্য যে,বিগত দুই মাসে আমি সম্ভবত প্রয়োজনে তিন থেকে চার বার বাড়ি থেকে বের হয়েছি। আজ বাজারে গিয়ে দেখি অবস্থা খুব বেগতিক। দোকানদার ও ক্রেতারা কেউ কোন ধরনের সামাজিক দূরত্ব মানছেন না।

অগত্যা পাঞ্জাবী না কিনে চলে আসার জন্য মন স্হির করলাম। এমন সময় আমার এক খুব প্রিয় ছাত্র ফোন করে আমি কোথায় জিজ্ঞেস করে। আমি বললাম ষ্টেশনে আছি। তিনি আমাকে বলল,স্যার একটু দাঁড়ান। পাঁচ মিনিট পর ছাত্রটি এসে আমার হাতে একটি শপিং ব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে চলে গেল। আমি নিতে চাইনি। কিন্তু ছাত্রটি নাছোড়বান্দা ছিল। অগত্যা গ্রহণ করলাম।

সে চলে যাওয়ার পর ব্যাগটি খুলে ব্যাগের ভেতর একটি পান্জাবী দেখতে পেলাম। এবার ব্যাগটি নিয়ে সোজা বাসায় চলে আসলাম। কিছুক্ষণ পরে ছাত্রটি ফোন করে বলল,স্যার পাঞ্জাবী পছন্দ হয়েছে। আমি বললাম, হ্যাঁ হয়েছে। ছাত্রটি বলল,শুকরিয়া স্যার। আমি তাকে বললাম তুমি এটা কী জন্যে দিলে? সে তখন বলল,স্যার আমি আপনাকে খুব শ্রদ্ধা করি। আপনি আমার অনুপ্রেরণার উৎস। আমার সব সুখ ও দুখে আপনি সবসময় আমার পাশে ছিলেন। মন চাই আপনাকে আরো অনেক কিছু দিতে। দোয়া করবেন স্যার, যেন মানুষ হতে পারি। আমি বললাম দোয়া ও ভালোবাসা থাকবে সবসময়। ছাত্রটি ফোন কেটে দিল। ছাত্রটি যদিও বর্তমানে হাই স্কুলে পড়ে তারপরে সে আমাকে এখনো যথেষ্ট শ্রদ্ধা ও সম্মান করে চলে। পাঞ্জাবী পছন্দ হয়েছে কী হয়নি তা আমার মনের মধ্যে ছিল। কিন্তু তার এই ঈদ উপহার পাঞ্জাবী আমার জন্য এই যাবৎ কালের সবচেয়ে বড় উপহার হয়ে থাকবে।